মাযহাব অনুসরণ কি ফরয? – উস্তাদ জাহেদ ফেত্তাহ[2]

প্রথমত, সবার আগে প্রশ্ন হচ্ছে- “কোন মাযহাব অনুসরণের ব্যাপারে হুকুম কি?” অধিকাংশ আলিমের মতে, একটি মাযহাব অনুসরণ করা ওয়াজিব নয়। বিশেষ করে হাম্বলিদের অবস্থান এটি। অন্যান্য মাযহাবেও এসেছে, যেমনঃ শাফেয়ী।

তাঁরা বলেছে একটি মাযহাব অনুসরণ করা ওয়াজিব নয়। এখন, একটি মাযহাব অনুসরণ বলতে কি বোঝানো হচ্ছে? এর মানে হচ্ছে প্রতিটি জিনিস, প্রতিটি কাজই আপনি একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসারে করবেন।

এটা কি ওয়াজিব? আমাদের কি একটি মাযহাবেই সবক্ষেত্রে নিবদ্ধ থাকতে হবে? উত্তর হচ্ছে- না।

সাধারণ মানুষের জন্যে তার মুফতির মাযহাবই হচ্ছে তার মাযহাব। কেননা মাযহাব [বিস্তারিত] জানা মোটেও খুব সহজ কিছু নয়। এর জন্যে অনেক বোঝাপড়া প্রয়োজন। অনেক চর্চা প্রয়োজন, অধ্যয়ন প্রয়োজন। তাই আমরা কিভাবে আশা করতে পারি যে সাধারণ মানুষ [সবক্ষেত্রে] তাদের মাযহাব কি [বলছে] তা জানতে পারবে?

তাই সাধারণ মানুষেরা যা করে, তা হচ্ছে সে মূলত তার মুফতিকে জিজ্ঞেস করে, যাকে সে ফতওয়ার জন্যে নির্ভরযোগ্য মনে করে। এরপর উনি যখন তাকে ফতওয়া দেন, সে তা গ্রহণ করে চলে যায়। সে এভাবে জিজ্ঞেস করতে পারে- “আমি কি হানাফি মাযহাব [বা অন্যান্য মাযহাব] অনুযায়ী ফতওয়া পেতে পারি?” এটা ঠিক আছে, এতে সমস্যা নেই। কিন্তু এটা তার জন্যে ওয়াজিব না।

কিছু আলিমগণ আগে এটাকে ওয়াজিব বলেছেন। বিশেষ করে যখন রাষ্ট্র কোন নির্দিষ্ট মাযহাবের উপর ভিত্তিশীল ছিল। এক্ষেত্রে ব্যাপারটা অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা তাঁরা চাননি মানুষ তাদের ইচ্ছেমতো ফতওয়া বাছাই করে খেলায় মেতে উঠুক, যেমনটি আজ আমরা করি। আমাদের যে কেউ এখান থেকে একটা ফতওয়া নেয়, আরেকটা অমুক জায়গা থেকে, আরেকটা তমুক। তাই কিছু আলিমগণ রাষ্ট্র বা তাদের ভূমির মাযহাব অনুসরণ ওয়াজিব বলেছেন। অর্থাৎ যদি আপনি হানাফি রাষ্ট্রে থাকেন, আপনি হানাফি মাযহাব অনুসরণ করবেন। শাফেয়ী দেশে শাফেয়ী মাযহাব অনুসরণ করবেন। কেন? কারণ হচ্ছে তাঁরা চাননি মানুষজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক এবং খেলায় মেতে উঠুক।

কিন্তু বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন আমাদের পৃথিবীর অন্য পাশের মানুষের সাথে সংযোগ রয়েছে। তাই মানুষের উপর একটি মাযহাব ফরয করে দেওয়া [বলা] বাস্তবমুখী নয়। মোটেও বাস্তবমুখি না। তবে, আবারও বলছি, যদি আপনি তা চান [একই মাযহাব অনুসরণ করতে সবক্ষেত্রে], আপনার সেই রাস্তাও খোলা আছে।

[সবক্ষেত্রে] একটি মাযহাব অনুসরণ খিলাফ বা মতানৈক্য ছাড়া জায়েজ। অবশ্যই এটি জায়েজ।

আর তলিবুল ইলমের জন্যে এতকি মাযহাবের চর্চা করা উপকারি, কেননা এতে সে একটি নির্দিষ্ট যথার্থ কাঠামো অনুযায়ী পড়াশোনা করবে। এবং সাধারণ মানুষের জন্যেও এটি উপকারি, কেননা এর মাধ্যমে সে নিজের প্রবৃত্তি এবং খায়েশাত অনুসরণ করবে না এবং সেও একটি কাঠামোর মধ্যে থাকবে। যদি মাযহাব কোন ব্যাপারে কঠোর থাকে, সেও কঠোর থাকবে, যদি মাযহাব কোন ব্যাপারে সহজ থাকে, আলহামদুলিল্লাহ্‌, সেও সেরুপ থাকবে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে সহজ মত খুঁজে খুঁজে আমল করা তার জন্যে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে, যেমনটি আমরা বলেছি পূর্বে- একটি মাযহাব অনুসরণ করা জায়েজ, তবে ওয়াজিব নয়।


[1] এই লেখাটি মূলত একটি ভিডিও থেকে অনুবাদ।

[2] উস্তাদ জাহেদ ফেত্তাহ ইউনিভার্সিটি অফ বারমিংহ্যাম থেকে ল’তে ব্যাচেলর এবং ইউরোপিয়ান ইন্সটিটিউট অফ হিউম্যান সাইন্স থেকে শারিয়াতে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে নিউম্যান ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স করছেন। তিনি মসজিদ এবং বিভিন্ন সেমিনারে ইসলামিক বক্তব্য এবং কোর্স নিয়ে থাকেন। হাম্বলি ফিকহ, হাদিস-সহ বিভিন্ন শাখায় তাঁর ইজাজাহ আছে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *