খুফ-এর উপর মাসেহ – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

খুফ [চামড়ার তৈরি ঐতিহ্যবাহী মোজা] বা সমজাতীয় বস্তুর1 উপর মাসেহ করা জায়েজ, যদি সাতটি পূর্বশর্ত পূরণ হয়ঃ

১। পানি দ্বারা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর2 তা পরিধান করা।

২। ফরয জায়গাটুকু3 ঢেকে রাখা।

৩। তা পরিধান করে প্রথানুযায়ী হাঁটতে সক্ষম হওয়া।4

৪। তা নিজে থেকে স্থায়ী হওয়া।5

৫। বৈধতা।6

৬। উপাদানের পবিত্রতা7

৭। এবং চামড়ার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ না পাওয়া8

মুকিম <অর্থাৎ নিজ এলাকায় অবস্থানরত ব্যক্তি> এবং কোনো পাপের উদ্দেশ্যে <যেমন জুয়া খেলা> সফররত ব্যক্তি, [খুফ] পরিধানের পর সংঘটিত হাদাসের পর থেকে9 এক দিন ও রাতের জন্যে মাসেহ করতে পারবে।

কোনো মুসাফির, যার সফর এমন দূরত্বের যাতে সালাত কসর করা যায়, এবং কোনো পাপের [উদ্দেশ্যে] নয়; সে তিনদিন ও তিনরাত মাসেহ করতে পারবে।

যদি কেউ সফরে মাসেহ [শুরু] করে এবং তারপর <এক-দিন রাত শেষের পূর্বে> মুকিম10 হয়, অথবা <নিজ এলাকায়> স্থায়ী অবস্থায় [মাসেহ শুরু] করে এবং তারপর <এক-দিন রাত শেষের পূর্বে> সফরে যায়, অথবা কোনো অবস্থায় মাসেহ শুরু করেছে সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে- <এসকল ক্ষেত্রে> মাসেহ-র সময়সীমা মুকিমের থেকে বেশি হবে না [অর্থাৎ এক দিন ও রাত11]।

পবিত্রতা অর্জনের পর পরিধান করা হলে এবং প্রয়োজনীয় অংশে অতিক্রম না করলে, ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করা জায়েজ।

যদি তা প্রয়োজনীয় অংশ অতিক্রম করে অথবা পবিত্র অবস্থায় পরিধান করা না হয়, তাহলে এটা খুলে ফেলা ওয়াজিব।

যদি <ব্যান্ডেজ খোলার ক্ষেত্রে> বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে যে অংশটুকু পবিত্র <ওযু/গোসল> অবস্থায় পরিধান করা হয়েছে ও প্রয়োজনীয় অংশ অতিক্রম করেছে, তার উপর মাসেহ এবং পাশাপাশি তায়াম্মুম করবে12

<খুফের উপর মাসেহের ক্ষেত্রে> যদি ফরয অঙ্গের কোনো অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, অথবা এমন কিছু ঘটে যার জন্যে গোসল ফরয হয়, অথবা নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যায়- তাহলে ওযু ভেঙ্গে যাবে।


ফুটনোট:

1 যেমনঃ জুতা। এছাড়া মাযহাব অনুসারে শর্তানুসারে ছেলেদের পাগড়ি যেগুলো পিছে কিংবা গলার নিচে আসে, ব্যান্ডেজ এবং নারীদের খিমারে মাসেহ জায়েজ।

2 যেমনঃ ওযু, গোসল সম্পূর্ণভাবে শেষ করে, যেমন এক পা ধুয়ে মোজা সে পায়ে মোজা পরা, তারপর আরেক পা ধুয়ে সেটায় মোজা পড়া- এভাবে জায়েজ না। একইভাবে তায়াম্মুম করার পর মাসেহ করলে, সহিহ হবে না। [বুলুগুল কাসিদ]

3 পায়ের ক্ষেত্রে গোড়ালিসহ পায়ের যতটুক ধৌত করা ওয়াজিব, তা ঢেকে রাখা। ছোট গর্তও থাকা যাবে না।

4 এর ব্যাখ্যা নিয়ে সমসাময়িক হাম্বলিদের মধ্যে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ মনে করেন এর অর্থ হচ্ছে- এমন খুফ যা পরিধান করে প্রথানুযায়ি রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যায়, অর্থাৎ জুতার ন্যায়। আর অন্যরা মনে করেন, এটার অর্থ এমন লুজ হবে না যে হাঁটতে গিয়ে এটা খুলে যায়। এই দ্বিমতের ভিত্তিতে আধুনিক পাতলা মোজা মাসেহের হুকুমে তারা খিলাফ করেছেন।

সাধারণভাবে বেশিরভাগ আধুনিক মোজা মাসেহের হুকুমঃ

  • হারামঃ এটা আযহারের শাইখুল হানাবিলা শাইখ সায়্যিদ আল-হাম্বলি, শাইখ ইউসুফ বিন সাদিক, শাইখ আব্দুর রহমান আশ-শামির মত।
  • জায়েজঃ এটা শাইখ করিম হিলমির মত, আযহারের পূর্বের হাম্বলি শাইখ লতিফ আস-সুবকি, শামের হাম্বলি ফকিহ শাইখ মুহাম্মাদ আশ-শাত্তির মত। শাইখ কু’আইমি বলেছেন, শর্ত পূরণ করলে আধুনিক মোজায় মাসেহ জায়েজ (আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত)

5 অর্থাৎ কোনো বাড়তি কিছু দিয়ে আটকিয়ে রাখা লাগে না।

6 [উদাহরণস্বরূপ] অর্থাৎ চুরি করা কিছু না, অথবা পুরুষের জন্যে সিল্ক দ্বারা তৈরি না। (বুলুগুল কাসিদ)

7 এবং বাহ্যিক নাজাসাহ হতেও পবিত্র।

8 অর্থাৎ স্বচ্ছ হবে না।

9 অর্থাৎ পবিত্রতা অর্জনের পর খুফ পরিধান করার, যখন প্রথমবার সেটা মলমুত্র ত্যাগ বা অন্য উপায়ে বিনষ্ট হবে।

10 অর্থাৎ সফরের মাঝে কোথাও বেশিদিনের জন্যে অবস্থানের নিয়ত করে।

11 খুফের উপরের বেশিরভাগ অংশ মাসেহ করা ওয়াজিব। নিচের অংশ মাসেহ করা সুন্নাহ নয়। [বুলুগুল কাসিদ]

12 ব্যান্ডেজের ক্ষেত্রে তিনটি ক্ষেত্র হতে পারেঃ

১। ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ব্যান্ডেজ পরিধান করেছে। চিকিৎসার জন্যে যতটুক প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যান্ডেজ ঢেকে রেখেছে। এক্ষেত্রে সে ব্যান্ডেজ বাদে বাকি অংশ ধৌত করবে, আর ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করবে।

২। ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ব্যান্ডেজ পরিধান করেনি। চিকিৎসার জন্যে যতটুক প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যান্ডেজ ঢেকে রেখেছে। এক্ষেত্রে সে ব্যান্ডেজ বাদে বাকি অংশ ধৌত করবে, আর ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করবে না, বরং একটি তায়াম্মুম করে নেবে।

৩। ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ব্যান্ডেজ পরিধান করেনি। চিকিৎসার জন্যে যতটুক প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি ব্যান্ডেজ ঢেকে রেখেছে। এক্ষেত্রে সে ব্যান্ডেজ বাদে বাকি অংশ ধৌত করবে, আর ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করবে, আবার একটি তায়াম্মুমও করে নেবে। (দালিলুত তালিব)

উপরিউক্ত ক্ষেত্রগুলোতে সাধারণ পন্থা হচ্ছে, ব্যক্তি প্রথমে সাধারণ নিয়মে ওযু শুরু করবে। ধরা যাক, তার হাতের বাহুতে ব্যান্ডেজ। মুখ ধৌত করার পর হাতে যখন ব্যান্ডেজের স্থানে আসবে, তখন সে মাসেহ করবে (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং পাশাপাশি তায়াম্মুম করবে (যদি প্রযোজ্য হয়)। এরপর আবার ওযুর বাকি অংশ স্বাভাবিকভাবে শেষ করে নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *