ইমাম আহমদের ইলম অন্বেষণের স্পৃহা

ইমাম আহমদ বলেছেনঃ

“মাঝেমধ্যে আমি চেষ্টা করতাম হাদিস শিক্ষার জন্যে যত দ্রুত সম্ভব বের হতে, কিন্তু আমার মা আমার কাপড় ধরে থামাতেন এবং বলতেন, “আযান পর্যন্ত অপেক্ষা করো!”, অথবা “মানুষের ঘুম থেকে উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করো!” [মানাকিব ৪/১৩]

ইবনে মানি বর্ণনা করেছেন,

“আমি আমার দাদার নিকট হতে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কুফা থেকে ফিরে আসার কাহিনী শুনি।

“তিনি একটি ঝুলি বহন করছিলেন, সেটার ভিতরে কাগজপত্র ছিল। আমি তাঁর হাত ধরে বললাম, “আজকে কুফা, কালকে আবার হবে বসরা! আর কতদিন তুমি এভাবে চলতে থাকবে? তুমি ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার হাদিস নকল করেছ, এটুকু যথেষ্ট নয়?”

তিনি কিছুই বললেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “৬০ হাজারে পৌছলে কি হবে?”

তিনি এরপরও নীরব।

“এক লাখ?”

তিনি উত্তর দিলেন, “তাহলে কেউ বলতে পারে সে কিছু জানে।”

আমরা নিরীক্ষা করে দেখলাম আহমাদ শুধু বাহয ইবনে আসাদ এবং আফফান থেকে বর্ণনা করা ৩ লাখ হাদিস লিখেছেন!” [মানাকিব ৪/২০]

সালিহ বর্ণনা করেছেন,

“একবার এক লোক আমার পিতাকে কালির পাত্র বহন করতে দেখে বলল, “তোমার এখনও কেন এটা দরকার? তুমি তো মুসলিমদের ইমাম!”

তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকে কবর দেওয়া পর্যন্ত আমার এটা প্রয়োজন হবে।” [মানাকিব ৪/২৮]

ইবনুল জাওযি বলেছেন,

“ইবনে হাম্বল [র] বহুদুর হাদিসের সন্ধানে সফর করেছেন, এবং হাদিসের সংগ্রহে বিশাল সময় কাটিয়েছেন। তিনি লক্ষ্যে পৌঁছবার আগে জীবিকা সন্ধানে অথবা বিয়ের মাধ্যমে নিজেকে পথচুত করতে দেননি।”

বিয়ের পরও একটা সময়ে ইমাম আহমদের স্ত্রী ঘরে কাজ করে জীবিকার জন্যে সাহায্য করতেন এবং ইমাম আহমদ ইলমে মনোনিবেশের করতেন। সালিহ বলেছেন,

““যখন খরচপাতি বেড়ে গেল, তোমার মা সুতার গোলা বানাতেন এবং দুই দিরহামের বিনিময়ে এক ইস্তার পরিমাণ বিক্রি করতেন। আমরা এর উপর নির্ভর করে দিন পাড়ি দিতাম।” (মানাকিব) [1]

ইমাম আহমদ বলেছেন,

“মানুষের খাবার এবং পানিয়ের চেয়ে ইলমের প্রয়োজন বেশি। কারণ খাবার বা পানীয় দিনে এক বা দুবার প্রয়োজন হয়, আর ইলমের প্রয়োজন শ্বাস-প্রশ্বাসের ন্যায়।” [2]

[1] https://www.facebook.com/drhatemalhaj/posts/247234646772080[2] https://www.amjaonline.org/…/2019/02/2013-9-education.pdf

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *