মুফরাদাতুল হানাবিলা

আল-মুফরাদাত হলো এমন কোন মাস’আলা যেখানে সুপরিচিত চার মাযহাবের কোন একজন ইমাম বাকি তিন মাযহাবের প্রসিদ্ধ (মাশহুর) মতের বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন।

এধরনের মুফরাদাতের ব্যাপারে যে মাযহাবের ‘আলিমগণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক বই লিখেছেন, তারা হলেন ‘উলামা আল-হানাবিলা। বিশেষত ইমাম আল-ক্বাদি আবু ইয়ালার (রাহিমাহুল্লাহ) সমকালিন ‘আলিমগণ। এর একটা কারণ আছে। কারণটা হলো ঐ সময়টাতে একটা দাবি উঠেছিল যে, হাম্বলি মাযহাব আসলে স্বতন্ত্র কোন মাযহাবই না, বরং এটি হচ্ছে শাফেয়ি মাযহাবের একটা প্রশাখার মত, যেখানে শাফেয়ি মাযহাবের হাতেগোণা কিছু মাস’আলার সাথে তারা দ্বিমত করেছে এবং সেখানেও তাদের অবস্থান দূর্বল। এমনকি ইমাম ইলকি আল-হাররাসি (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি তার সময়ের শাফেয়িদের একজন ইমাম ছিলেন, তিনি হাম্বলিদের মুফরাদাতের খন্ডন করে একটা আস্ত বই-ই লিখে ফেলেন (নাক্বদ মুফরাদাত আল-ইমাম আহমাদ)। এই ঘটনার পর হাম্বলি ‘আলিমগণ একটু নড়েচড়ে বসেন। এরপর তারা ইমাম আহমাদের মুফরাদাতগুলোকে একত্রিত করতে শুরু করেন, সেগুলোর পক্ষে দলিল উপস্থাপন করেন এবং বিপরীত মতগুলোর দূর্বলতা তুলে ধরেন। এভাবেই সেই যুগে “আল-মুফরাদাত” নামে বেশ কয়েকটি বই রচিত হয়। পরবর্তীতে ইমাম আল-‘উমারি (রাহিমাহুল্লাহ) ১০০০ লাইনের একটি মানযুমাহ লিখে ফেলেন যার নাম “আল-নাযম আল-মুফিদ আল-আহমাদ ফি মুফরাদাত মাযহাব আল-ইমামি আহমাদ”। শাইখুল মাযহাব ইমাম মানসুর আল-বুহুতি (রাহিমাহুল্লাহ) এই মানযুমাহ শারহ করেছেন (আল-মিনাহ আশ-শাফিয়াত)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *