তাহারাহ ও পানির প্রকারভেদ- বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

<তাহারাহর শাব্দিক অর্থ – নোংরা থেকে পরিচ্ছন্নতা।>

তাহারাহ <এর শারই অর্থ হচ্ছে> হাদাস[1] উত্তোলন কিংবা খাবাস[2] অপসারণ করা।

পানি তিন ধরণের; তাহুর, তাহির এবং নাজিস।

তাহুর সে পানি, যা তার প্রাকৃতিক সৃষ্ট অবস্থায় বিদ্যমান থাকে [যেমন, নদীর পানি]। এটা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করে। এই পানি শর্তহীনভাবে ব্যবহার করা জায়েজ।

<তাহুর পানি চার প্রকারঃ

  • গাইরে মাকরুহঃ সাধারণভাবে প্রাকৃতিক কারণে পরিবর্তিত পানি, যেমনঃ পানিতে গাছের পাতা পড়ে অথবা পানির মধ্যে কিছু জন্মানোর ফলে তার পরিবর্তন ঘটা [ইত্যাদি][3]
  • মাকরুহঃ কোনো নাজাসাত দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি, অথবা অদ্রবণীয় বস্তু মিশে থাকার ফলে পানিতে পরিবর্তন [ইত্যাদি]।
  • হারামঃ চুরি করা পানি। এমন পানি দিয়ে ওযু বিশুদ্ধ হবে না।
  • শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের হাদাস অপসারণের জন্যে হারামঃ কোনো নারী যদি একাকী অল্প পরিমাণ[4] [যেমন, এক বালতি] পানি দ্বারা সম্পূর্ণ তাহারাত অর্জনের কাজ সম্পন্ন করে, তাহলে সেটার অবশিষ্টাংশ দিয়ে অন্য পুরুষের ওযু হবে না।>

তাহির হলো, যে পানিতে কোনো তাহির[5] বস্তুর মাধ্যমে রঙ, স্বাদ কিংবা গন্ধে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। এই পানি নিজে পবিত্র, তবে অন্যকে পবিত্র করে না। হাদাস কিংবা খাবাস অপসারণ বাদে অন্যান্য কাজে[6] এই পানি ব্যবহার করা জায়েজ[7]

<তাহির পানিও চার প্রকারঃ

  • একঃ উপরে উল্লেখিত, অর্থাৎ তাহির বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত পানি।
  • দুইঃ ফরয ওযু/গোসলের কাজে ব্যবহৃত পানি।
  • তিনঃ রাত্রিকালীন গভীর ঘুমের পর অল্প পানিতে হাত চুবালে সেই পানি।
  • চারঃ নাজাসাত অপসারণের সময় শেষ ধোওয়ার পানি[8]। >

নাজিস সে পানি, যাতে কোনো নাজাসাত দ্বারা পরিবর্তন [গন্ধ, রঙ কিংবা স্বাদে] ঘটেছে- তবে যে স্থানে পরিস্কার করা হয় তা ব্যতীত[9]। ভীষণ প্রয়োজন[10] (যরুরত) ছাড়া এই পানি ব্যবহার করা হারাম।

বেশি পরিমাণ পানি হচ্ছে দুই কুল্লাহ অথবা তার অধিক। আর অল্প পরিমাণ[11] হচ্ছে যা দুই কুল্লাহ থেকে কম। দুই কুল্লাহ হলো ১০৭.৭ দিমাসকি রিতল বা তার সমতুল্য পানি[12]

তাহির পাত্র রাখা এবং ব্যবহার করা জায়েজ যদি তা সোনা কিংবা রুপার না হয়।[13]



Footnotes:

[1] সালাত বা অনুরুপ বিষয়াদির প্রতিবন্ধকতা। যেমনঃ মুত্রত্যাগের পরবর্তী অবস্থা হচ্ছে হাদাস এবং এটা ওযুর মাধ্যমে অপসারণ করে সালাত আদায় করা যায়।  

[2] অর্থাৎ দৃশ্যমান অপবিত্রতা/নাজাসাত, যেমনঃ মুত্র ইত্যাদি।

[3] এখানে অল্প কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে, বড় কিতাবে বিস্তারিত বিদ্যমান।

[4] ১১ এবং ১২ নাম্বার ফুটনোট দ্রষ্টব্য।

[5] যেমন, চা, কমলালেবুর রস ইত্যাদি।

[6] যেমন, পান করা অথবা নাজাসাত লাগেনি এমন কাপড় ধোওয়ার কাজে।

[7] অর্থাৎ এরুপ পানি দিয়ে ওযু করলে সেই ওযু সহিহ নয়। একইভাবে, এরুপ পানি দ্বারা নাজাসাহ অপসারণ করলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেটা অপবিত্র হিসেবেই বিবেচ্য হবে।

[8] শেষ ধোওয়া বলতে যত নাম্বার ধোওয়ার মাধ্যমে তহারাত অর্জিত হয় [সাত বা ততোধিক]। বিস্তারিত “নাজাসাহ অপসারণ” চ্যাপ্টারে দেখুন। 

[9] অর্থাৎ পরিস্কার করার স্থানের ক্ষেত্রে, ধরা যাক একটি কাপড়ে দুই ইঞ্চি জায়গা জুড়ে নাজাসাহ লেগে আছে। এখানে আমরা যখন প্রথম পানি স্পর্শ করাবো, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাধারণ সুত্র অনুযায়ী নাজাসাহ এর সাথে পানি লেগে পানি নাজিস হয়ে যাবার কথা, কারণ এই পানি ২ কুল্লাহর কম। কিন্তু এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে, কাপড় অপবিত্র থেকেই যাবে। তাই এই মাস’আলাটি এখানে ব্যতিক্রম। পানি যতক্ষণ কাপড়ে [বা অন্যকিছুতে] নাজাসাহর সাথে পরিষ্কারকরণের কাজ করবে, ততক্ষণ এই মাস’আলা খাটবে না। পানি কাপড় থেকে আলাদা হয়ে যখন পড়বে, তখন সেটা নাজিস হবে।

[10] যেমন, কোথাও আগুন লাগলে এবং অন্য পানি পাওয়া না গেলে অথবা গলায় খাবার আটকে গেলে যদি খাওয়ার পানি পাওয়া না যায় এমন অবস্থা ইত্যাদি।

[11] অর্থাৎ সংক্ষেপে,

        ক) পানি যদি দুই কুল্লাহর থেকে কম হয়, তাহলে অল্প পরিমাণ নাজাসাহর সংস্পর্শে আসলেই পুরো পানি অপবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পানিতে পরিবর্তন আসুক বা না আসুক।

        খ) পানি দুই কুল্লাহর সমান বা বেশি হলে, নাজাসাহর সংস্পর্শে পানি তখনই অপবিত্র হবে, যখন ঐ নাজাসাহর কারণে পানির স্বাদ, গন্ধ বা বর্ণে পরিবর্তন আসবে। অল্প পরিবর্তন আসলেই চলবে। 

[12] প্রায় ১৯১ লিটার/৫০ ইউ.এস লিকুইড গ্যালন (শাইখ জন স্টারলিং বিদায়াতুল আবিদের ফুটনোট)। শাইখ কু’আইমিও অনুরুপ উল্লেখ করেছেন (১৯১.২৫ লিটার- আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত)। শাইখ ইউসুফ বিন সাদিকের মতে, এটা ৩০০ লিটারের কাছাকাছি এবং তিনি উল্লেখ করেছেন শাইখুল হানাবিলা ইবনে আকিলের মত ৩০৭ লিটার।

[13] তবে সোনা বা রূপার চেয়ে দামি কিছু হলেও সেটা জায়েজ। সোনা বা রূপার কথা বিশেষভাবে হাদিসে এসেছে। এখানে হুকুম সোনা বা রূপার সাথেই নির্দিষ্ট। সোনা বা রূপার হলে সেটা ব্যবহার করা বা শুধু রাখা- দুটোই নাজায়েজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *