ইমাম আহমাদ আল-বান্না আস-সা’য়াতি আল-হাম্বলি

ইমাম আহমাদ আল-বান্না আস-সা’য়াতি আল-হাম্বলি

ইমাম আহমাদ আব্দুর রহমান আল বান্না আল-সা’য়াতি আল-মাসরি আল-হানবালি। ১৩০১ হিজরিতে মিশরের শামসিরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামাতা ধার্মিক ছিলেন, তাদের কাছে এবং শাইখ আহমাদ রিফাই’র নিকট তিনি তাজউইদ শিখেন। তাজউইদ শেখার পর পিতামাতার কাছে বালিগ হবার পূর্বেই কুর’আন হিফয করে ফেলেন।

এরপর তিনি আলেক্সান্দ্রিয়ায় যান, ইব্রাহিম বাশার মসজিদে ফিকহ, তাফসির এবং অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। ২১ বছর বয়সেই তাকে উস্তাদ হিসেবে করা হত। পাশাপাশি তিনি ঘড়ির মেরামত এবং মেকানিজম শিখেন, ফলে তাঁর সহচররা তাকে “সা’য়াতি” নাম দেন।

১৩২২ সালে তিনি বিয়ে করেন। তাঁর পুণ্যবতী স্ত্রীর ঘরে চার সন্তানের জন্ম হয়। নিজে ফিকহ এবং আকিদায় হাম্বলি হলেও সন্তানদের একেক মাযহাবের মাদরাসায় পাঠান।

তাঁর সন্তান ইমাম হাসান আল-বান্নাকে (ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা) হানাফি মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন, নাসিব আব্দুর রহমান আল বান্না তাঁর বোনের সাথে মালিকি ফিকহ অধ্যয়ন করেন। নাসিব মুহাম্মাদ আল-বান্না তাঁর পিতার সাথে হাম্বলি মাযহাব অধ্যয়ন করেন। নাসিব আহমদ জামালুদ্দিন বান্না শাফেয়ি ফিকহ অধ্যয়ন করেন।

চিত্রঃ ইমাম আহমাদ আল-বান্না

তিনি লেখালেখি এবং বিভিন্ন কাজের পরিমার্জনা করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, “ফাতহুর রাব্বানি লি তারতিব মুসনাদ আল-ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি”। এখানে তিনি মুসনাদে আহমাদকে আকিদা, ফিকহ প্রভৃতি বিষয় অনুসারে সাজান, এর ব্যাখ্যাও লেখা শুরু করেন, তবে শেষ করে যেতে পারেননি। শাইখ ইবনে উসাইমিন বলেছেনঃ

“আলিমগণ [ইমাম আহমাদের] মুসনাদকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন, সংক্ষেপণ করেছেন, ব্যাখ্যা লিখেছেন, টীকা লিখেছেন এবং নতুন করে সাজিয়েছেন।

[এক্ষেত্রে] সেরা কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে “ফাতহুর রাব্বানি লি তারতিব মুসনাদ আল-ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি”, এর লেখক ছিলেন আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বান্না, “সা’য়াতি” নামে অধিক পরিচিত। তিনি এই কিতাবকে ৭টি ভাগে ভাগ করেছে, প্রথমটি হচ্ছে তাওহিদ এবং উসুলুদ-দীন, শেষ ভাগ হচ্ছে কিয়ামত এবং এর লক্ষণসমূহ নিয়ে। তিনি বেশ সন্তোজনকভাবে বইটি সাজিয়েছেন, এরপর ব্যাখ্যা লিখে পূর্ণ করেছেন- “বুলুগুল আমানি মিন আসরার আল-ফাতহ আল-রাব্বানি”। নামটি বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে বেশ মানানসই, কারণ বইটি হাদিস এবং ফিকহের দিক থেকে অনেক উপকারি। আর সকল প্রশংসা রব্বুল আ’লামিন আল্লাহ্‌রই।”

১৩৭৮ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং সন্তান হাসান আল-বান্নার পাশে তাকে দাফন করা হয়। রহিমাহুমাল্লাহ।

তথ্যসুত্রঃ

মুসতালাহ আল-হাদিস, শাইখ ইবনে উসাইমিন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *