গোসল – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

সাতটি কারণে গোসল ওয়াজিব হয়-

১। বীর্য [বা নারীর যৌনাঙ্গ নির্গত অনুরুপ তরল] স্থানান্তরিত হওয়া। যদি কেউ <বীর্যের মূল স্থান হতে> তার স্থানান্তর অনুভব করে, এরপর আটকে ফেলে ফলে বীর্য বের না হয়, তাও গোসল ওয়াজিব হবে। যদি [ফরয] গোসলের পর উদ্দীপনা ছাড়াই বীর্য বেরিয়ে আসে, পুনরায় গোসল ওয়াজিব হবে না।

২। বীর্য [নারীর যৌনাঙ্গ নির্গত অনুরুপ তরল] তার পথ দিয়ে নির্গত হওয়া, এমনকি [অস্বাভাবিকভাবে] রক্তের [সাথে] হলেও। তবে বিবেচ্য হবে যদি তা উদ্দীপনার সাথে নির্গত হয়1; ঘুমন্ত ব্যক্তি ও অনুরুপ অবস্থা ব্যতীত2

৩। আসল3 পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ বা তার সমপরিমাণ অংশ, প্রতিবন্ধকতাহীন কোনো আসল যৌনাঙ্গে প্রবেশ করানো। এমনকি যদি তা পায়ুপথ কিংবা কোনো পশু বা মৃতেরও হয়4। এমন কারো- যার অনুরুপ কেউ সঙ্গমের উপযুক্ত5। ঘুমন্ত <বা পাগল বা অচেতন> অবস্থায় হলেও।

৪। কোনো কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে6, এমনকি যদি সে মুরতাদও হয় অথবা তার কুফরি অবস্থায় তার মধ্যে গোসল ওয়াজিবের অন্য কারণ <যেমনঃ সঙ্গম করা> নাও থাকে।

৫। হায়েজ হওয়া

৬। নিফাসের রক্ত নির্গত হওয়া7। রক্তপাত ছাড়া সন্তান জন্মদানে গোসল ওয়াজিব হবে না।

৭। যুদ্ধে শহিদ বা অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তি বাদে8 [অন্য সকল] মৃত্যু- এক্ষেত্রে গোসলের হুকুম তাআব্বুদি।

ঈদের সালাতের স্থান মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে9 তবে জানাযার সালাতের স্থান নয়। মসজিদের ভেতর কোনো কাজ10 থেকে উপার্জন নাজায়েজ।11


ফুটনোট:

1 যেমন কারও কোনো মেডিক্যাল কারণে বা শারীরিক কোনো সমস্যার কারণে কোনো উদ্দীপনা ছাড়া বীর্য বেরিয়ে আসতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু অযু প্রয়োজন।

2 ঘুমন্ত মানুষের ক্ষেত্রে যৌন-উদ্দীপনার সংশ্লিষ্টতা অপরিহার্য নয়, অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে বীর্যপাত হলেই গোসল ফরয।

3 সেটা আসল জননাঙ্গ হতে হবে, অর্থাৎ কোনো মানুষ পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও যদি তার নারী জননাঙ্গ থাকে, সেটার ক্ষেত্রে এই মাস’আলা খাটবে না।

4 বয়ঃসন্ধিকালে না পৌঁছালেও কোনো ১০ বছরের ছেলে কিংবা ৯ বছরের মেয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের কারণে গোসল ফরয হবার সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

5 যেমন ৯ বছরের মেয়ে এবং ১০ বছরের ছেলে, এক্ষেত্রে বালিগ হওয়া শর্ত নয়।

6 নারী, পুরুষ, উভলিঙ্গ/খুনসা সবার ক্ষেত্রেই। কেউ মুরতাদ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেও গোসল ফরয হবে। কোনো বালক-বালিকা যদি বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তার ক্ষেত্রেও গোসল ফরয হবে, যদি তার যাচাই করার সক্ষমতা অর্জিত হয়।

7 রক্তপাত ছাড়া সন্তান জন্মদানে গোসল ওয়াজিব হবে না।

8 এক্ষেত্রে গোসল করানো হবে না [বুলুগুল কাসিদ]

9 ঈদের সালাতের জায়গা বা ঈদগাহের ক্ষেত্রে মসজিদের মাস’আলা খাটবে। উদাহরণস্বরূপ, মাসিক অবস্থায় নারীরা মসজিদে আসবে না ইত্যাদি।

10 যদি না সেটা ইল্ম অর্জন সংশ্লিষ্ট কিছু হয়।

11 নাজায়েজ হবার পাশাপাশি এই ধরণের লেনদেন শরিয়তের দৃষ্টিতে বাতিল এবং মালিকানার হস্তান্তর সম্পূর্ণ হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *