ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা – বিদায়াতুল আবিদ

[অনুবাদের সাথে <>, [] এবং ফুটনোটে বিভিন্ন কিতাব এবং দরস থেকে বুঝার সুবিধার্থে বিভিন্ন জিনিস সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা মতনের অনুবাদ]

মিসওয়াক <সব-সময়, সব-স্থানে> মুস্তাহাব। শুধুমাত্র সাওমরত ব্যক্তির জন্যে দ্বিপ্রহরের পর তা মাকরুহ1; দ্বিপ্রহরের পূর্বে ভেজা কাঠি [عود] দ্বারা তা জায়েজ, তবে শুকনো দিয়ে করা মুস্তাহাব।

যারা কাঠি বাদে অন্য কিছু ব্যবহার করবে, তাদের সুন্নাহ আদায় হবে না2

সালাত, তিলাওয়াত, অজু, ঘুমভাঙ্গার পর, মসজিদে প্রবেশ, মুখের গন্ধে পরিবর্তন আসা, <ঘরে প্রবেশ করার সময়, যখন দাঁত হলুদ হতে শুরু করে, যখন পেট খালি থাকে> ইত্যাদি ক্ষেত্রে [মিসওয়াক ব্যবহার করার বিষয়টি] অধিক জোরদানকৃত।

নিচের কাজগুলো মুস্তাহাবঃ

  • মিসওয়াক, পবিত্রতা অর্জন এবং অন্যান্য কাজে ডানদিক থেকে শুরু করা,
  • <একদিন পর একদিন> তেল এবং
  • <প্রতিরাতে উভয় চোখে তিনবার> সুরমা ব্যবহার করা,
  • আয়না দেখা <এবং “হে আল্লাহ্‌ যেভাবে তুমি আমার বাহ্যিকরূপ সুন্দর করেছ, তেমনি আমার অভ্যন্তরকেও সুন্দর করে দাও এবং জাহান্নামের জন্য আমার মুখমন্ডল হারাম করে দাও” বলা>,
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা,
  • <নারী পুরুষ উভয়ের জন্যে> গোপনাঙ্গের চুল অপসারণ করা,
  • মোচ ছেঁটে ফেলা3,
  • নখ কাটা
  • বগলের নিম্নাংশের চুল উপড়ে ফেলা।4

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে এবং মেয়েদের খাতনা করা ওয়াজিব5, তবে এজন্য শৈশবকাল হচ্ছে উত্তম।


ফুটনোট:

1 এই ব্যাপারে মাযহাবে শক্ত খিলাফ আছে। দ্বিতীয় মত হচ্ছে মিসওয়াক সাওমরত ব্যক্তির জন্যে সবসময়ই সুন্নাহ, জাওয়ালের পূর্বে কিংবা পরে, ভেজা কিংবা শুকনো কাঠি দ্বারা ইত্যাদি। এটা শাইখ তাকিউদ্দিনের মত এবং আল ইকনায় এর উল্লেখ রয়েছে।

2 আরাক গাছের সিওয়াক বা কাঠি সবচে উত্তম, তবে অন্যগুলোও সুন্নাহ আদায় হবে (শাইখ মুতলাক আল-জাসির)। কিন্তু আঙ্গুল, কাপড়, টুথব্রাশ ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাযহাবের মুতামাদ মত অনুযায়ী সুন্নাহ আদায় হবে না [আল-হাওয়াশি আস-সাবিগাত], তবে কিছু আলিম যেমন ইবনে বাদরান তাঁর আখসার আল-মুখতাসারাতের হাশিয়ায় উল্লেখ করেছেন, টুথব্রাশ মিসওয়াকের কাঠির বদলি হতে পারে।

3 মাজহাবে এই ক্ষেত্রে দুটি কথা বলা হয়েছে, এক হচ্ছে মোচ এমনভাবে ছাঁটা যাতে সেটা ঠোঁটের উপর চলে না আসে, আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে মোচকে খুব ছোট করে ছাঁটা, তবে পুরোপুরি শেভ করে না ফেলা। দ্বিতীয়টি মাযহাবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত।

ইমাম বালি (র) “কাশফ আল-মুখাদারাত”-এ বলেছেনঃ “দাঁড়ি থেকে কোনো অংশ অপসারণ (বা ছাঁটা) ব্যতীত বড় করা সুন্নাহ…যদি না এর দৈর্ঘ্য অপ্রীতিকর হয়ে যায়।”

ইমাম মারই আল-কারমি “দলিলুত তলিবে” বলেছেন- “দাঁড়ি শেভ করা হারাম, তবে এক মুষ্টির বাড়তি থেকে নেওয়াতে সমস্যা নেই।”

একমুষ্টির কমে ছাঁটার হুকুমের ব্যাপারে মুতামাদ কিতাবাদিতে সরাসরি আসেনি, তবে অন্য কিছু কিতাব যেমন শারহুল ওয়াজিযে এসেছে যে এটা মাকরুহ। শাইখ ইউসুফ বলেছেন যে, এই কিতাব বুরহানুদ্দিন ইবনে মুফলিহকে পড়ে শোনানো হয়েছিল, তিনি এর অনুমোদন দিয়েছেন। আর তিনি মাযহাবের অন্যতম আলিম। তাই এটা মুতামাদ হওয়া উচিৎ।

শাইখ ড. সামিহ ইবনে আব্দিলওয়াহহাব বলেছেনঃ “(কিছু কিতাবে উল্লেখিত) এক মুষ্টির বাড়তি অংশ কাঁটা মাকরুহ নয়” এর মাফহুম (নিহিত অর্থ) হচ্ছে এক মুষ্টির নিচে ছাঁটা মাকরুহ। আর কিছু হানাবিলা এটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থাৎ, সাধারণভাবে দাঁড়ির হুকুম

পুরো ছেড়ে দেওয়া= মুস্তাহাব/সুন্নাহ

এক মুষ্টির পর ছাঁটা= জায়েজ

এক মুষ্টির নিচে ছাঁটা= মাকরুহ

শেভ করা= হারাম

4 তুলে ফেলা কঠিন হলে শেভ করা বা অন্য উপায়ে অপসারণ করা যেতে পারে। এছাড়া মাথার কিছু অংশ শেভ করা এবং কিছু অংশ না করা [কাযা’] মাকরুহ। ছেলে বাচ্চাদের কান ফুটো করে মাকরুহ, তবে মেয়েদের নয়।

5 বয়ঃসন্ধিকালের আগে সুন্নাহ। বালেগ হলে ওয়াজিব।

খাতনা হচ্ছে কোনো পুরুষের লিঙ্গত্বক অপসারণ করা এবং মেয়েদের যোনিপথের উপরে অতিরিক্ত ত্বক অপসারণ করা, যেটি মোরগের মাথায় লাল ঝুঁটির মত। এটি পুরোপুরি অপসারণ না করা মুস্তাহাব এবং যদি সত্যিকারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি হয়, অথবা নিরাপদে করার ব্যবস্থা এলাকায়/দেশে না থাকে, তাহলে আর ওয়াজিব থাকবে না।

যৌনাঙ্গহানি হারাম। কারও যদি নারী এবং পুরুষ উভয়ের অঙ্গই দৃশ্যমান হয়, তাহলে উভয়টির ক্ষেত্রেই খাতনা প্রযোজ্য হবে।

ইবনে কুদামাহ ইমাম আহমদ (র)-এর আরেকটি একটি মত উল্লেখ করেছেন, যা অনুসারে মেয়েদের খাতনা ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাহ, আর ছেলেদের ওয়াজিব। শাইখ জন স্টারলিং বলেছেন, কিছু সমসাময়িক আলিমগণের ফতওয়া অনুরুপ। এই ব্যাপারে মাযহাবে শক্ত খিলাফ রয়েছে, শাইখ ইউসুফ দ্বিতীয়মতকে অনুসরণযোগ্য বলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *