গোসলের পূর্বশর্ত – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

গোসলের সাতটি পূর্বশর্ত রয়েছে-

১। যেগুলোর কারণে এটি ওয়াজিব হয়, তার সমাপ্তি1

২। নিয়ত

৩। ইসলাম

৪। আকল

৫। তাময়িয2

৬। তাহুর এবং জায়েজ পানি

৭। যা3 পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তা অপসারণ করা।

মুখ এবং নাকের ভেতরসহ সম্পূর্ণ শরীরে এবং নারীর যৌনাঙ্গের যে অংশ মলমুত্র ত্যাগের সময় বসলে প্রকাশিত হয়ে পড়ে, ততটুকুতে পানি পৌঁছানো ফরয। শরীরের সকল অংশে পানি পৌঁছেছে, এব্যাপারে দৃঢ় ধারণাই যথেষ্ট।

কেউ সুন্নাহ অথবা ফরয গোসলের যেকোনো একটির নিয়ত করলে তা অন্যটির জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাবে4

গোসল ফরয অবস্থায়, ওযু ছাড়া ঘুমানো মাকরুহ।

হাম্মাম [গোসলখানা] বানানো, তা বিক্রি করা এবং ভাড়া দেওয়া, তার মধ্যে তিলাওয়াত করা এবং সালাম দেওয়া মাকরুহ, তবে যিকর ব্যতীত।

সতর ঢেকে এবং হারাম কিছু সংঘটিত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকলে গোসলখানায় পুরুষদের প্রবেশ জায়েজ। [হারাম সংঘটিত হবার] ভয় থাকলে মাকরুহ। আর যদি [হারাম সংঘটিত হবার ব্যাপারে] জানা থাকে বা কোনো নারীর সেখানে ওজর ব্যতীত প্রবেশ করা হারাম।


ফুটনোট:

1 যেমন, বীর্যপাত/মাসিক শেষ হলে তারপর গোসল শুরু করতে হবে।

2 যেমন, যে বয়সে বাচ্চারা একই ধরণের দুটো জিনিসের তফাৎ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ‘গোসল করা’ এবং ‘পানিতে খেলা করা’ – এইগুলো আলাদা করতে শেখা ও বুঝা।

মাযহাবে ন্যূনতম সাত হিজরি বছর পূর্ণ হলে, সে মুমাইয়িয (আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত)।

3 যেমন, রঙ, নেইলপালিশ ইত্যাদি, অথবা এমন কিছু যার কারণে ত্বকের উপর আলাদা স্তর তৈরি হয় যার ফলে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে যদি মেহেদির মত কিছু, যা ত্বকে লাগিয়ে সরিয়ে ফেলা হলে আলাদা কোনো স্তর থাকে না কেবল রঙ বাকি থেকে যায়, এমতাবস্থায় সমস্যা নেই।

4 অর্থাৎ কারও যদি গোসল ফরয হয় কিন্তু সে ভুলে গিয়ে শুধু সুন্নাত গোসলের নিয়তে গোসল সেরে ফেলে, তার পবিত্রতা সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয়বার গোসল করার প্রয়োজন নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *