নারীদের মাহরাম ছাড়া সফর

নারীদের কি মাহরাম ছাড়া সফর জায়েজ?

উত্তরঃ মুতামাদ এবং বিভিন্ন হাদিস অনুসারে, ৭ বছরের বড় মেয়ে/নারীদের সাধারণত মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েজ নয়। এই নিষেধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে- নফল হজের জন্যে সফর করা, কাউকে দেখতে যাওয়া, ব্যবসা বা অন্য যেকোনো সফর যেখানে মাহরাম প্রয়োজন।

বর্ণিত হয়েছে, যে দূরত্বের সফরে সালাত কসর করা জায়েজ (১৩১+/১৩৮ কিমি), তাঁর চেয়ে কম দূরত্বে সফরে মাহরাম শর্ত না।

ইমামগণ আরেকটি মত উল্লেখ করেছেন, যা মাহরাম ব্যতীত উপরের এল্লেখিত সফরগুলো এবং অন্য সকল জায়েজ সফরের অনুমতি দেয়, যদি পথ নিরাপদ থাকে।

উৎস কাশশাফ আল-কিনা, আল-ফুরু, আল-ইনসাফ।

উত্তরপ্রদানেঃ শাইখ আবু ইব্রাহিম জন স্টারলিং (লিঙ্ক)

রাস্তা নিরাপদ হলেও নারীরা মাহরাম ছাড়া সফর করতে পারবে না?

উত্তরঃ না।

উত্তরপ্রদানেঃ শাইখ ইউসুফ বিন সাদিক আল-হাম্বলি (লিঙ্ক)

এটা মাযহাবের মুতামাদ অনুসারে। আর শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে, কোনো ইবাদাতের জন্যে, ফরয বা নফল, যেমনঃ হজ, বাবা-মাকে দেখতে যাওয়া, ইলম অর্জন ইত্যাদির কারণে সফর নিরাপদ হবার শর্তে মাহরাম ছাড়া সফর জায়েজ। শাইখ ইবনে জিবরিন এই মত গ্রহণ করেছেন।

শাইখ ড. ওয়ালিদ আল মানিসি বলেছেনঃ “যদি আমরা গ্রহণ করি যে, মূলত নারীর নিরাপত্তা এই নিষেধের কারণ, আমাদের তবু প্রথমে বলতে হবে যে, মাহরাম ছাড়া নারীর কখনও সফর না করা আদর্শিক। তবে এরপরও প্লেনের মাধ্যমে [মাহরাম ছাড়া] অন্য নারীদের বা পারিবারিক সদস্যদের নিরাপদ সঙ্গে সফর করা জায়েজ, সাথে সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিচের দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলাঃ

  • সফরের জন্যে প্রয়োজন থাকবে।
  • অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে।
  • মাহরাম দ্বারা সফর কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।
  • প্লেনের যাত্রাপথে ট্রানজিট বিরতি না থাকা।
  • তাঁর মাহরাম তাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেবে, আরেকজন মাহরাম নিতে আসবে।
  • তাঁর অন্য নারী বা পরিবারের সদস্যদের সাথে সফর করার চেষ্টা করা উচিৎ, যারা তাঁর পাশে বসবে।
  • সফর জটিল প্রকৃতির না হওয়া, অর্থাৎ প্রশাসনিক কার্যকলাপ, বড় অপেক্ষা-বিরতি, চেকপয়েন্ট ইত্যাদি দিয়ে ভরপুর হবে না।

সংক্ষেপে, আসল (default) হচ্ছে নারীরা মাহরাম ব্যতীত সফর হারাম। এটা জুমহুরের অবস্থান। তবে যদি তাঁর প্রয়োজন থাকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক কোনো ফায়দা/উপকারের কারণে, এবং সেটা অন্য উপায়ে অর্জন করা সম্ভব নয়, তাহলে সে যারা একে জায়েজ বলেছেন তাদের মত নিতে পারেন। শর্ত হচ্ছে, তাঁর সফর নিরাপদ এবং সে কোনো ক্ষতির মুখোমুখি হবে না।”

নারী যদি সামনের গাড়িতে থাকে, আর মাহরাম পিছের গাড়িতে- সেটা কি মাহরামের শর্ত পূরণ করবে?

শাইখ ড. আহমদ বিন সামিহ আব্দিলওয়াহহাব বলেছেন, “যদি তাঁরা ঠিক সামনে-পিছে থাকতে পারে, তবে আমার ধারণায় সমস্যা নেই, যেভাবে পূর্বের সুন্দর সময়ে সামনে-পিছে উটে সফর করত। আল্লাহু আ’লাম।

শাইখ জাহেদ ফেত্তাহ বলেছেন, “একই গাড়িতে থাকার কোনো শর্ত আছে বলে অনুমিত হয় না। যতক্ষণ তাঁরা একসাথে এবং একে অপর থেকে দূরে নন, এটা মাহরামের সাথে সফর হিসেবে বিবেচ্য হবে। এছাড়াও, এই হুকুমের প্রজ্ঞা হচ্ছে, যদি নারীর সফরে মাহরাম পুরুষকে প্রয়োজন হয়, তখন সে তাকে পাবে। এটাও এমন [আলোচ্য] ক্ষেত্রে পূরণ হচ্ছে। তাই এটা যথেষ্ট হিসেবে প্রকাশমান এবং মাহরামের সাথে সফর হিসেবে বিবেচ্য হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *