ইস্তিঞ্জা, ইস্তিজমার এবং টয়লেটের আদব – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

ইস্তিঞ্জা1 হচ্ছে পানি, পাথর বা অনুরুপ কিছু দ্বারা, শরীরের নির্গমনকারী দুটো পথ <সাবিলাইন; অর্থাৎ মল এবং মুত্র বের হবার স্থান> হতে বেরিয়ে আসা কিছুকে অপসারণ করা। বায়ু, পবিত্র কিছু <যেমনঃ বীর্য> অথবা শুকনো কিছু <যেমনঃ শুষ্ক মল> বাদে বাকি সকল নির্গমনের <যেমনঃ মল, মুত্র, পোকা> জন্য ইস্তিঞ্জা ওয়াজিব।

তাহির, জায়েজ2, শুকনো3 <এবং সলিড, অর্থাৎ বালিজাতীয় না> এবং পরিচ্ছন্নকারী না হলে, সেটা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করলে তা শুদ্ধ হবে না। আর পাথর বা অনুরুপ কিছু দ্বারা পরিস্কার করার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা হলো, কেবলমাত্র এমন দাগ অবশিষ্ট থাকা, যা পানি ছাড়া অপসারিত হয় না।4

এর শর্তের মধ্যে রয়েছেঃ

[১] [অন্তত] তিন বা ততোধিকবার মুছতে হবে5, যতক্ষণ না পরিস্কার হয়6

[২] নির্গত অপবিত্রতা, তার স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করা।7

আর যদি পানি ব্যবহার করা হয়, সেক্ষেত্রে [পরিস্কারের] স্থান তার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসা বাঞ্ছনীয় [অর্থাৎ এক্ষেত্রে আগের মত দাগ অবশিষ্ট থাকা জায়েজ নয়]-

যন্ন বা প্রবল ধারণা [যে পরিস্কার হয়ে গেছে] যথেষ্ট হবে।

গোবর, হাড় অথবা খাদ্য [ইস্তিঞ্জার কাজে] ব্যবহার করা জায়েজ নয়, এমনকি তা পশুখাদ্য হলেও।8

[ইস্তিঞ্জা/ইস্তিজমার] এর পূর্বে ওযু কিংবা তায়াম্মুম9 করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। <অর্থাৎ ওযু বা তায়াম্মুমের পূর্বশর্ত হচ্ছে ইস্তিঞ্জা করা>

জায়েজ নয়-

[১] প্রয়োজনের বেশী সময় <টয়লেটে> অবস্থান করা।10

[২] পানিতে <যেমনঃ নদী> মল ত্যাগ করা।

[৩] পানির উৎসে, চলার পথে, উপকারী ছায়া, অথবা আকাঙ্ক্ষিত ফলমূল আছে এমন গাছের নিচে; মল বা মুত্র ত্যাগ করা।

[৪] কোনো খালি জায়গায় কিবলাহ এর দিকে মুখ করে বা পেছন ফিরে [মল/মুত্র ত্যাগ করা]।11


ফুটনোট:

1 সাধারণভাবে শুধু ইস্তিঞ্জা উল্লেখ করলে সেটা পানি বা পাথর উভয় দ্বারা পরিষ্কার করাকেই বুঝায়। ইস্তিঞ্জা এবং ইস্তিজমার একসাথে উল্লেখ থাকলে উভয়ে নির্দিষ্ট অর্থ নেয়। তখন ইস্তিঞ্জা বলতে পানি দ্বারা পরিষ্কার করা এবং ইস্তিজমার বলতে পাথর বা অনুরুপ বস্তু দ্বারা পরিষ্কার করা বুঝায়।

2 উদাহরণস্বরূপ, চুরি করা বস্তু দিয়ে কেউ যদি ইস্তিজমার করে, সেটা বাতিল।

3 এইজন্যে ভেজা-টিস্যু দিয়ে ইস্তিজমার করা যথেষ্ট নয়। বরং আলেমরা বলেন এটা নাজাসাহকে আরও ছড়িয়ে দেবে।

4 অর্থাৎ এমন অবশিষ্ট দাগ থাকলে সমস্যা নেই। এটুকুতেই পবিত্রতা অর্জন হয়ে যাবে।

5 ভিন্ন ভিন্ন পাথর/টিস্যু ব্যবহার করে, অথবা বড় টিস্যুর আলাদা আলাদা অংশ ব্যবহার করতে হবে প্রতিবারে।

6 তিনবারের বেশি প্রয়োজন হলে সেটা করতে হবে। বিজোড় সংখ্যায় শেষ করা উত্তম, যেমন চতুর্থবারে শেষ হলে আরেকবার বাড়িয়ে পঞ্চমে শেষ করা উত্তম।

7 যেমন, মল বা মুত্র যদি পায়ে, উরুতে বা অন্য কোনো অংশে লাগে, তাহলে কেবল পাথর বা অনুরুপ কিছু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন গ্রহণযোগ্য হবে না।

8 মাজহাবের কিছু আলিম বলেছেন মূল্যবান বা সম্মানিত বস্তুও জায়েজ নয়, যেমন, এমন কাগজ যেখানে মূল্যবান কিছু লিখিত আছে।

9 ইমাম বুহুতি শারহুল মুনতাহায় বলেছেন- “যাহির হচ্ছে- ছোট হাদাস, বড় হাদাস, অথবা শরীরের উপর নাজাসাতের জন্যে তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে পার্থক্য নেই। তবে নাজাসাত যদি সাবিলাইন বাদে [শরীরের] অন্য অংশে থাকে, অথবা সাবিলাইনের উপরে থাকে কিন্তু সাবিলাইন থেকে বের হয়নি, তাহলে এগুলো অপসারণের পূর্বে ওযু বা তায়াম্মুম করলে সহিহ হবে।” [বুলুগুল কাসিদ]

10 কারণ হচ্ছে এটি প্রয়োজনের বাইরে আওরাহ ঢেকে না রাখা, আল্লাহ্‌র জিকির থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি।

11 অর্থাৎ বদ্ধঘরে অথবা ব্যক্তি আর কিবলাহর মাঝে বাধা থাকলে সমস্যা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *