তায়াম্মুম – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

তায়াম্মুম হচ্ছে, যেসব কাজে পানি-নির্ভর পবিত্রতা1 অর্জন করা হয়, সেসকল ক্ষেত্রে শারইভাবে [বৈধ] অক্ষমতার2 কারণে, তার পরিবর্তে মুখ3 এবং দুই হাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মাটি ব্যবহার করা। তবে ব্যতিক্রম হলো- শরীর ব্যতীত4 অন্য স্থানের5 নাজাসাত অথবা প্রয়োজনে মসজিদে অবস্থান করার ক্ষেত্র6

এর তিনটি পূর্বশর্ত হচ্ছে-

১। সালাতের ওয়াক্ত7 শুরু হওয়া

২। পানির অপারগতা – ব্যক্তির কাছ থেকে পানি আটকিয়ে রাখা ইত্যাদি কারণে8

৩। অথবা [পানির] সন্ধান বা ব্যবহারে তার শারীরিক বা আর্থিক বা অন্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কার কারণে।

যে ব্যক্তি এতটুকু পানি খুঁজে পায় যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সম্ভব নয়, তার জন্যে ওয়াজিব হলো- প্রথমে ঐ পানিটুকু ব্যবহার করা9 এবং এরপর তায়াম্মুম করা।

তায়াম্মুম করতে হবে – তাহুর10, মুবাহ11 এবং পোড়া নয়12 এমন মাটি দ্বারা, যাতে ধুলো আছে যা [স্পর্শ করলে] হাতের সাথে লেগে যায়। যদি তা না থাকে, এমতাবস্থায় শুধু ফরয সালাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে সালাতের ন্যূনতম সীমার অতিরিক্ত করবে না13। আর পরবর্তীতে এই সালাত পুনরায় পড়তে হবে না।

তায়াম্মুমের ফরয হচ্ছে [পাঁচটি]-

১। মুখ মাসেহ করা

২। হাতের কবজি পর্যন্ত মাসেহ করা।14

৩। ধারাবাহিকতা15

৪। ওযুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমপরিমাণ নিরবিচ্ছিনতা16 বজায় রাখা

[৩ ও ৪] ছোট হাদাসের জন্যে17

৫। নিয়ত নির্দিষ্ট করা18– যে, [ছোট বা বড়] হাদাসের জন্যে নাকি নাজাসাতের জন্যে তায়াম্মুম করা হচ্ছে। একটির জন্যে নিয়ত করা আরেকটির জন্যে যথেষ্ট নয়। তবে উভয়ের জন্যে নিয়ত করলে তা যথেষ্ট।

তায়াম্মুম ভেঙ্গে যায় [পাঁচটি কারণে]-

১। যেগুলো দ্বারা অযু ভেঙ্গে যায়।

২। ওয়াক্ত শেষ হওয়া19

৩। পানির উপস্থিতি20, যদি এর অনুপস্থিতির কারণে তায়াম্মুম করা হয়।

৩। যে কারণে তায়াম্মুম জায়েজ হয়েছিল21 তা দূর হওয়া।

৪। যার উপর মাসেহ করা হয়েছিল22, তা খুলে ফেলা।


ফুটনোট:

1 যেমন, অযু-গোসল, বা শরীরের নাজাসাহ পরিস্কারের বাদাল বা প্রতিস্থাপন হিসেবে।

2 পানির অনুপস্থিতি বা পানি ব্যবহারে ক্ষতি ইত্যাদি কারণে

3 মুখ বলতে চুলের গোঁড়া থেকে চিবুক এবং এক কান হতে আরেক কান পর্যন্ত।

4 শরীরে নাজাসাত থাকলে এবং পানি না থাকলে/না ব্যবহার করা গেলে, সেই নাজাসাত কোনোকিছু দিয়ে যতটুকু সম্ভব অপসারণ করে অবশিষ্টাংশের জন্যে তায়াম্মুম করা যাবে।

5 যেমন, সালাতের জায়গা কিংবা কাপড়ে। আগের মত এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করা যাবে না।

6 পানি না পাওয়া গেলে মসজিদে অবস্থানের জন্যে তায়াম্মুম ওয়াজিবও না [বুলুগুল কাসিদ] , সহিহও না।

7 ওয়াক্ত বলতে ফরয সালাতের সময় অথবা যেসকল সুন্নাহ সালাতের জন্যে সময় প্রযোজ্য, যেমন, সালাতুত দুহা। সালাতের সময় শুরু না হলে তায়াম্মুম জায়েজ হবে না।

8 অথবা পানি কারও সাধ্যের বাইরে থাকা, শত্রুপক্ষ দ্বারা জব্দ করা হলে, অত্যধিক দাম হলে ইত্যাদি।

9 অযু বা গোসলের নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী শুরু করবে, এবং যতটুকু সম্ভব হবে পানি দিয়ে করবে। এরপর সাধারণ নিয়মে তায়াম্মুম করে নেবে।

10 অর্থাৎ নাজাসাহমিশ্রিত না, বা অন্যান্য পদার্থ যেমন, ভুট্টা ইত্যাদি মিশ্রিত না।

11 যেমন, এমন জমিতে যেখানে মালিকের অনুমতি পাওয়া যায়নি, সেখানে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম জায়েজ নয়।

12 যেমন, এমন কলসি বা পাত্র যা মাটি পুড়িয়ে বানানো হয়, এরকম কলসি পড়ে ভেঙ্গে গেলে সেই অংশ দিয়ে তায়াম্মুম জায়েজ না।

13 এমতাবস্থায় শুধু সালাতের ফরয অংশগুলো পালন করতে হবে, যেমনঃ সূরা ফাতিহা পড়তে হবে কিন্তু আরেকটি সূরা মেলানো বাদ দিতে হবে, কারণ সেটি সুন্নাহ। একইভাবে সুবহানা রব্বিয়াল আজিম একবার পড়তে হবে ইত্যাদি।

14 পদ্ধতিঃ হাত মাটিতে লাগিয়ে হাতের আঙ্গুলগুলোর ভেতরের অংশের ধুলো দিয়ে মুখ মাসেহ করা। এরপর তালুর বাকি ধুলা দিয়ে হাত মাসেহ করা।

15 প্রথমে মুখ, এরপর হাত।

16 বিরতি বলতে ওযুর ক্ষেত্রে এক অঙ্গ ধোয়ার পর পরবর্তী অঙ্গ ধোবার পূর্বে এমন সময় পার হয়ে যাওয়া, যাতে সাধারণ তাপমাত্রায় প্রথম অঙ্গ শুকিয়ে যায়। যেমন, কেউ মুখ ধোবার পর হাত ধোবার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, এতে যদি হাত ধোওয়া শুরু করার পূর্বেই তার মুখ শুকিয়ে যায়, তাহলে তাকে পুনরায় ওযু করতে হবে, অথবা তায়াম্মুম করতে হবে যদি সেই তায়াম্মুম ওযুর বদলে করা হয়।

17 অর্থাৎ ওযুর পরিবর্তে তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে। গোসলের ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করলে এই মাস’আলা খাটবে না।

18 অর্থাৎ শরীর থেকে নাজাসাহ অপসারণের বদলে তায়াম্মুম করলে সেই তায়াম্মুম দিয়ে ‘ওযুর বদলে করা তায়াম্মুম’ এর কাজ হবে না। আবার ‘ওযুর বদলে করা তায়াম্মুম’ দ্বারা ‘গোসলের বদলের তায়াম্মুম’ এর কাজ হবে না, তাকে পুনরায় তায়াম্মুম করতে হবে।

19 নতুন ওয়াক্তের জন্যে আবার তায়াম্মুম করতে হবে।

20 যদি পানির অনুপস্থিতির কারণে তায়াম্মুম করা হয়। অর্থাৎ কেউ আশেপাশে খোঁজ নিয়ে এবং মানুষকে জিজ্ঞেস করে পানি না পেয়ে তায়াম্মুম করে, তাহলে যখন সে পানি খুঁজে পাবে, তখন তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে।

21 অর্থাৎ কোনো অসুস্থতা বা ইত্যাদি কারণে কেউ তায়াম্মুম করলে সেই সমস্যা দূর হয়ে গেলে তার তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে।

22 অর্থাৎ কোনো কিছু মাসেহের সাথে তায়াম্মুম করলে [খুফ এর উপর মাসেহ অধ্যায় দ্রষ্টব্য], যা মাসেহ করা হয়েছিল তা অপসারণ করলে তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *