যত্রতত্র ফতওয়া [1]- ইবনে উসাইমিন

মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন[2]

 খুব বেশিদিন আগের কথা না, একটা সময় ছিল যখন এখানকার(সৌদি আরবের) মানুষ আল-ইকনা এবং আল-মুনতাহা[3] এর পরিবর্তে অন্য কিছুর দিকে ফিরত না। ফলে, তুমি দেখতে পাবে যে আলিমদের ফাতওয়া একই ছিল, তাদের ব্যাখ্যাও একই ছিল, আর তাদের কেউ আরেকজনের সাথে আলাদা হতেন না- শুধুমাত্রে পাঠদানের ধরণের ভিন্নতা ব্যতীত।

কিন্তু আজ যখন কেউ একটি বা দুটি হাদিস মুখস্ত করে ফেলে, সে বলা শুরু করে [অথবা তাদের আচরণ হতে প্রতিভাত হয়]:

“আমি-ই ইমাম যাকে অন্যদের অনুসরণ করা উচিত, আর ইমাম আহমদ কেবলই একজন মানুষ ছিলেন এবং আমরাও [তাঁর মত] কেবল মানুষ।”

ফলস্বরূপ, এই ব্যাপারটি অন্যতম বড়সড় বিশৃঙ্খলা এবং সংশয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছে। সকলেই [আজ] ফাতওয়া দেওয়া শুরু করেছে। মাঝেমধ্যে আমরা কিছু ফতওয়া শুনি, যেগুলোর কিছু কিছু হাস্যকর, আর কিছু কিছু কেবলই আপনাকে কাঁদাতে চাইবে।

আমি এইসকল ফতওয়া একত্র করার ব্যাপারে ভাবছিলাম, কিন্তু ভয় হলো যে [এর মাধ্যমে] আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারি যারা ভাইদের দুর্বলতা প্রকাশ করে দেয়- তাই বাদ দিলাম কেবল নিরাপদ থাকার জন্যে। কিন্তু যদি আমি তা করতাম, আমি এমন জিনিস প্রকাশ করে ফেলতাম যা হচ্ছে সত্য থেকে বহু দূরে, আকাশ পাতাল পার্থক্য।


[1] মূল লেখাটি শাইখের কিতাবুল-ইলম থেকে নেওয়া। The Hanbali Madhhab ফেসবুক পেইজ থেকে অনূদিত।

[2] গত শতাব্দির বিখ্যাত এবং মাযহাবি-লা-মাযহাবি উভয় মহলে শ্রদ্ধেয় আলিমদের একজন। উনি হাম্বলি মাযহাবে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে বহু মাস’আলায় মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মতের বিপরীতে ফতওয়া দিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াকে অনুসরণ করতেন। তাই এক্ষেত্রে উনার এই লেখার কথাগুলো বেশ গুরুত্বের চোখে দেখার দাবি রাখে।

[3] আল-ইক্বনা ও আল-মুনতাহা হলো হাম্বলী ফিক্বহের মুতামাদ কওল বা মত নির্ণয়ের প্রধান দুটো কিতাব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *