একাধিক বিয়ে?

হাম্বলি মাযহাবে সাধারণভাবে একটি বিয়ে করা সুন্নাহ বা মুস্তাহাব। কারণ এক বিয়েতে প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে একাধিক বিয়ে করা অতিরিক্ত দায়িত্ব যোগ করা, বা হারামের দিকে ধাবিত করতে পারে।

শাইখ আহমদ বিন নাসির আল-কুআইমি আখসার আল-মুখতাসারাতের হাশিয়ায় বলেছেন,

“মাযহাবে একটি স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ থাকা সুন্নাহ। (একের চেয়ে) বৃদ্ধি করার চেয়ে একে থাকা উত্তম।”

আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত

মাযহাবের মুতামাদ নির্ধারণের অন্যতম কিতাব “আল-ইকনা”তে ইমাম মুসা আল-হাজ্জাউই (র) বলেছেন,

يستحب الا يزيدعلي واحدة ان حصل به الاعفاف

“একটি বিয়েতে পবিত্রতা অর্জন হলে বৃদ্ধি না করা মুস্তাহাব।”

আল-ইকনা, হাজ্জাউই

ইমাম ইবনে নাজ্জার (র) মাযহাবের মুতামাদ নির্ধারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব “আল-মুনতাহা”র ব্যাখ্যায় বলেন,

و لا يسن الزيادة علي واحدة

“একের বৃদ্ধি করা সুন্নাহ নয়”

শারহুল মুনতাহা, ইবনে নাজ্জার

এর কারণ হিসেবে শারিহুল মাযহাব ইমাম বুহুতি (র) বলেছেনঃ

“কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন, “وَلَن تَسْتَطِيعُوٓا۟ أَن تَعْدِلُوا۟ بَيْنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ “।

(তোমরা কখনও স্ত্রীগণের মধ্যে সুবিচার করতে পারবেনা যদিও তোমরা তা কামনা কর, সূরা নিসা)

রওদুল মুরবি, ইমাম বুহুতি

শামসুদ্দিন ইবনে কুদামাহ (র) বলেছেন,

একটি বিয়ে করা অধিক উপযুক্ত। আল-মুহাররারের লেখক (আল-মাজদ ইবনে তাইমিয়া) এমন বলেছেন, কারণ আল্লাহ্‌র বাণী “…কিন্তু তুমি যদি ন্যায়পরায়ণ থাকার ব্যাপারে ভয় করো, তাহলে একটি বিয়ে করো।”

শারহুল কবির, ইবনে কুদামাহ

তাই মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কওল হচ্ছে, প্রয়োজন ব্যতীত একটি বিয়েই সাধারণভাবে উত্তম- এটা পরিষ্কার। ইবনুল জাওযির মানাকিবে বর্ণনা অনুসারে, ইমাম আহমদের আমলও অনুরুপ, তিনি দুটো বিয়ে করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আরেক বিয়ে। (বিস্তারিত দেখুন এখানে)

এখন তাহলে বহুবিবাহের সাধারণ হুকুম কি? কিছু আলেম বলেছেন মাকরুহ, কেউ কেউ বলেছেন খিলাফ আল-আওলা।

শাইখ আব্দুর রহমান আশ-শামি বলেছেন,

“বহুবিবাহ জায়েজ যদি সেখানে স্বামীর জন্যে খায়ের থাকে, যেমন তার প্রথম স্ত্রী তার প্রতি অনুগত না, অথবা প্রথম স্ত্রী সন্তানদানে সক্ষম না এবং সে আরও সন্তান কামনা করে।

স্বামীর প্রয়োজন না থাকলে বহুবিবাহ মাকরুহ। ইমাম মুস্তাফা আর-রুহাইবানি বলেছেন, “সে একের অধিক নারীকে বিয়ে করবে না। এটা উত্তম, যদি নারী বিশ্বাসী এবং অনুগত হয় এবং হারামের দিকে সে যাবে না।” সুনানের আলেমগণ সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন, “যার দুজন স্ত্রী আছে, কিন্তু একজনের উপর অধিক ঝুঁকে পরে, সে কিয়ামাতের দিনে একদিকে ভর দিয়ে আসতে থাকবে।”

আর বহুবিবাহ হারাম হবে যদি স্বামী যৌক্তিকভাবে জানে অথবা নিশ্চিত যে সে ইনসাফ করতে পারবে না। আর এর ভিত্তি রয়েছে ইমাম মালিক ইবনে আনাস এবং ইমাম ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদিসে لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ “ক্ষতি না করা, আর ক্ষতির সম্মুখীন না হওয়া”। এটা বস্তুত সহিহ হাদিস।”

শাইখ ইউসুফ বিন সাদিকের মতেও, আসল (default) হচ্ছে একাধিক বিবাহ মাকরুহ। মাযহাবের উসুল অনুসারে, (গ্রহণযোগ্য) প্রয়োজন থাকলে জায়েজ হবে।

অন্য কিছু আলেমের মতে, প্রয়োজন না থাকলে মাকরুহ নয়, খিলাফ আল-আওলা। খিলাফ আল-আওলা অর্থ জায়েজ কিন্তু মুবাহ থেকে খানিকটা নিচে তবে মাকরুহ নয়- অর্থাৎ হালকা অনুৎসাহিত।

শাইখ জাহেদ ফেত্তাহ বলেছেন,

“তবে মাযহাবের মাশহুর অনুসারে একের অধিক বিয়ে করা সাধারণভাবে মাকরুহ নয়।”

শাইখ ইবনে আকিল বলেছেনঃ

একের অধিক বৃদ্ধি করা জায়েজ।

তাহকিকুল মুরাদ ফি শারহি মতন আল-যাদ।

শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-আযহারি বলেছেন,

আসল হিসেবে বহুবিবাহ মুস্তাহাব নয়, বরং খিলাফ আল-আওলা (অর্থাৎ না করা উত্তম)। কিছু ক্ষেত্রে এটা মুস্তাহাব হতে পারে। কিন্তু আসল হচ্ছে এটা খিলাফ আল-আওলা। এটা আমাদের (হাম্বলি) এবং আহলুল ইলমের জুমহুরের মাযহাব অনুসারে।

শাইখ কুআইমি বলেছেন, ইকনার ভাষ্যের মাফহুম হচ্ছে, একটি বিয়েতে পবিত্র থাকতে না পারলে একাধিক বিয়ে উত্তম।

শাইখ ইবনে উসাইমিন বলেছেন,

একটি বিয়েতে সীমাবদ্ধ থাকা অধিক নিরাপদ। আর যদি সে একটি বিয়েতে পবিত্রতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে আমরা তাকে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিবাহ করতে বলি, দৃষ্টি সংবরণ করতে বলি এবং মানসিক শান্তি উপভোগ করতে বলি।

শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন

সারকথা হচ্ছে,

  • স্বামীর প্রয়োজন না থাকলে একাধিক বিবাহ মাকরুহ বা খিলাফ আল-আওলা এবং একটি বিয়েই সুন্নাহ বা মুস্তাহাব।
  • আর প্রয়োজন থাকলে একাধিক বিয়ে মুবাহ বা জায়েজ, ক্ষেত্রবিশেষে মুস্তাহাব, অথবা কিছু ক্ষেত্রে এমনকি ওয়াজিব বা হারামের হুকুমও নিতে পারে। এই ক্ষেত্রগুলোতে মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে আলোচনা করে নেওয়া কাম্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *