অযু ভঙ্গের কারণসমূহ – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

আটটি কারণ ওযু ভেঙ্গে দেয়-

১। সাবিলাইন [পায়ুপথ বা মুত্র বের হবার রাস্তা] হতে কোনোকিছু1 বের হওয়া।

২। অথবা শরীরের অন্য কোনো স্থান2 হতে মল কিংবা মুত্র বের হওয়া- অল্প কিংবা বেশি। অথবা অন্যকিছু যেমন বমি কিংবা রক্ত বের হওয়া, যদি সেটা ব্যক্তির কাছে পরিমাণে অধিক মনে হয়।

৩। আকল হারিয়ে ফেলা3। তবে <কোনোকিছুতে ভর না দিয়ে> দাঁড়িয়ে বা বসে থেকে হালকা ঘুম ব্যতীত।

৪। মৃতকে বা মৃতের কোনো অংশ4 ধোওয়ার কাজ করা।

৫। উটের মাংস খাওয়া, এমনকি তা কাঁচা হলেও- এটি তাআব্বুদি হুকুম।5 মাংস ছাড়া অন্য অংশ খাওয়া, এর দুধ পান ও মাংসের ঝোল দ্বারা ওযু ভঙ্গ হবে না।

৬। হাত দ্বারা মানুষের সংযুক্ত6 যৌনাঙ্গ অথবা পায়ুপথ7 স্পর্শ করলে8, এমনকি তা মৃত ব্যক্তির হলেও। তবে অণ্ডকোষ বা বিচ্ছিন্ন যৌনাঙ্গের স্থান স্পর্শ করলে <ওযু> ভাঙবে না9

৭। কোনো প্রতিবন্ধকতা <যেমনঃ গ্লাভস> ছাড়া বিপরীত লিঙ্গের কাউকে কামনার সাথে স্পর্শ করা10। এমনকি [নারী/পুরুষ] দেহের অতিরিক্ত অংশ দিয়ে বা অতিরিক্ত অংশকে স্পর্শ করলেও একই হুকুম।

৮। ইসলাম ত্যাগ11

যেসকল কারণে গোসল ওয়াজিব হয়12, সেসকল কারণে ওযুও ওয়াজিব হয়; শুধুমাত্র মৃত্যু ব্যতীত- যেক্ষেত্রে শুধু গোসলই ওয়াজিব, আর ওযু সুন্নাহ।

ওযু ভাঙ্গে না-

১। কোনো হারাম কথা13 দ্বারা।

২। চুল, নখ ইত্যাদি কাটার কারণে।

পবিত্রতা [ওযু/গোসল] অথবা হাদাসের ব্যাপারে যার সন্দেহ হবে – সেটা সালাতের বাইরে হলেও – সে নিশ্চয়তার উপর নির্ভর করবে।14


ফুটনোট:

1 পায়ুপথ বা মুত্রপথ দ্বারা কিছু বের হলেই ওযু ভেঙ্গে যাবে, হোক সেটা পবিত্র বা অপবিত্র [যেমনঃ মুত্র], অথবা বেশি পরিমাণে বা কম পরিমাণে, অথবা গ্যাস বা বায়ু [সামনের গোপনাঙ্গ দিয়ে হলেও] অথবা খুবই বিরল কিছু যেমন, পাথর, পোকামাকড়, অথবা কোনো রক্ত ছাড়া সন্তান বের হয়ে আসলে [জন্ম হলে] ইত্যাদি।

2 শরীরের পেটের উপরের কোনো অংশ থেকে বের হোক বা নিচের অংশ থেকে হোক, কোনো ক্ষত থেকে বা মেডিক্যাল কারণে হলে, অথবা মুত্রপথ এবং পায়ুপথ ঠিকভাবে কাজ না করলে বা বন্ধ থাকলেও ওযু ভেঙ্গে যাবে। (বুলুগুল কাসিদ এবং শাইখ জন স্টারলিং)

3 সেটা হতে পারে কোমা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, অথবা পাগল হয়ে যাওয়া অথবা এমন গভীর ঘুমের মাধ্যমে যাতে আশেপাশে কি ঘটছে তা বোঝার বা নির্ণয় করার ক্ষমতা থাকে না। (বুলুগুল কাসিদ, শাইখ জন)

কেউ যদি এরকম অবস্থায় সন্দেহ করে যে, ঘুম হালকা না গভীর, তাহলে সে সন্দেহ নিয়ে ভাববে না, নিশ্চিতের উপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে কেউ যদি সালাতে রুকুতে গিয়ে, বা সিজদাহতে গিয়ে, অথবা শুয়ে অথবা কোনোকিছুতে ভর দিয়ে ‘হালকা’ও ঘুমায় যায়, তাহলে ওযু ভেঙ্গে যাবে।

4 সেটা মুসলিম বা অমুসলিম, অল্পবয়স্ক বা বৃদ্ধ হলে, অথবা নারী বা পুরুষ হলে। এটি মাজহাবের মুফরাদাত/একক মত। যারা সরাসরি মৃতকে ধোওয়ার কাজ করবে, তাদের ক্ষেত্রে এই মাস’আলা খাটবে, আর যারা কেবল পানি বা অন্যান্য জিনিসপত্র এগিয়ে দেবার কাজ করবে, তাদের ক্ষেত্রে খাটবে না।

5 অর্থাৎ এর ইল্লাত বা কারণ জানা নেই। ফলে এই মাস’আলার উপর কিয়াস হবে না। হাদিসে এসেছে তাই আমরা অনুসরণ করি। এজন্যে উটের লিভার, হৃৎপিণ্ড, কিংবা স্টক খেলে ওযু ভাঙবে না।

6 যদি মানুষ হতে আলাদা করে/কেটে ফেলা হয়, তাহলে এই মাস’আলা খাটবে না।

7 হোক সেগুলো (যৌনাঙ্গ/পায়ুপথ) নিজের বা অন্যের, নারী বা পুরুষের।

8 কারও যদি হাতে অতিরিক্ত আঙ্গুল থাকে, সেটা দিয়ে স্পর্শের ক্ষেত্রেও একই মাসআলা খাটবে। তবে নখ দ্বারা স্পর্শ করলে ওযু ভাঙবে না। হাতের তালু কিংবা তালুর অপর পৃষ্ঠ বা পার্শ্ব অংশ- যেটি দিয়েই স্পর্শ হোক, ওযু ভাঙবে। (বুলুগুল কাসিদ) কোনো কাপড় বা টিস্যু দ্বারা যদি স্পর্শ করে এবং হাতের সাথে সরাসরি স্পর্শ না হয়, ওযু ভাঙবে না।

9 যদি কোনোভাবে গোপনাঙ্গ অপসারিত হয় বা না থাকে, তাহলে অঙ্গটি যেখানে ছিল, সেই জায়গা স্পর্শে ওযু ভাঙবে না।

10 বিপরীত লিঙ্গের মৃতকে স্পর্শ করলেও একই হুকুম। মাহরাম, বা বৃদ্ধ/বৃদ্ধা বা অল্পবয়স্ক (সাত বছর বা এর চেয়ে বড়) কাউকে উদ্দীপনার সাথে স্পর্শ করলেও ওযু ভাঙবে। সাত বছরের নিচের ছেলে বা মেয়েকে স্পর্শ করলে ওযু ভাঙবে না। নারী আরেকজন নারীকে উদ্দীপনার সাথে স্পর্শ করলেও ওযু ভাঙবে না। চুল, দাঁত বা নখকে স্পর্শ করলে বা এগুলো দ্বারা অন্যকে স্পর্শ করলে ওযু ভাঙবে না। যে স্পর্শ করবে [একটিভলি], তার ওযু ভাঙবে। যাকে স্পর্শ করা হবে, সে উদ্দীপনা অনুভব করলেও তাঁর ওযু ভাঙবে না। [বুলুগুল কাসিদ]

11 কেননা ওযুর মাস’আলা খাটবে মুসলিমের ক্ষেত্রে। তাই কেউ ধর্মত্যাগ করলে তার ওযুও তখনই ভেঙ্গে যাবে।

12 পরবর্তী চ্যাপ্টারে আলোচনা আছে।

13 খারাপ কথা, গীবত ইত্যাদি।

14 এর মানে হচ্ছে, উদাহরণস্বরূপ, কেউ অপবিত্র হয়েছিল সেই ব্যাপারে নিশ্চিত; তবে এরপর ওযু করেছে কিনা- সেই ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। এক্ষেত্রে সে অপবিত্র হওয়াটাকেই ধরে নিয়ে আবার ওযু করবে। অন্যভাবে, কেউ যদি ওযু করা তথা পবিত্র হবার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, তবে এরপর ওযু ভেঙ্গেছে কিনা সে-ব্যাপারে নিশ্চিত নয়, সে তাহলে ওযু আছে বলেই ধরে নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *