তাকলিদ কার?[1]

ড. মুহাম্মাদ বাজাবির[2]

 কোন ছাত্রের মাথা আমি নিজের মত দিয়ে ভর্তি করতে চাইনা, বরং আমি মনে করি যে নিজস্ব মত থেকে মাযহাবের ইমামদের মতামতগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উত্তম। অনুগ্রহ করে বোঝার চেষ্টা করো আমি যা বলতে যাচ্ছিঃ

মাঝেমধ্যে কেউ কোন একটি মতের দিকে ঝুঁকতে পারে এবং সেই বিষয়ে ইমাম আল-হাজ্জাউই অথবা মাযহাবগুলোর সব ইমামদের বিপরীতে যেতে পারে; এটা পরিস্কার যে এমনটি ঘটতে পারে। কিন্তু তুমি যদি আমাকে জিজ্ঞেস কর, “কিন্তু আপনি কোনটির দিকে যাবেন?” অথবা “আপনি কোনটির ব্যাপারে উপদেশ দেন?” তাহলে তার উত্তর কেবল “একটি” হবে না এবং সেগুলোর মধ্যে অনেক ভিন্নতা থাকবে। কাকে তোমার অনুসরণ করা উচিত? তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকে নাকি নিম্নস্তরের কাউকে? আপনাআপনি/সাধারণভাবে তুমি কার তাকলিদ করবে?

এখনকার দিনে আমরা এমনকি এলাকার ইমামের মতের জন্যে আল-মুওয়াফফাক ইবনে-কুদামাহ [র] এর মত পরিত্যাগ করে বসি, কারণ হচ্ছে সেই ইমাম এই ব্যাপারে আলোচনা করেছেন এবং নিজের যুক্তি প্রদর্শন করেছেন, ফলস্বরূপ সেটা অধিক ভারী মতে পরিণত হয়েছে!

আমি তোমাকে যা বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে- দ্বীন এবং বুদ্ধি/আকল উভয়েই বলে যে- তোমার এমন কারও তাকলিদ করা উচিত যিনি জ্ঞান এবং তাকওয়ার দিক থেকে বড়, এবং যখন সাম্প্রতিককালের কেউ কোন মতকে অধিক শক্তিশালী বলে সেগুলোকে “অধিক বিশ্বাসযোগ্য”-রুপ প্রদান করে নিজের মত পেশ করে, তখন তাতে তোমার ধোঁকা খাওয়া উচিত হবে না। বরং তোমাকে বুঝতে হবে যে, ইবনে-কুদামাহ রহিমাহুল্লাহ মারা গেছেন এবং উনার এখন আর পাল্টা কথা বলার ক্ষমতা নেই। বলা হয়ে থাকে যে, একজন জীবিত মানুষ হাজারো মৃত মানুষকে পরাভুত করতে পারে। কিন্তু তুমি যে ব্যাপারে কম জানো, তা হচ্ছে- যদি ইবনে কুদামাহ রহিমাহুল্লাহ কবর থেকে উঠে এসে নিজের মতকে ডিফেন্ড করতেন, তাহলে তুমি নিজের মত পরিবর্তন করে বসতে এবং তাকে অনুসরণ করা শুরু করতে।

আমি যা বলছি, সে ব্যাপারে দয়া করে চিন্তা করো এবং গুরুত্ব দাও, কারণ এটা একটা স্পর্শকাতর বিষয়। তাঁরা এমনকি আমার সমলোচনা করতে পারে এবং বলতে পারে যে আমি অন্ধ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, আমি অন্ধ নই- না কোনো নির্দিষ্ট মতের প্রতি, না কোনো মাযহাবের প্রতি, না কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি। কত বিষয় এবং ক্ষেত্রেই না আমি মাযহাবের বিপরীতে গিয়েছি! এটা সম্ভব হতে পারে যে সেটা করতে গিয়ে আমি বেশিই দৃঢ় ছিলাম এবং [মাযহাবের প্রতি] কম শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছি, তাই আমার শিষ্টাচারে ঘাটতির জন্যে ক্ষমা করো এবং আল্লাহ্‌ যাতে আমাকে ক্ষমা করে দেন।

আমি তোমাকে যা বলতে চাচ্ছি, ইয়া তলিব [হে ছাত্র], তোমার প্রতি আমার উপদেশ হচ্ছে- তুমি এমন কারও মত গ্রহণ করবে যিনি অধিক জ্ঞানী এবং উঁচুতে। ওয়াল্লাহি, তুমি যদিও আমাকে [কখনো] ইবনে-কুদামাহর মতকে অনুমোদন না দিয়ে অন্য মতকে অধিক প্রাধান্য দিতে দেখ, [তা-ও] ইবনে-কুদামাহর তাকলিদ করো। আমার উপদেশ হচ্ছে- আমার কথাকে ত্যাগ করবে এবং আমার থেকে বড় ও উঁচু কারও মতকে গ্রহণ করবে।

এই ব্যাপারটি কি বুঝতে পেরেছেন ভাইয়েরা আমার? আমি কখনো মানুষকে উম্মাহর বড় আলিমদের বাদ দিয়ে আমার নিজস্ব মতামতের উপর তাকলিদ করতে আহবান করব না। .

মহান ইমামের তাকলিদ করো এবং আল্লাহ্‌ যদি তোমার ভাগ্যে বড় হায়াত এবং ভবিষ্যতে জ্ঞান দান করেন, এবং যদি তুমি মুজতাহিদে পরিণত হও, তাহলে তখন চাইলে তুমি তাদের [ইমাম] মতের বিরুদ্ধে যেও এবং তোমার চোখে যেটা অধিক শক্তিশালী মনে হয়, সেটার অনুসরণ করো।

কিন্তু অন্তত আমরা [সেজন্যে] আগে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছে নিই। আর সেই স্তরে পৌঁছবার আগেই ইজতিহাদ করা হারাম এবং সেটা রব্বুল আলামিনের শারিয়ার সাথে খেলা করা হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে, এটা রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের] কথার মধ্যেও পড়ে যায়-

“মানুষজন তাদের মধ্যে মূর্খ ব্যক্তিদের তাদের নেতা বানাবে, যাদেরকে ফতওয়া জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা জ্ঞান ছাড়া সেগুলো প্রদান করবে। তাই তাঁরা ভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও ভ্রষ্টতার পথে ধাবিত করবে।”

আর যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করার যোগ্য না হয়েও ইজতিহাদ করে, সে কি তেমন ব্যক্তি নয় যে যথাযথ জ্ঞান ছাড়া ফতওয়া প্রদান করে? উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ।

তাই, শেষকথা হচ্ছে- তোমরা- আমার ভাইদের জন্যে এবং সকলের জন্যেই আমার উপদেশ হচ্ছে- যদি তুমি আলিমদের মধ্যে ইখতিলাফ দেখতে পাও, তাহলে তুমি এমন কারও মতকে গ্রহণ করবে যে অধিক জ্ঞানী। কেবল কেউ কথায় পারদর্শী হবার কারণে এবং তার যুক্তি প্রদর্শনে প্রত্যয় জন্মাতে পারার কারণে, এবং কেবলমাত্র সে একটি হাদিসকে “দুর্বল” চিহ্নিত এবং আরেকটিকে “সহিহ” করার কারণে ধোঁকা খেও না। সমস্যা হচ্ছে, [মত ডিফেন্ড করার জন্যে] অন্য দল [মাযহাবগুলোর প্রাচীন ইমামগণ] আর আমাদের সাথে নেই, তাঁরা চলে গিয়েছেন।


[1] লেখাটি “দি হানবালি মাযহাব” পেইজ হতে সংগৃহীত।

[2] শাইখ বাজাবির ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ মদিনা হতে ব্যাচেলর এবং পিএইচডি, আর উম্ম আল-কুরা ইউনিভার্সিটি, মক্কা হতে মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে উনি কিং আব্দুল-আযিয ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এবং হাম্বলি মাযহাবের উপর দরস দেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *