ইমাম ইবনে বালবান আল-হাম্বালি : একজন বিদগ্ধ আলিম

তাঁর নাম শামস্ উদ্-দ্বীন মুহাম্মদ বিন বাদর আল-দ্বীন বিন ‘আবদ্ আল-হাক্ব বিন বালবান আল-বা‘লি আল-হাম্বালি। তিনি ১০০৬ হিজরিতে (১৫৯৭ সাল) দামেস্কের সালিহিয়্যাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবন বালবান ও ইবন বালবানি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন পরবর্তী পর্যায়ের হাম্বালি ফকিহ।

ইবন বালবান ছিলেন শিহাব আহমদ ইবন আবুল ওয়াফার প্রাথমিক ছাত্র, যার কাছে তিনি হাদিস ও ফিকাহ্ অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ইবন বালবান তুলনামূলক ফিকাহ্-এর উপর দক্ষতা অর্জন করেন। 

এরপর তিনি মাদরাসাতুল উমরিয়্যাহ্-তে পাঠদান শুরু করেন। বিভিন্ন স্থান হতে ছাত্ররা তাঁর নিকট পড়তে আসতো।

তিনি শিক্ষা দান ও প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে তার জীবনের অধিকাংশ সময় দামেস্কের বাসিন্দাদের শিক্ষক হিসেবে কাটিয়েছেন।

তার জীবনবৃত্তান্ত প্রণেতারা তাকে একজন ‘জ্ঞানের শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ যিনি সর্বদা নিজেকে অন্যদের প্রশিক্ষণ দানে নিয়োজিত রেখেছেন। 

ইবনে বালবান জ্ঞান ও যুহদে পরিপূর্ণ একজন ব্যক্তি ছিলেন। 

তাকে দেখে তাঁর ছাত্রদের পরকালের কথা স্মরণ হতো। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও সকল স্তরের মানুষের সাথে মিশতেন। অভিজাত কিংবা সাধারণ সকলের কাছে তিনি সমাদৃত ছিলেন। মানুষ তাকে হয় সালাত আদায়ে, কুরআন তিলওতে, বই লেখা এবং শিক্ষা দানে ব্যস্ত থাকতে দেখত। 

তিনি প্রায়ই আলী আহমদ আল-যাইদীর এই উক্তিটি বলতেন,

“নফল আমলকে ফরয হিসেবে, গুনাহকে কুফর হিসেবে, লালসাকে বিষ হিসেবে, মানুষের সাথে মেলামেশা আগুন হিসেবে এবং খাদ্যকে পথ্য হিসেবে গণ্য করো।”

অনেক জ্ঞানী তাকে ‘শাইখুল ইসলাম’ বলে উল্লেখ করেছেন। ধারণা করা হয়, তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা এক হাজার খন্ডেরও অধিক। জনসাধারণ তার লিখনি সাদরে গ্রহণ করেন। পরবর্তী প্রজন্মের জ্ঞানীরা এগুলো দ্বারা পাঠদান করেন। এমনকি এই সময়েও তার কিছু আইনগ্রন্থ বিচারক ও ফকিহদের প্রশিক্ষণ দানে ব্যবহৃত হয়। 

এক কথায়, তার জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে, সালাফদের মতো দীনের প্রতি অনুরাগ, জ্ঞান, যুহদ ইত্যাদি। 

একজন জীবনবৃত্তান্ত প্রণেতা বলেন,

“ইবনে বালবান ছিলেন সালাফদের ছায়ার মতো এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব”। 

তাঁর এই মহামহিমান্বিত জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে ১০৮৩ হিজরিতে(১৬৭২ সালে)। তাঁর জানাযার সালাতে ইমামতি করেন তাঁর পুত্র আবদুর রহমান, যাতে লোকেরা দলে দলে অংশগ্রহণ করে। 

তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কাজের মধ্যে রয়েছে :

  • কাফি আল-মুবতাদি মিনাত তুল্লাব [ফিকাহ্]; 
  • আখসার আল-মুখতাসারাত (কাফি আল-মুবতাদির সংক্ষিপ্তসার); 
  • মুখতাসার আল-ইফাদাত ফি রুব আল-ইবাদাত মা’আল-আদব ওয়া যিয়াদাত [ফিকাহ্]; 
  • ক্বালাইদ আল-ইক্বইয়ান [ইবন হামদান আল-হাম্বলীর লিখিত “নিহায়াত আল-মুবতাদি‘ইন-এর সংক্ষিপ্তসার] [আকিদা]; 
  • বাগ্ইয়াতুল মুজতাহিদ ফি ইলম আত-তাজওয়ীদ [কুর’আন তিলাওত সম্পর্কিত] 

সূত্র:

  • J. Jalil. Ibn Balban al-Hanbali: A Remarkable Scholar.
  • Introduction, Akhsar al-Mukhtasarat. Translated by Musa Furbur
  • Author’s introduction, Qala‘id al-iqyan. Translated by John Starling

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *