ইখতিলাফের আদাব

যেসকল বিষয়সমূহ ইজতিহাদের গণ্ডির মধ্যে রয়েছে, সেগুলোতে অন্যদের ভর্ৎসনা করা উচিত নয়। ইবনুল জাওজি [র] আল-সির আল-মাসুনে বলেছেনঃ
“আমি ইলমি ঘরানার একদল মানুষকে এমন কাজ করতে দেখেছি, যেটা কেবল সাধারণ মানুষকে মানাতে পারে। একজন হাম্বলি কোন শাফেয়ী মসজিদে সালাত পড়লে শাফেয়ীরা তাঁর বিরুদ্ধে লেগে পড়ত, এবং যখন কোন শাফেয়ী এসে হাম্বলি মসজিদে সালাত পড়ত এবং বিসমিল্লাহ জোরে পড়ত, তখন হাম্বলিরা তাঁর বিরুদ্ধে লেগে পড়ত। এসবই হত যখন এগুলো সব ইজতিহাদি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোতে অতি কঠোর হওয়া প্রবৃত্তির নমুনা, যা ইলমের উপস্থিতিতে থাকা উচিত নয়।”


ইবনে আকিল [র] বলেছেনঃ

“আমি এমন মানুষজন দেখেছি যারা দুর্বল অবস্থা ব্যতীত জুলুম করা থেকে থেমে থাকেনি। আমি এখানে সাধারণ মানুষের ব্যাপারে বলছি না, বরং আলিমদের নিয়ে বলছি। ইবনে ইউসুফের আমলে হাম্বলিদের আধিপত্য ছিল, তখন তাঁরা শাফেয়িদের উপর অন্যায্যভাবে এমন পর্যায়ে চড়ে বসত যে তাঁরা তাদেরকে না দিতেন বিসমিল্লাহ জোরে পড়তে, না দিতেন ফজরে কুনুত আদায় করতে, যদিও এগুলো ইজতিহাদি বিষয়!

এরপর যখন নিযাম (আল-মূলক) এর সময় আসলো, (আবু মনসুর) ইবনে ইউসুফ মারা গেল ও হাম্বলিদের আধিপত্য শেষ হয়ে গেল, তখন শাফেয়ীরা অত্যাচারী শাসকদের সহায়তায় হাম্বলিদের উপর চড়ে বসল- তাদের বিরুদ্ধে উদ্দীপনা ছড়িয়ে, বন্দি করার মাধ্যমে, এবং সাধারণ হাম্বলিদেরকে বাজে কথা বলে ও তাদের আলিমগণকে “মুজাসসিমা” অপবাদ দিয়ে ক্ষতি করল।”

তিনি এরপর আরও যোগ করেছেন- “আমি আসলেই উভয় দলের ব্যাপারে চিন্তা করলাম এবং আমার কাছে মনে হয়েছে যে তাদের কারও মধ্যেই ইলমের আদাব ছিল না। শক্তি থাকলে যোদ্ধারা যেমন আক্রমণ করে, কিন্তু (সেই) কাজ না থাকলে মসজিদে ঘন ঘন যেতে থাকে- তার থেকে ঐ মানুষগুলো কি আলাদা?”

ইজতিহাদের মাধ্যমে পৌঁছা উপসংহারগুলো যারা প্রত্যাখ্যান করে, এর কারণ হচ্ছে তাঁরা মুজতাহিদদের অবস্থান সম্পর্কে মূর্খ; কারণ তাঁরা জানেনা সেই মানুষেরা তাদের চোখকে নিদ্রা হতে কত বঞ্চিত করেছে, কতোটা প্রচেষ্টা তাঁরা চালিয়েছে, জীবন হতে কত সময় ও বয়স তাঁরা সত্য সন্ধানে ব্যয় করেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে, এসকল আলিমগণ পুরস্কৃত হবেন, করুক তাঁরা ভুল অথবা সঠিক। আর যারা তাদের অনুসরণ করে তাঁরাও নিরাপদ, কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদ যেসকল [বিভিন্ন] মতে পৌঁছেছিলেন- এই মতগুলো হচ্ছে তাদের জন্যে আল্লাহ্‌র আইন। ঠিক যেভাবে, মৃত পশু খেতে যারা বাধ্য হওয়া ব্যক্তির জন্যে খাওয়া জায়েজ, বাধ্য না হওয়া ব্যক্তির জন্যে নাজায়েজ- একই বিষয়ে ভিন্ন মানুষদের জন্যে এ-দুটি আলাদা হুকুম, তবে প্রতিষ্ঠিত ইজমা অনুসারে ।

তাই, মুজতাহিদের নিকট যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়, সেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাঁর জন্যে এবং তাঁর অনুসারিদের জন্যে আল্লাহ্‌র হুকুম।

[কাশশাফ আল-কিনা, ইমাম বুহুতি]

[১] শাইখ মানসুর আল-বুহুতি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে আল্লাহ্‌র শরিয়ায় একই বিষয়ে দুজন ভিন্ন মানুষের জন্যে ভিন্ন মাস’আলা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এটা সম্ভব যে, একই মাস’আলায় দুটো আলাদা মত থাকতে পারে, এবং সে দুটো মত ভিন্ন মানুষদের জন্যে গ্রহণযোগ্য, ঠিক যেমন মৃত পশু খাওয়ার ব্যাপারে ভিন্ন মানুষদের জন্যে ভিন্ন হুকুম হতে পারে।


মুলঃ The Hanbali Madhhab

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *