আহকাম আত-তাকলিফিয়া

[রিসালাতুন ফি উসুলিল ফিকহ ‘ইনদাল হানাবিলা এবং শাইখ ইউসুফ বিন সাদিক আল হাম্বলির দরস অনুসারে]

হাম্বলি মাযহাব অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে পাঁচটি-

১। ওয়াজিব/ফরযঃ

ওয়াজিব বা ফরয হচ্ছে সত্যিকারের [হাকিকাত] আদেশ, কোন রুপক আদেশ নয়। এটি আদায় করলে সওয়াব পাবে, বর্জন করলে গুনাহ হবে।

  • ওয়াজিব এবং ফরয হাম্বলি মাযহাবে সাধারণত একই বিষয়, মাযহাব এবং জুমহুরের মত অনুযায়ী। তবে ফিকহে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য আছে এবং সেটা কনটেক্সটের উপর নির্ভর করে। যেমন, ওযুতে ওয়াজিব কাজ ভুলবশত বা না জেনে বাদ দিলে ওযু আদায় হয়ে যাবে, তবে ফরযের ক্ষেত্রে এমনটি নয়।

ফরয দুই ধরণের-১। ফরযে আইনঃ সকলের জন্যে ফরয। ২। ফরযে কিফায়াঃ যদি সমাজের কেউ বা “পর্যাপ্ত” কয়েকজন মিলে করে ফেলে, তাহলে বাকিদের পক্ষ হতে ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে। যেমনঃ ইলম অর্জন করা। কেউ যদি কোন ফরযে কিফায়া কাজ শুরু করে ফেলে, তাহলে তার জন্যে সেটা শেষ করা ওয়াজিব বা অন্যকথায়, ফরযে আইন হয়ে যায়। এইজন্যে অনেক আলিম ইল্ম অর্জন শুরু করার পূর্বে ছাত্রদের সাবধান করতেন, কেননা সমাজের বাকি অংশ তার/তাদের উপর নির্ভরশীল, এক্ষেত্রে তার জন্যে শুরু করে ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নয়।

  • সাধারণভাবে কোন আদেশ ফরযিয়াত নির্দেশ করে যদি না তার বিপরীতে এমন কিছু পাওয়া যায় যা দ্বারা বোঝা যাবে যে সেই আদেশ হচ্ছে মূলত “মুস্তাহাব আদেশ”। যেমন, আদব-কায়দা সংক্রান্ত আদেশগুলো হচ্ছে [সাধারণত] মুস্তাহাব আদেশ।
  • কোন কিছু ওয়াজিব/ফরয হলে, সেই ফরযিয়াতের হুকুম সাথে সাথে প্রযোজ্য হয়ে যায়। যেমন কেউ হজ বা উমরা করার জন্যে পর্যাপ্ত টাকা অর্জন করলে তার জন্যে যত দ্রুত সম্ভব হজ বা উমরা আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব। [অথবা কাযা সালাতের ব্যাপারটিও অনুরুপ।]
  • তবে কিছুক্ষেত্রে অন্যান্য প্রমাণাদি ইঙ্গিত করতে পারে যে আংশিক সময়ের জন্যে সেই ফরয কাজে দেরি করা যেতে পারে, যেমন বলা যায়ঃ জুহরের সালাত শুরুর সময়য় থেকে ১ঘণ্টা দেরিতে আদায় করে ইত্যাদি।

“আল ওয়াজিবু লা ইয়াকুনু মাকরুহা”

  • অর্থাৎ কোন ওয়াজিব কাজ একইসাথে মাকরুহ হতে পারে না। যেমন, [যখন] ওযু ওয়াজিব, আমরা বলতে পারব না যে, ” এই ওযু মাকরুহ”। তবে আমরা পানির ক্ষেত্রে বলতে পারি “এই পানি ব্যবহার করা মাকরুহ” কেননা পানি নিজেই কোন ওয়াজিব কিছু নয়।

২। হারামঃ

হারাম হচ্ছে সত্যিকারের [হাকিকাত] নিষেধ। এটা করলে গুনাহগার হবে, না করলে সওয়াব হবে।

  • কেউ যদি কোন হারাম কাজ করে যেটি ইবাদাত বা লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, অথবা সেগুলোর কোন একটি শর্ত, তাহলে সেই ইবাদাত বাতিল হয়ে যাবে। যেমন, জুমুআর দ্বিতীয় আযানের পর কেনাবেচা করা, এই হারাম সরাসরি এই লেনদেনের সাথে জড়িত, ফলে এটি বাতিল। জায়েজ পানি ওযুর শর্ত, ফলে চুরি করা পানি দিয়ে ওযু করলে ওযু বাতিল।

৩। মুস্তাহাবঃ

মুস্তাহাবও সত্যিকারের [হাকিকাত] আদেশ, কোন রুপক আদেশ নয়। এটি আদায় করলে সওয়াব হবে, না করলে গুনাহ নেই।

  • মুস্তাহাব, মাসনুন, মানদুব -সবগুলোই মাযহাব অনুসারে একই। এগুলো সরাসরি কোন নস থেকে কিংবা শরিয়তের সাধারণ বুঝ থেকে সাব্বাস্ত হতে পারে এবং উভয় ক্ষেত্রে উপরোক্ত যেকোনো পরিভাষাই সঠিক।
  • ইস্তিহাব বা কিছু মুস্তাহাব হবার লেভেলে তারতম্য থাকতে পারে, যেমনঃ মিসওয়াক করা [সাধারণভাবে] মুস্তাহাব, ওযুতে করা আরও বেশি মুস্তাহাব, ওযুতে নির্দিষ্ট সময়ে করে আরও বেশি ইত্যাদি।

৪। মাকরুহঃ

মাকরুহও হচ্ছে সত্যিকারের [হাকিকাত] নিষেধ, রুপকভাবে নিষেধ নয়। সঠিক নিয়তে আদায় না করলে সওয়াব হবে করলে গুনাহ নেই।

  • নিয়ত বলতে, উদাহরণস্বরূপ, কোন ব্যক্তি যে জীবনে মদের কথাই শুনে নাই। সে মদ না খাওয়ার সওয়াব পাবে না ইত্যাদি। [বি.দ্রঃ মদ খাওয়া হারাম]
  • কোন মাকরুহ কাজ করার প্রয়োজন দেখা দিলে সেটা মাকরুহ থাকে না। প্রয়োজন বলতে এটি অপরিহার্য হবার থেকে হালকা এবং সহজতর এবং অনেকরকম হতে পারে।
  • কোন কাজের কারাহা বা মাকরুহ হবার লেভেলেও তারতম্য থাকতে পারে, যেমনঃ ওযুতে গরম পানি ব্যবহার মাকরুহ, ওযুতে নাজাসাহ দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি আরও বেশি মাকরুহ ইত্যাদি।

৫। মুবাহঃ

মুবাহ কোন সত্যিকারের আদেশ বা নিষেধ কোনটিই নয়। এটি করলে বা ছাড়লে সওয়াব বা গুনাহ নেই।

  • কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সাধারণ মুবাহর হুকুম বিভিন্নরকম হতে পারে, যেমনঃ কথা বলা জায়েজ, সালাম দিতে কথা বলা মুস্তাহাব, সালামের উত্তর দিতে কথা বলা ওয়াজিব, টয়লেটে কথা বলা মাকরুহ ইত্যাদি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *