তিলাওয়াতে সিজদাহর খুঁটিনাটি

হুকুমঃ সুন্নাহ, এটা মাযহাবে নফল সালাতের অন্তর্গত।

তিলাওয়াতের আয়াত ১৪টি। এগুলো হচ্ছেঃ

১। সূরা আরাফঃ ২০৬

২। সূরা রাদঃ ১৫

৩। সূরা নাহলঃ ৪৯-৫০

৪। সূরা ইসরা ১০৭-১০৯

৫। সূরা মারইয়ামঃ ৫৮

৬। সূরা হজঃ ১৮

৭। সূরা হজ-৭৭

৮। সূরা ফুরকানঃ ৬০

৯। সূরা নামল- ২৫-২৬

১০। সূরা সাজদাঃ ১৫

১১। সূরা ফুসসিলাত ২৭-২৮

১২। সূরা নাজমঃ ৬২

১৩। সূরা ইনশিকাকঃ ২১

১৪। সূরা আলাকঃ ১৯

(শারহুল উমদাহ, হাতেম আল-হাজ)

সূরা সাদের (২৪ আয়াত) সিজদাহ শোকরের সিজদাহর অন্তর্ভুক্ত (রওদুল মুরবি)

  • কারা সিজদাহ দিবে?
    • তিলাওয়াতকারী এবং মন দিয়ে শোনা ব্যক্তি, অর্থাৎ যিনি তাঁর শোনার মাধ্যমে তিলাওয়াতের নিয়ত করছেন। যিনি মনযোগ ছাড়া শুনছেন, তাঁর জন্যে হুকুম প্রযোজ্য নয়। (শারহুল যাদ)
    • তিলাওয়াতকারী শ্রবণীয় ব্যক্তি ইমামকে অনুসরণের নিয়ম মেনে চলবেন। যেমন যার তিলাওয়াত শুনবেন, সে তাঁর ইমাম হওয়ার যোগ্য হতে হবে। তাই নারী বা খুনসার তিলাওয়াত শুনে পুরুষ সিজদা দেবে না। তবে َউম্মি (সূরা ফাতিহা ঠিকভাবে পাঠে অক্ষম) বা মুমায়্যিযের জন্যে দিবে, কারণ তিলাওয়াতে সিজদাহতে সূরা ফাতিহা ফরয না। আর মুমায়্যিযের ইমামত নফল সালাতে সহিহ।
    • তেমনই তিলাওয়াতকারী সিজদা না দিলে শ্রবণ করা ব্যক্তি সিজদা দেবে না। শ্রবণ করা ব্যক্তি তিলাওয়াতকারীর আগে সিজদা দেবে না। সে তিলাওয়াতকারীর পরপর দেবে। তিলাওয়াতকারীর ডান ফাঁকা থাকলে শ্রবণীয় ব্যক্তি তাঁর বামদিকে থেকে সিজদা দেবে না। (যেমন সালাতে ইমামের ডানদিক ফাঁকা থাকলে আমরা বামদিকে ইক্তিদা করি না)। [মানার আস-সাবিল]
    • তাই রেকর্ড/টিভিতে শুনলে শ্রবণকারী সিজদা দেবে না [আখসারের নোট]।
  • তিলাওয়াতের সিজদাহর পূর্বশর্তঃ নফল সালাতের ন্যায়, অর্থাৎ কিবলাহর দিকে ফেরা, আওরাহ ঢাকা, ওযু করা/পবিত্র হওয়া, কারণ মাযহাবে এটা নফল সালাতের অন্তর্গত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম এবং শাইখ ইবনে আকিলের মত অনুযায়ী, এটা দুয়ার অন্তর্গত এবং এখানে এসব শর্ত নেই।
  • তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়মঃ
    • তাকবির দেবে, এরপর সিজদাহ করবে, সুবহানা রব্বিয়াল আলা একবার পড়বে অন্তত (অন্যান্য বর্ণিত দুয়াও চাইলে পড়তে পারে), এরপর তাকবির দিয়ে উঠে বসবে। তাশাহহুদ না পড়ে সালাম ফিরাবে। সালাতের মধ্যে হলে সালাম ফিরাবে না, একবারে সালাত শেষে ফিরাবে।
    • তিলাওয়াত আর সিজদাহর সামান্য বিরতি থেকে বেশি সময় নেওয়া যাবে না। [দলিলুত তলিব]
    • সালাতের মধ্যে মুক্তাদি যদি নিজে তিলাওয়াতে সিজদাহর আয়াত পাঠ করে ইচ্ছাকৃতভাবে সিজদা দেয়, যেখানে ইমাম দিচ্ছে না, তাঁর সালাত বাতিল।
    • একইভাবে যেহরি [উচ্চশব্দে] সালাতে যদি ইমাম সিজদাহ দেয়, কিন্তু মুক্তাদি না দেয়, মুক্তাদির সালাত বাতিল। কারণ হাদিসে ইমামকে অনুসরণ এবং তাঁর খিলাফ করতে মানা করা হয়েছে। [মানার আস-সাবিল]
    • নিঃশব্দ সালাতে ইমামের জন্যে তিলাওয়াতে সিজদাহর আয়াত পাঠ করা মাযহাবে মাকরুহ। [শাইখ ইবনে আকিলের মতে, মাকরুহ নয়]
      • ইমাম যদি এমন সালাতে [যুহর, আসর] পাঠ করে এবং সিজদা দেয়, মুক্তাদি ইমামকে অনুসরণ করবে না। এটা হারাম। কারণ ইমাম একে ভুল করতে পারে, দ্বিতীয়ত সে নিজেও আয়াত শুনেনি। সে বরং ইমাম সিজদাহ থেকে উঠে আসা পর্যন্ত বিরতিতে থাকবে।

সুত্রঃ

উমদাতুত তলিব, ইমাম বুহুতি

মানার আস-সাবিল, ইবনে দুয়াইয়ান

তাহকিকুল মুরাদ ফি শারহি মতন আল-যাদ, ইবনে আকিল

রওদুল মুরবি, ইমাম বুহুত

শারহুল উমদাহ, শাইখ হাতেম আল-হাজ

Notes on Akhsar Al-Mukhtasarat, Rameez Abid

সংকলনঃ হাম্বলি ফিকহ টিম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *