ইজতিহাদ কি সহজ?

ইবনে বাদরান যখন তাকলীদ করতে না বলেন বা মাজহাবের কেউ যখন ইমাম আহমদের কওল “হাদিস সহীহ হলে তাই আমার মাজহাব” উল্লেখ করেলন তার নিজস্ব একটি ব্যাখ্যা আছে। ব্যাখ্যা হলো মোখাতেব। মোখাতেব তারা যারা মাজহাবে মুতকিন এবং মাহের। কোন অসমাপ্ত প্রশিক্ষিত, সাধারন জনতা বা শিক্ষারত তালেবে ইলম এই মোখাতেবের আওতাধীন নন। তারা সবাই তাকলীদ করবে মোটাদাগে। এ নিয়ে ইমাম ইবনে তায়মিয়া সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন তার মাজমুতে।

এখন আসি ইজতেহাদ বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে। প্রতিটি মাজহাবেই পাঁচটি বিষয় আলোচনা হয়।

//(১) তাউহিদের আহকাম; এই আহকাম এই এই মাযহাবের মতে এই এই – এক্ষেত্রে এভাবে বলাটা ভুল; কারণ, এই বিধানগুলোর চুড়ান্ততার উপরে পুরো উম্মতের ঐক্যমত রয়েছে।

(২) নিশ্চায়ক ফিকহি আহকাম; এগুলোকেও কোন বিশেষ ইমামের মাযহাবের জন্য বিশেষায়িত করা যাবেনা। সুতরাং কারো জন্য এটা বলা গর্হিত যে, “অমুক অমুকের মাযহাব হচ্ছে: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ওয়াজিব”!

(৩) ইজতিহাদপ্রসূত আহকাম; যা বর্ণনাসুত্র কিংবা ইঙ্গিতমালার (তানবিহাত) হাত ধরে স্বয়ং ইমাম হতে আমাদের কাছে চলে এসেছে ।

(৪) ইজতিহাদপ্রসূত আহকাম; যা প্রতিটি মাযহাবের নিজস্ব উলামা তাদের অন্যান্য আহকাম হতে উৎসরিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিপাদন করেছেন – একে ‘তাখরিজ’ বলা হয়ে থাকে। এই আহকামগুলো ‘মাযহাব ইসতিলাহি’ নামক শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত। যদিও এগুলো সরাসরি ইমাম হতে চলে আসেনি, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে মাযহাবের অফিসিয়াল মতের মর্তবা পাবে।

(৫) ইজতিহাদপ্রসূত আহকাম; যা মাযহাবের আলিমরা ‘তাখরিজ’ পদ্ধতির বাহিরে গিয়ে মৌলিকভাবে আহকাম উৎসরণের দিক থেকে ইজতিহাদ করে সিদ্ধান্তমূলক প্রতিপাদন করেছেন।// [১]

বর্তমান যুগে হাম্বলীদের কেউ পাঁচ নম্বর করে দেখাতে পারেন নি। চার নম্বরের চেষ্টা কেউ করেছেন। কতোটুকু সফল হয়েছেন সেটা নিয়ে মাজহাবের ভবিষ্যত নাবিকেরা আলোচনা করবেন।

উদাহরন স্বরূপ আমরা ইবনে উসাইমীন রহ এর দিকে তাকাই। উনি আর রওদুল মুরবীর শরাহ করেছেন। আমরা জানি রওদের মানতুক ও মাফহুমে প্রায় ৬০০০ এর অধিক মাসায়েল আছে। উনি মাত্র ২০০ মাসায়েলে মাজহাবের মোতামাদের বিরোধিতা করেছেন। এই দুশো মাসায়েলের হাতে গোনা কয়েকটি বাদে বাকি সকল মাসায়েলে শায়খ মাজহাবের কওলে সানী পছন্দ করেছেন। অর্থাৎ মাজহাব হতে বের হননি। শায়খ তার জীবদ্দশায় হাম্বলী মাজহাবের বাইরে বের হননি কিছু সংখ্যক মাসায়েল বাদে। একটি মাত্র মাস’আলায় তিনি চার মাজহাবের বাইরে গিয়েছেন। তা হলো নাজাসাতুদ দম। ব্যাস।

দেখা গেলো, ইজতেহাদ বলতে মৌলিকভাবে যা বোঝায় (পাঁচ নম্বর) সেটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। ইজতেহাদের দরজা বন্ধ হয়নি মাজহাবের মোতামাদ মোতাবেক। কিন্তু কওলে রাজেহের নামে যে দেরাসা পদ্ধতি বাজারে ইজতেহাদ নামে চালু আছে সেটিকে সান্ত্বনা পুরষ্কার হিসেবে তাখরীজ বলা যেতে পারে, ইজতেহাদ নয়।

আমাদের সময়ের অন্যতম হাম্বলী শায়েখ আহমদ আল কোয়াইমী রমজানে রোজা ভঙ্গের আধুনিক কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটা তাখরীজের সুন্দর একটি উদাহরণ হতে পারে। নিচের ছবি দ্রষ্টব্যঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *