কুরবানি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত কিছু মাস’আলাঃ

হাম্বলি মাযহাব অনুসারে কুরবানি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত কিছু মাস’আলাঃ

১। কুরবানি করা সুন্নাহ। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা ত্যাগ করা মাকরুহ।

২। যে লোকালয়ে ঈদের সালাত আদায় করা হয়, কুরবানির সময় শুরু হয় ঐ লোকালয়ের প্রথম ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর থেকে। এক্ষেত্রে ঈদের খুতবা ধর্তব্য নয়, তবে খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। আর লোকালয়ের বাইরে বা যে দেশে ঈদের সালাত আদায় করা হয় না, সেখানে ঈদের সালাতের সমপরিমাণ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকে। 

৩। সর্বমোট ৩ দিন কুরবানি করা যায়। যিলহজ্জ্বের ১০ তারিখ সর্বোত্তম, এরপর ১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

৪। জবাইকারী বা কসাইকে কুরবানির পশুর কোন অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া হারাম।

৫। কুরবানির পশুর চামড়া বা অন্য কোন অংশ বিক্রয় করা হারাম। কিন্তু তা নিজে ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া যাবে [বা সাদাকা করা যাবে]।

৬। কুরবানির জন্য সর্বোত্তম হলো উট, এরপর গরু, এরপর ছাগল বা ভেড়া; যদি একটি উট বা গরু সম্পূর্ণ কুরবানি করা হয়। অন্যথায় উট বা গরুর এক ভাগের তুলনায় একটি ছাগল বা ভেড়া উত্তম।

৭। কুরবানি যথেষ্ট হওয়ার জন্য ভেড়ার ন্যূনতম বয়স ৬ মাস পূর্ণ হতে হবে। উটের ক্ষেত্রে ৫ বছর, গরু ২ বছর এবং ছাগলের বয়স কমপক্ষে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে।

৮। একটি ছাগল বা ভেড়া একজন ব্যক্তি এবং তার পরিবার ও তার অধিনস্ত পৌষ্যদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা যাবে। একটি উট বা গরু ৭ জনের জন্য যথেষ্ট হবে।

৯। যে পশুর অস্থিমজ্জা নেই; অথবা স্পষ্টতঃ কানা বা অন্ধ; অথবা স্পষ্টতঃ খোঁড়া; অথবা সামনের দাঁত পড়ে গেছে; অথবা শিং অর্ধেকের বেশি ভাঙ্গা বা কান অর্ধেকের বেশি কাটা; এমন কোন পশু কুরবানির জন্য যথেষ্ট নয়। 

১০। সুন্নাহ হলো উটকে সামনের বাম পা বেঁধে দাঁড়ানো অবস্থায় নাহর করা; এবং অন্যান্য পশুর ক্ষেত্রে বাম পাশের উপর কাত করে ফেলে কিবলামুখী অবস্থায় জবাই করা।

১১। জবাই করার সময় মুখে “বিসমিল্লাহ” [আল্লাহর নামে] বলা ওয়াজিব। বিসমিল্লাহর পর “আল্লাহু আকবার” যোগ করা মুস্তাহাব। “আল্লাহুম্মা হাযা মিনকা ওয়া লাকা” [হে আল্লাহ, এটি আপনার কাছ থেকে এবং আপনার জন্য] বলা মুস্তাহাব।

১২। সুন্নাহ হলো কুরবানির পশুর গোশতের এক-তৃতীয়াংশ নিজে খাওয়ার জন্য রাখা, এক-তৃতীয়াংশ হাদিয়া দেয়া এবং এক-তৃতীয়াংশ সাদাকা করা।

১৩। ১ উকিয়া (প্রায় ১১৯ গ্রাম) সমপরিমাণ ব্যতিত কুরবানির পশুর বাকি অংশ নিজে খাওয়ার জন্য রেখে দেয়া জায়েয। ১ উকিয়া সমপরিমাণ গোশত সাদাকা করা ওয়াজিব।

১৪। কুরবানির ইচ্ছাপোষণকারী ব্যক্তির জন্য যিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন; শরীরের কোন চুল, নখ বা চামড়ার কোন অংশ কাটা বা তুলে ফেলা হারাম; কুরবানির পশু জবাই না হওয়া পর্যন্ত।

১৫। কুরবানির পশু জবাই শেষে মাথা মুড়িয়ে ফেলা মুস্তাহাব। 

[তথ্যসূত্রঃ আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত ‘আলা আখসার আল-মুখতাসারাত; শাইখ আহমাদ বিন নাসির আল-কু’আইমি]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *