আছারি আকিদার কিতাব- ইবনে বাদরান

হাম্বলী/আছারী আকীদার কিতাবসমূহের ব্যাপারে গত শতকের হাম্বালীদের ইমাম ইবন বাদরান রাহিমাহুল্লাহ “আল মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল” কিতাবে বলেন:
(পৃষ্ঠা ৪৯৭)

যেহেতু আমাদের কথা এই পর্যন্ত গড়িয়েছে, সুতরাং আমাদের জন্য এও বলে দেয়া বাধ্যমতামূলক যে:
প্রখ্যাত উলামা সালাফ যার উপর ছিলেন তা স্পষ্ট করতে সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। আমি তোমাকে এর কয়েকটি কিতাবের নির্দেশনা দিচ্ছি। কেননা যে এই কিতাবগুলোর কোন একটি অধ্যয়ন করবে সে যেন সবগুলোই অধ্যয়ন করেছে। কেননা সবগুলোই একই পথের উপর ঐকমত্যে রয়েছে।


এই বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে: رسائل الإمام أحمد “রাসাইলুল ইমাম আহমাদ”। আর যে তাহকীক ও প্রমাণ সন্ধান করে তার জন্য পদ্ধতিতে সুন্দরতম হচ্ছে শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আহমদ ইবন তায়মিয়্যাহ আল হাররানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কিতাবগুলো। কেননা তিনি সালাফের মাযহাবকে এমনভাবে সাহায্য করেছেন, যার চাইতে বেশী কিছু হতে পারে না। তিনি তার আমলকে আল্লাহর জন্য খালেস করেছিলেন, আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ্যের হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। আর তার শত্রুরা তার ওপর যে কালিমা লেপন করেছে, তা যেন তোমাকে আতঙ্কিত না করে। কারণ হিংসুকদের কথাবার্তা হচ্ছে ফেনার ন্যায় যা উৎক্ষিপ্ত হয়ে মিটে যায়। অতঃপর তার সঙ্গী শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন কাইয়্যিমিল জাওযিয়্যাহর রচনাবলী। কেননা তিনি তার শায়খের পথেই চলেছেন, তার রেখে যাওয়া চিহ্নগুলো সংগ্রহ করেছেন। তার গ্রন্থগুলোর বাস্তবতা হচ্ছে তার উস্তাযের বক্তব্যকে বিস্তারিত করা যেমন الصواعق المحرقة “আস সওয়া’ইকুল মুহরিকাহ”, الجيوش الإسلامية “আল জুয়ুশুল ইসলামিয়্যাহ”, الكافية الشافية “আল কাফিয়াহ আশ শাফিয়্যাহ” – যা النونية “আন নুনিয়্যাহ” নামে অভিহিত।
(পৃষ্ঠা ৪৯৮)

সালাফের মাযহাব বয়ান করা যেসব কিতাবের আলোচ্য বিষয়, সেগুলো সংখ্যায় প্রচুর যেমনটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু আমরা ছাত্রদেরকে এখানে এমন কয়েকটির নির্দেশনা দিব যা তৃপ্ত করে দিবে। এর মধ্যে রয়েছে:


● আল আকীদাহ আল হামাউইয়্যাহ العقيدة الحموية, শারহুল আকীদাহ আল ইসফাহানিয়্যাহ شرح العقيدة الإصفهانية – শায়খুল ইসলাম ইবন তায়মিয়্যাহ রচিত। এছাড়াও তার অন্যান্য লেখনী ও রচনাবলী।
● “লুম’আতুল ই’তিক্বাদ আল হাদী ইলা সাবীলির রাশাদ” لمعة الاعتقاد الهادي إلى سبيل الرشاد – ইমাম মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ রচিত। এটি একটি সূক্ষ্ম সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা।
● “মুখতাসার নিহায়াতিল মুবতাদিইন” مختصر نهاية المبتدئين – শায়খ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ আল বালবানী।
● “আল আইন ওয়াল আছার” العين والأثر – শায়খ আব্দুল বাকী।
● ইমাম হাফেযুল ওয়াক্ত আব্দুল গনী বিন সুরুর বিন আব্দিল ওয়াহিদ ইবন আলী বিন সুরুর আল জাম্মাইলী রচিত আকীদা।
(পৃষ্ঠা ৪৯৯)
● “নাজাতুল খালাফ ফী ই’তিক্বাদিস সালাফ” نجاة الخلف في اعتقاد السلف – উসমান বিন আহমদ আন নজদী রচিত।
● “আদ দুররাতুল মুদ্বিয়্যাহ ফী আকীদাতি আহলিল ফিরকাতিল মারদ্বিয়্যাহ” اادرة المضية في عقيدة أهل الفرقة المرضية এটি দুইশ দশটির কিছু বেশি কবিতার পংক্তি। যা রচনা করেছেন শায়খ আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আস সাফফারিনী। অতঃপর তিনি একটি খণ্ডে এর ব্যাখ্যা করেছেন যার নাম দিয়েছেন “লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ ওয়া সাওয়াতিউ আসরারিল আছারিয়্যাহ লি শারহিদ দুররাতিল মুদ্বিয়্যাহ” لوامع الإنوار البهية وسواطع الأنوار الأثرية । এটি উপকারী একটি ব্যাখ্যা। কিন্তু তিনি এতে আছারী ও পরবর্তীদের মধ্যবর্তী পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, এতে তিনি তাহকীকের পদ্ধতি গ্রহণ করেন নি। এছাড়াও মূল কবিতা ও ব্যাখ্যার শেষে তিনি এমন কিছু কথা যোগ করেছেন যার আলোচনায় সালাফ সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং এগুলো কোন আকীদার বিষয় বানান নি। যেমন তিনি মাহদী ও অনুরূপ বিষয়ের আলোচনা করেছেন যার আলোচনা যুদ্ধ-মালহামা ও ফিতনার কিতাবে হওয়া উচিত, আকীদার কিতাবে নয়। আমাদের মাশায়েখের শায়খ আল হাসান আশ শিত্তি আল হাম্বলী একে সংক্ষিপ্ত করেছেন। তবে তিনি আস সাফফারিনির কথা হুবুহু উল্লেখ করেছেন এবং ভিন্নমত ও বক্তব্যগুলো উহ্য করেছেন। এই মুখতাসারকে তার দিকে সম্পৃক্ত না করে আস সাফফারিনীর সাথে করা উচিত। যাই হোক, এটি উপকারী ব্যাখ্যা যা মুদ্রিত ও বিখ্যাত হয়েছে।
● “আল মু’তামাদ” المعتمد এবং এর মুখতাসার – উভয়টিই কাযী আবু ইয়া’লা রচনা করেছেন।
● “আল ইবানাহ আন শারিয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ ওয়া মুজানাবাতু ফিরাকিল মাযমুমাহ” الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية ومجانبة الفرق المذمومة – ইমাম উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হামদান বিন বাত্তাহ আল ‘আকবারী রচিত। ইমাম ইবন হামিদের শায়খদের একজন। তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে “আল ইবানাহ” الإبانة الكبير والصغير ছোট ও বড়, এছাড়াও বহু লেখনী রয়েছে। বলা হয়, তার গ্রন্থাবলী ২০০ এর বেশী। তিনি ৩৮৭ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন।
● “কিতাবুত তাওহীদ” كتاب التوحيد , “মা’রিফাতু আসমা ওয়া সিফাতিল্লাহ মিনাল ইত্তিফাক ওয়া তাফাররুদ” معرفة الأسماء صفات الله من الاتفاق والتفرد – রচনা করেছেন ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া বিন মান্দাহ আল ইসবাহানী। তিনি আমাদের সঙ্গীদের একজন অর্থাৎ হাম্বলী।
(পৃষ্ঠা ৫০১)
● “আত তামবীহ ওয়ার রদ্দু ‘আলা আহলিল আহওয়া ওয়াল বিদা’ التنبيه والرد على أهل الأهواء والبدع – রচনা করেছেন বড় মুহাদ্দিস আহমদ বিন মুহাম্মদ আল মালতী। তিনি আত ত্বারাইফী নামে প্রসিদ্ধ। এটি সূক্ষ্ম একটি কিতাব। তিনি এতে বিদ’আতী ফেরকাগুলোর আলোচনা করেছেন এবং আহলুল হাদীসের মাযহাবকে জয়যুক্ত করেছেন।

[অনুবাদ- শেখ সাদি]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *