নারীর রক্ত – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

[হায়েয]

হায়েয [মাসিক] শুরুর সর্বনিম্ন বয়স হচ্ছে ৯ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫০ বছর। গর্ভবতী নারীর মাসিক হয় না।

মাসিকের সর্বনিম্ন সময়সীমা হচ্ছে একদিন একরাত এবং দীর্ঘতম সময়সীমা ১৫ দিন; সাধারণত এটি ছয় বা সাতদিন হয়ে থাকে।

দুই মাসিকের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যবধান ১৩ দিন1। সাধারণত তা মাসের বাকি অংশ2। এই ব্যবধানের কোনো ‘দীর্ঘতম’ সময়সীমা3 নেই।

[মাসিক হওয়া নারীর] জন্য জায়েজ নয়-

১। সালাত আদায় করা; [পরবর্তীতে] তা কাযা করতে হবে না।

২। সাওম পালন করা; [পরবর্তীতে] তা কাযা করতে হবে।

৩। যোনিপথে তার সাথে সঙ্গম করা; [যদি কেউ তা করে ফেলে] এক বা আধা দিনার4 কাফফারা প্রদান করা ওয়াজিব হবে5

তবে [সঙ্গম ছাড়া] অন্য সবধরনের অন্তরঙ্গতা জায়েজ।

.

[নিফাস]

নিফাসের [প্রসবোত্তর নির্গত রক্ত] কোনো ‘সর্বনিম্ন’ সীমা নেই6; এর দীর্ঘতম সীমা হচ্ছে ৪০ দিন7

এর হুকুম প্রযোজ্য হবে, যদি প্রসবকৃত [ভ্রূণ/বাচ্চার মাঝে] মানুষের বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান থাকে8

[রক্ত বন্ধ হয়ে] পরিচ্ছন্ন হয়ে গেলে বাকি সময়টুকু পবিত্রতার সময় হিসেবে গণ্য হবে; এই সময়ে শারীরিক সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া মাকরুহ9

ইদ্দত10 এবং বালিগ হওয়া বাদে, [অন্যান্য] বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এটি মাসিকের মতই।


ফুটনোট:

1 এখানে সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সময় বা দীর্ঘতম সময় দ্বারা বোঝান হচ্ছে যে, এই সময়ের বাইরে, অর্থাৎ কারও যদি ৯ বছরের কম বয়সে রক্ত বের হয় অথবা রক্ত নির্গত হবার সীমা একদিনের হতে কম হয়, তাহলে সেই রক্তকে হায়েয হিসেবে গণ্য করা হবে না। যেক্ষেত্রে আলাদা মাস’আলা রয়েছে এবং সে সময়ে নারীর জন্যে সালাতের বিধান প্রযোজ্য হবে, তবে তাকে প্রত্যেক ওয়াক্তে আলাদা করে ওযু করে সালাত আদায় করতে হবে।

2 অর্থাৎ কারও যদি মাসিকচক্র মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ৭ তারিখে শেষ হয়, তাহলে পরের মাসিক আগামী মাসের এক তারিখে শুরু হবে—বেশিরভাগ সময়ে এরকম ধরণেরই ঘটে।

3 অর্থাৎ কোনো নারীর টানা দুইমাস বা আরও বিরতি দিয়ে মাসিক শুরু হতে পারে।

4 এক দিনার বা আধা দিনারের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেবার মত আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে মুসাফিরের সালাত সংক্ষিপ্ত করা এবং পূর্ণ করার মধ্যে একটি বেছে নেওয়া।

5 এটি পুরুষের উপর। তবে নারী যদি তাতে রাজি থাকে তার জন্যও একই হুকুম প্রযোজ্য।

6 অর্থাৎ এমন হতে পারে যে, নারীর বাচ্চা প্রসবের পর কোনো রক্তই নির্গত হল না। এক্ষেত্রে তার নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

7 ৪০ দিনের পর রক্তপাত হলে সেটা অবস্থাভেদে হায়িয অথবা ইস্তিহাদা বলে গণ্য হবে।

8 অর্থাৎ- অনেকসময় নারীদের বাচ্চা পরিপূর্ণ হবার আগেই প্রসব হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কখন প্রসবোত্তর রক্ত, নিফাস বলে গণ্য হবে? – এটা হচ্ছে যখন প্রসবকৃত বস্তু মানুষের মত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, যেমনঃ হাত-পা দেখতে পাওয়া ইত্যাদি।

9 অর্থাৎ কারও যদি ৪০ দিনের আগেই রক্তপাত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেসময়টুকু পবিত্রতার সময় বলে গণ্য হবে এবং তার জন্যে সাধারণভাবে সালাতের এবং অন্যান্য বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে ৪০ দিন পূর্ণ হবার আগে তার সাথে সঙ্গম করা মাকরুহ। ৪০ দিনের মধ্যে যদি সে একবার রক্তপাত বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়, তাহলে সেটা নিফাস বলেই গণ্য হবে।

10 ইদ্দতের ক্ষেত্রে তিন মাসিক অপেক্ষা করতে হয়, এই বিধানে নিফাসের রক্তের সাথে এমন কিছু নেই। তেমনি বালেগ হবার একটি চিহ্ন হচ্ছে মাসিক হওয়া। ইদ্দত ও বালিগ হওয়া বাদে অন্যান্য মাসাইলের দিক থেকে—অর্থাৎ এই রক্তপাতকালীন সময়ে কি কি প্রযোজ্য অথবা কি কি জায়েজ ইত্যাদির দিক থেকে মাসিক এবং নিফাসের হুকুম একইরকম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *