তারাবিহ এবং কাযা সংক্রান্ত কিছু বিষয়

তারাবিহ সংক্রান্ত কিছু পয়েন্ট [শাইখ করিম হিলমীর পোষ্ট অবলম্বনে]ঃ

১। তারাবিহর সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। (সুন্নাত সালাতের মধ্যে সূর্যগ্রহণের সালাত এবং বৃষ্টির সালাতের পর তারাবিহ সবচে গুরুত্বপূর্ণ- বিদায়াতুল আবিদ)

২। সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে মসজিদে জামাআতে তারাবিহ পড়া। রমযানের রাতে মসজিদে জনসমাগম দ্বীনের অন্যতম শিয়ার। অধিক জমসমাগমপূর্ণ মসজিদ উত্তম।

৩। কেউ যদি জামাআতে পড়তে না পারে, তাহলে সে নিজেকে সালাত থেকে নিবৃত্ত করবে না। যতটুক পারে আদায় করবে।

৪। সুন্নাহ, মুস্তাহাব এবং পূর্ণ সওয়াবের জন্যে তারাবির সালাত ন্যূনতম বিশ রাকআত। এই ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা) থেকে হাদিস দুর্বল সনদে হাদিস রয়েছে এবং এটা সাহাবীদের আমল এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে শত বছর ধরে এই আমল চলে আসছে। এটা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ, এবং কিছু মালেকির মত।

[মাযহাবে ন্যূনতম বিশের ব্যাপারে এসেছে, এর চেয়ে কম হলে কিয়ামুল লাইল গণ্য হবে। শাইখ ফারিস ফালিহের মতে অবস্থা অনুসারে বিশের কমবেশি পড়া যাবে। শাইখ ওয়ালিদ আল-মানিসি বলেছেন বিশের কমবেশি আদায় করার মত [ইবনে তাইমিয়ার] মাযহাবে একটি গ্রহণযোগ্য কওল।]

৫। বিশ রাকআত থেকে বেশি পড়তে সমস্যা নেই। ইমাম আহমদ থেকে এই ব্যাপারে বর্ণনা আছে।

৬। যদি কারও কাযা সালাত থাকে, তাইলে রমযানের রাতে সেগুলো আদায় করা জায়েজ এবং খুবই উত্তম। সুন্নাত সালাত থেকে কাযা সালাতের মর্যাদা নিঃসন্দেহে উত্তম। সুন্নাত সালাত আদায়কারি ব্যক্তির পিছে ফরয সালাতের নিয়তে ইক্তিদা করা জায়েয নেই, এটা হানাবিলা এবং জুমহুরের মত।

৭। কাযা সালাত, সংখ্যায় যতই হোক, আদায় করা ওয়াজিব। এটা সকল মাযহাবের ঐক্যমত। এই ব্যাপারে খিলাফ বিবেচ্য হলেও দুর্বল। (ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কায়্যিম এবং কেবল অল্প কিছু আলেম এখানে দ্বিমত করেছেন)

৮। মাযহাব অনুসারে কাযা সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে তারতিব রক্ষা করা ওয়াজিব। [অর্থাৎ প্রথমে যুহর, এরপর আসর এভাবে]। তারতিব রক্ষা করা বেশ কঠিন হলে অন্য মত (যে মতে এটা শর্ত না) অনুসরণ করতে সমস্যা নেই।

৯। তারাবিহর ওয়াক্তঃ এশার ফরয এবং সুন্নাতের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত। রাতের প্রথমভাগে পড়া উত্তম। এশার সুন্নাত না পড়ে তারাবি শুরু করলে সুন্নাত মিস গেছে গণ্য হবে।

১০। তারাবিহর মাঝে সামান্য বিরতিতে নফল সালাত আদায় করা অনুত্তম। ইমাম আহমদ এই ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। সে অন্য মুসল্লিদের সাথে সালাত আদায় করবে, তাদের সাথেই বিরতি নেবে। জামাআত শেষে সে নিজের মত সালাত পড়তে পারে।

১১। তারাবিহতে এক খতম দেওয়া উত্তম। কঠিন হলে এর চেয়ে না বাড়ানোও উত্তম। যদি ইমাম এক পারার কম পড়েন, তাইলে ঐ পারার বাকি অংশ পরবর্তীতে সালাতে পড়ার চেষ্টা করা।

তাহাজ্জুদ এবং তারাবিহঃ তাহাজ্জুদ এবং তারাবিহ মাযহাবে আলাদা ধরা হয়। কেউ তাহাজ্জুদ পড়তে চাইলে সে ইমামের পেছনে বেতর পড়বে না, অথবা বেতর পড়লেও শেষে সালাম না ফিরিয়ে আরেকটি রাকাআত যোগ করে জোর করে নেবে। পরেরটি উত্তম। [রওদুল মুরবির উপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া]

কাযা সালাতের বিধানঃ

মাযহাব অনুসারে কাযা সালাতের হুকুম হচ্ছে, দৈনন্দিন অপরিহার্য কাজ বাদে কাযা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করা ওয়াজিব। কাযা বাকি রেখে সুন্নাত সালাত আদায় করলে সেটা সহিহ নয়। তারতিব অনুসারে কাযা করতে হবে।

ব্যক্তি বালিগ হওয়া থেকে (ছেলেদের ক্ষেত্রে ১০-১৫ বছরের মধ্যে আসে) কাযার আনুমানিক সংখ্যা হিসেব করবে। এরপর আদায় করতে থাকবে। বালিগ হওয়ার চিহ্ন হচ্ছে তিনটিঃ

১। কামনার সাথে বীর্যপাত হওয়া

২। গোপনাঙ্গে চুল হওয়া

৩। উপরের কোনোটা না আসলে ১৫ চান্দ্রবছর হলেই বালেগ ধরা হবে।

মেয়েদের ক্ষেত্রে আরেকটি চিহ্ন রয়েছে- মাসিক হওয়া। [শারহুল মুমতি]

উল্লেখ্য মাযহাবের মুতামাদের শর্তাদি কঠিন। শাইখ কুআইমিও এমন বলেছেন।

শাইখ মাজেদ জাররার অবস্থা অনুসারে পরামর্শ দেন। তিনি বলেছেন, বাকি মাযহাবগুলোতে কাযার শর্তে শিথিলতা আছে। উনি সাধারণত জুমহুরের মতে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। যদি এক মাসের সালাত কাযা হয়, তাইলে সেটা (মাযহাব অনুসারে) কয়েকদিনে পড়ে নেওয়া যাবে। আর যদি কয়েক বছর হয়, তাহলে (জুমহুরের মত অনুসারে) প্রতিদিন ১-২ দিনের সালাত কাযা করতে বলেন। আর কেউ যদি ওয়াক্তের ফরয সালাতই ঠিকমত আদায় করতে না পারেন, তাঁর জন্যে আগে ওয়াক্তের সালাত ঠিক করতে বলেন।

সিরিয়ার হাম্বলি শাইখ আব্দুর রহমান আশ-শামিকে এক প্রশ্নকর্তা বলেছিলেন তিনি দৈনিক ১ দিনের কাযা আদায় করেন। তিনি বলেছিলেন, এটা ভাল তবে আরও বাড়িয়ে ২-৩ দিনের আদায় করলে উত্তম, তাড়াতাড়ি শেষ হবে।

এখন কেউ যদি মুতামাদ অনুসরণ করেন, তাঁর জন্যে মুতামাদের শর্তাদি মেনে চলতে হবে। তারাবিহ তাঁর জন্যে পড়া জায়েজ নয়, কাযা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত। কেউ যদি এটা মানতে অপারগ হন, তাহলে তিনি অন্য মাযহাবের মত অনুসরণ করতে পারেন এবং তারাবিহ বা সুন্নাত সালাত আদায় করতে পারেন। এক্ষেত্রে সেই মাযহাবের আলেমের কাছে সংশ্লিষ্ট মাসআলা জেনে নিবেন। তবে মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, উভয় ক্ষেত্রেই কাযা সালাত অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং আদায় করা ওয়াজিব।

References:

https://thearchive.me/ask/MajedJarrar/-f20d0141/

References:

https://thearchive.me/ask/MajedJarrar/-f20d0141

https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1354385988272602&id=100011036416067

meeraath.wordpress.com

https://www.facebook.com/kareem.a.helmy/posts/10209132487787052

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *