ইমাম আহমদের পাঁচ উসুল

আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ ই’লামুল মুওয়াক্কি’য়ীনে বলেন:

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের ফাতাওয়া হত পাঁচটি উসুলের ভিত্তিতে:-

প্রথম: নুসুস।

[ নুসুস نصوص হচ্ছে নাস/নস এর نص এর বহুবচন। নস অর্থ কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্য বা টেক্সট। ] যখন নস পাওয়া যেত, তবে এটি যা আবশ্যক করে তিনি তার দ্বারা ফাতওয়া দিতেন। এক্ষেত্রে তিনি ভ্রুক্ষেপ করতেন না যে, এটি কীসের বিরোধী হল কিংবা কার বিরোধী হল, সে যে-ই হোক। একারণে তিনি মাবতুতাহ বা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন মহিলার ব্যাপারে উমারের রাঃ বিরোধী মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি। এভাবে জানাবাত অবস্থায় তায়াম্মুম সম্পর্কে আম্মার বিন ইয়াসিরের রাঃ হাদীসের কারণে তার বিরোধী মত, মুহরিমের ইহরামের পূর্বে অর্জিত পবিত্রতা বজায় থাকা সম্পর্কে আয়েশার রাঃ হাদীস সহীহ হওয়ার কারণে তার বিরোধী মতের দিকে, ইফরাদ ও কিরান হাজ্জকে বাতিল করে তামাত্তু’ হাজ্জে পরিবর্তন করা সম্পর্কে হাদীসগুলো সহীহ হওয়ায় এ ব্যাপারে তার নিষেধের দিকে ইমাম আহমাদ ভ্রুক্ষেপ করেন নি। একইভাবে তিনি ইকসালের বা মনী নির্গত হয় নি এমন সহবাসের গোসল সম্পর্কে উসমান রাঃ, আলী রাঃ, ত্বালহাহ রাঃ, আবু আইয়্যুব রাঃ, উবাই বিন কা’বের রাঃ মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি আয়েশার রাঃ এই হাদীস সহীহ হওয়ার কারণে যে, তিনি এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন করেছেন, অতঃপর গোসল করেছেন। এছাড়াও তিনি ইবন আব্বাস রাঃ এবং আলী রাঃ থেকে দুই রেওয়ায়াতের একটিতে উল্লিখিত মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি যে, গর্ভবতী নারীর স্বামী মারা গেলে তার ইদ্দত দুই মেয়াদের দীর্ঘতমটি হবে, যেহেতু সুবাই’য়াহ আল-আসলামিয়্যাহর রাঃ হাদীসটি সহীহ। কাফির থেকে মুসলিম মিরাস লাভ সম্পর্কে তিনি মু’য়ায রাঃ, মু’য়াবিয়ার রাঃ মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি, এই দুইয়ের মাঝে মিরাস নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীস সহীহ হওয়ায়। তিনি সরফ বা মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত ইবন আব্বাসের রাঃ মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি এর বিপরীতে হাদীস সহীহ হওয়ার কারণে। একই কারণে গাধার মাংস বৈধ হবার ব্যাপারে তার মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি। আর এর উদাহরণ প্রচুর। তিনি সহীহ হাদীসের উপর কোন কিছুই প্রাধান্য দিতেন না। না কোন আমল, না কোন রায়, না কোন কিয়াস, না কোন সাহাবীর কথা কিংবা এর বিপরীতে আমল থাকা সম্পর্কে না জানা থাকা যাকে বহু লোক ইজমা নাম দিয়ে সহীহ হাদীসের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যারা এই ধরণের ইজমা দাবি করে আহমাদ তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনি একে প্রমাণিত হাদীসের উপর প্রাধান্য দেয়ার অবকাশ প্রদান করেন নি। একইভাবে আশ শাফেয়ীও তার নতুন রিসালায় ভাষ্য প্রদান করেছেন যে, যে ব্যাপারে বিপরীত মত জানা যায় না, তাকে ইজমা বলা হবে মা। তার শব্দগুলো হচ্ছে: ما لا يعلم فيه خلاف فليس إجماعا “যেই ব্যাপারে বিপরীত মত জানা যায় না, তাকে ইজমা বলা হয় না”। আহমাদ বিন হাম্বালের পুত্র আব্দুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: “যে বিষয়ে মানুষ ইজমার দাবি করে তা মিথ্যা। আর যে ইজমার দাবি করে সে মিথ্যুক। হয়তবা মানুষ মতভেদ করেছে, যা সে জানে না এবং তার কাছে পৌঁছে নি? তাই সে বলুক: আমরা এই বিষয়ে মানুষের মতভেদ হয়েছে বলে জানি না। এটা হল বিশর আল-মুরাইসী এবং আল-আসাম্ম এর দাবী। বরং সে বলুক: আমরা মানুষের মতভেদ সম্পর্কে জানি না কিংবা আমাদের কাছে এমন পৌঁছায় নি।” এটা হচ্ছে তার শব্দ।ইমামের কাছে ও আইম্মাতুল হাদীসের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নুসুসের মর্যাদা এত কম ছিল না যে এর উপর কোন কল্পিত ইজমাকে প্রাধান্য দেয়া হবে, যার সারকথা হচ্ছে বিপরীত মত সম্পর্কে অজ্ঞতা। কেননা যদি এর অবকাশ থাকত, তাহলে নুসুস অসাড়-অকার্যকর পরিণত হত এবং কোন মাসআলার বিধানে বিপরীত মত সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি বিপরীত মত নিজের অজ্ঞতাকে নুসুসের উপর প্রাধান্য দেয়ার অবকাশ পেয়ে যেত। ইমাম আহমাদ এবং আশ শাফে’য়ী ইজমা দাবি করা সম্পর্কে মূলত এই বিষয়ের নিন্দাই করেছেন। এই কারণে নয় যে, তিনি ইজমার অস্তিত্বকে অসম্ভব বলতেন; যেমনটি কিছু মানুষের ধারণা।

দ্বিতীয়: সাহাবীদের ফাতাওয়া

ইমাম আহমাদের ফাতাওয়ার ক্ষেত্রে উসুলের দ্বিতীয়টি ছিল সাহাবীদের দেয়া ফাতওয়াসমূহ। তিনি যখন তাদের কারো ফাতওয়া পেতেন যার ব্যাপারে তাদের মাঝে কোন বিপরীত মতধারী জানা যায় না, তবে তিনি এটি ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হতেন না। তিনি একে ইজমা বলতেন না। বরং শব্দচয়নে সতর্ক হয়ে তিনি বলতেন: আমি একে বিরোধী কিছু জানি না বা এরূপ কিছু। যেমনটি তিনি আবু ত্বালিবের রেওয়ায়াতে বলেছেন, আমি এমন কিছু জানি না যা দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পর্কে ইবন আব্বাস, ইবন উমার, তাবে’য়ীনের মধ্যকার এগার জন: আত্বা, মুজাহিদ, মদীনাবাসীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে। আনাস বিন মালিকও এভাবে বলতেন: আমি এমন কাউকে জানি না যিনি দাসের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম আহমাদ এটি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। যখন ইমাম আহমাদ সাহাবীদের এই প্রকারের বক্তব্য পেতেন, তিনি এর উপরে কোন কিছুকেই প্রাধান্য দিতেন না; না কোন আমল, না কোন রায়, না কোন কিয়াস।

তৃতীয়: সাহাবীদের মতভেদের ক্ষেত্রে নির্বাচন করা

তার উসুলের তৃতীয়টি হচ্ছে: যখন সাহাবীদের মাঝে ইখতিলাফ হত তিনি তাদের বক্তব্যগুলো থেকে সেটি পছন্দ করতেন যা কিতাব ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হত। তিনি তাদের বক্তব্যসমূহ থেকে বের হতেন না। যদি তার পক্ষে কোন একটি বক্তব্যের সাথেও সামঞ্জস্য স্পষ্ট না হত, তিনি মতভেদ থাকার ঘোষণা দিতেন এবং কোন একটি বক্তব্যের উপর দৃঢ় হতেন না।ইসহাক বিন ইব্রাহীম বিন হানী তার “মাসাইলে” বলেন: আবু ‘আব্দিল্লাহকে বলা হল: এক ব্যক্তি কোন এলাকায় থাকে। তাকে ইখতিলাফ রয়েছে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। তিনি বললেন: “কিতাব ও সুন্নাহর সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সে অনুযায়ী ফাতওয়া দিবে। আর যা কিতাব ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না, সে তা থেকে বিরত থাকবে।” তাকে জিজ্ঞেস করা হল: “সে কি তার জবাব দিবে?” তিনি বললেন: “না।”

চতুর্থ: মুরসাল ও দূর্বল (দ্ব’য়ীফ) হাদীস

তার উসুলের চতুর্থটি হচ্ছে: মুরসাল ও দূর্বল হাদীস গ্রহণ করা যখন এক্ষেত্রে এর বিরোধী কিছু না থাকে। তিনি একে কিয়াসের উপর অগ্রগণ্য সাব্যস্ত করতেন। তবে তার কাছে দূর্বল দ্বারা উদ্দেশ্য বাতিল নয়, মুনকার নয়, রেওয়ায়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছে এমন হাদীস নয়; কেননা এক্ষেত্রে এর প্রতি ধাবিত হওয়া, অতঃপর আমল করার কোন অবকাশ নেই। বরং তার কাছে দূর্বল হাদীস হচ্ছে সহীহেরই একটি ভাগ এবং হাসান হাদীসের ভাগসমূহ থেকে একটি ভাগ। তিনি হাদীসকে সহীহ, হাসান, দ্ব’য়ীফ – এভাবে ভাগ করতেন না। বরং সহীহ ও দ্ব’য়ীফ হিসেবে ভাগ করতেন। আর দ্ব’য়ীফ হাদীসগুলোও তার কাছে কয়েকটি স্তর বিশিষ্ট ছিল। যখন তিনি এই ক্ষেত্রে বিরোধিতাকারী কোন আছার কিংবা সাহাবীর ক্বওল পেতেন না কিংবা এর বিপরীতে কোন ইজমা’ পেতেন না; এমন অবস্থায় দূর্বল হাদীসের উপর আমল করা তার কাছে কিয়াস অপেক্ষা অগ্রাধিকার পেত।আর ইমামদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে এই মূলনীতির সাথে সংক্ষিপ্তভাবে সহমত নন। তাদের মাঝে এমন কেউ নেই যিনি কিয়াসের উপর দূর্বল হাদীসকে প্রাধান্য দেন নি। আবু হানীফা অট্টহাসির হাদীসকে নিরেট কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। অথচ আহলুল হাদীস বা হাদীসবেত্তাগণ এর দূর্বলতার ব্যাপারে একমত। তিনি খেজুরের নাবীয দ্বারা উযুকে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। অধিকাংশ আহলুল হাদীস একে দূর্বল সাব্যস্ত করে থাকেন। তিনি “হায়েয সর্বোচ্চ দশ দিন”হাদীসের দূর্বলতার উপর তাদের ঐকমত্য স্বত্ত্বেও নিরেট কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। অথচ নারী এগারতম দিন যেই রক্ত দেখে সেটি সংজ্ঞা, বাস্তবতা, বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দশম দিনের রক্তের সমান। তিনি “দশ দিরহামের কমে মোহর নেই” হাদিসকে নিরেট কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছে, যদিও এর দূর্বল হওয়া বরং বাতিল হওয়ার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্য রয়েছে। কেননা সদাক্ব বা মোহর হিসেবে প্রদত্ত অর্থ হচ্ছে সহবাসের বিপরীতে। সুতরাং তারা যদি এতে সম্মত থাকে, তবে এটা কম হোক কিংবা বেশি জায়েয হবে। আশ শাফে’য়ী (তায়েফের একটি উপত্যকা) ওয়াজ্জে শিকার হারাম সংক্রান্ত খবর দূর্বলতা স্বত্ত্বেও কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মক্কায় নিষিদ্ধ সময়ে সালাত আদায় জায়েয হওয়ার খবরকে এর দূর্বলতা এবং অন্যান্য শহরের উপর করা কিয়াসের বিরোধী হওয়া স্বত্ত্বেও প্রাধান্য দিয়েছেন। “যে বমি করে কিংবা তার নাক থেকে রক্ত বের হয়, সে যেন উযু ক্ররে এবং তার সালাতের নির্মান করে” হাদীসকে তিনি তার দুই বক্তব্যের একটিতে এর খবর দূর্বল ও মুরসাল হওয়া স্বত্ত্বেও কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর মালিক মুরসাল, মুনক্বাত্বি’, বালাগাত ও সাহাবীর ক্বওলকে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিতেন। [ মুরসাল (مرسل) হচ্ছে আল্লাহর রাসুল থেকে যখন সরাসরি কোন তাবে’য়ী বর্ণনা করেন। মুনক্বাত্বি’ (منقطع) হচ্ছে যখন হাদীসের সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকে অর্থাৎ এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে। বালাগাত (بلاغات) হচ্ছে “আমার কাছে পৌঁছেছে” এই মর্মে বর্ণিত খবর। যেমন ইমাম মালিক বলেন: আমার কাছে আবু হুরায়রাহ থেকে পৌঁছেছে। এমন হাদীসে কোন কোন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে পৌঁছেছে তার উল্লেখ থাকে না। ]

পঞ্চম: প্রয়োজনবশত কিয়াস

যখন ইমাম আহমাদের কাছে কোন মাসআলায় নস না থাকত, সাহাবীদের কিংবা তাদের কারো একজনের ক্বওল না থাকত, কোন মুরসাল কিংবা দূর্বল আছার না থাকত, তিনি তখন পঞ্চম উসুলের দিকে ধাবিত হতেন – যা হল কিয়াস। তিনি একে প্রয়োজনে পড়লে ব্যবহার করতেন। আল খাল্লালের কিতাবে তিনি বলেন: “আমি আশ শাফে’য়ীকে কিয়াস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।” তিনি বলেন: “এর দিকে কেবল তখনই যাওয়া হয় যখন প্রয়োজন পড়ে” বা এই অর্থের কিছু বলেন। তিনি আবু হারিসের রেওয়ায়াতে বলেন: “তুমি রায় ও কিয়াস দিয়ে কী করবে যখন হাদীসেই তোমার প্রয়োজন পূরণ হয়?” তিনি আব্দুল মালিক আল-মায়মূনীর রেওয়ায়াতে বলেন: “ফিকহ নিয়ে যে কথা বলে সে এই দুই বিষয় পরিহার করবে: সংক্ষিপ্ত কথা এবং কিয়াস।”

  • আর এই উসুল পাঁচটি হচ্ছে তার ফাতাওয়ার উসুল। আর এগুলোতেই এর বিচরণ। তিনি দলীলের সাংঘর্ষিকতা কিংবা এই ব্যাপারে সাহাবীদের ইখতিলাফের কারণে কিংবা এ সম্পর্কে কোন আছার বা সাহাবী বা তাবেয়ীদের কারো ক্বওল অবগত না থাকার কখনো কখনো ফাতওয়া দেয়া থেকে ক্ষান্ত থেকেছেন।
  • তিনি এমন মাসআলায় ফাতওয়া দেয়া কঠিনভাবে অপছন্দ করতেন ও বিরত থাকতেন যাতে সালাফের কোন আছার নেই, যেমনটি তার অনেক সঙ্গী বলেছেন: “এমন মাসআলায় কথা বলা থেকে বিরত থাকো, যাতে কোন ইমাম বা পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই।”
  • তিনি হাদীসের ফুকাহা ও ইমাম মালিকের সঙ্গীদের কাছ থেকে ফাতওয়া গ্রহণ অবকাশযুক্ত সাব্যস্ত করতেন। তাদের কাছে যাওয়ার নির্দেশনা দিতেন। হাদীসে উদাসীনদের কাছে ফাতওয়া চাওয়া এবং উপর নিজের মাযহাব নির্মান করা বারণ করতেন। তাদের ফাতওয়া অনুযায়ী আমল করার অবকাশ দিতেন না।
  • ইবন হানী বলেন: আমি আবু আব্দিল্লাহকে এই হাদীসে যা এসেছে তা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম “ফাতওয়া নিয়ে অনাচারে তোমাদের অগ্রবর্তীরা আগুনে অনাচার ভোগে অগ্রবর্তী হবে।” আবু আব্দিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সে এমন বিষয় অনুযায়ী ফাতওয়া দেয় যা সে শোনে নি।” তিনি বলেন: আমি তাকে যে না জেনে ফাতওয়া দেয় তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: “গুনাহ ফাতওয়া দাতার হবে।” আমি বললাম: “এতে যা আছে তা জেনে না নেওয়া পর্যন্ত কীভাবে সে ফাতওয়া দিবে?” তিনি বললেন: “সে অনুসন্ধান করে ফাতওয়া দিবে যতক্ষন সে এর ভিত্তি কী জেনে না নেয়।”
  • আবু দাউদ তার “মাসাইলে” বলেন: আমি গুনে শেষ করতে পারব না যে আমি কতবার আহমাদকে ইলমের কত ইখতিলাফপূর্ণ বিষয়ে বলতে শুনেছি “আমি জানি না।” তিনি বলেন: আমি তাকে বলতে শুনেছি: “আমি ফাতওয়া প্রদানে ইবন ‘উয়াইনাহর মত সুন্দর কাউকে দেখি নি। তার কাছে ‘আমি জানি না’ বলা সহজ বিষয় ছিল।”
  • আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ তার “মাসাইলে” বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেন: মাগরিবের এক লোক মালিক বিন আনাসকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: “আমি জানি না।” তিনি বললেন: “হে আবু আব্দিল্লাহ! আপনি ‘আমি জানি না’ বলছেন?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ! তোমার পেছনে যাদের রেখে এসেছো তাদের কাছে পৌঁছে দাও যে, ‘আমি জানি না’।”
  • আব্দুল্লাহ বলনে: আমি আমার পিতাকে বহুবার শুনেছি তাকে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলতেন: “আমি জানি না।” যখন কোন মাসআলায় ইখতিলাফ থাকত, তিনি ক্ষান্ত হতেন। আর বহুবার তিনি বলতেন: “অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করো।” যদি বলা হত: “কাকে জিজ্ঞেস করবো?” তিনি বলতেন: “উলামাদের জিজ্ঞেস করো।” তিনি কোন ব্যক্তি বিশেষের নাম প্রায় উল্লেখ করতেনই না।” তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: “ইবন ‘উয়াইনাহ তালাক সম্পর্কে ফাতওয়া দিতেন না। বলতেন: “এটা কে ভালমত পারে?”

ই’লামুল মুওয়াক্কি’য়ীন [প্র. দার ইবনুল জাওযী] (২/৫০-৬২) থেকে অনূদিত। শায়খ বাকর আবু যায়দ এটি তার “আল মাদখাল আল মুফাসসাল লি মাযহাবিল ইমাম আহমাদ” গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আরও কিছু আছে, যেমন তাবেয়িদের ফতওয়া, মাসালিহ মুরসালা, সাদ্দুয যারাই প্রভৃতি। শাইখ আবু জাহরা তাঁর ইমাম আহমদের জীবনীর কিতাবে এগুলো আলোচনা করেছেন, ইনশা আল্লাহ্‌ আমরা অনুবাদ করে প্রকাশ করব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *