শাইখ আবু ইব্রাহিম জন স্টারলিং

ছবিঃমাস্টার্সের সার্টিফিকেট নিয়ে শাইখ জন স্টারলিং

“আমার নাম জন স্টারলিং। আমি সাউথ জার্সির একটা মসজিদের ইমাম এবং ধর্মান্তরিত মুসলিম।

১৯ বছর বয়সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। তখন আমি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তাম। নিজের পরিচয় সম্পর্কে কিছু অনুসন্ধানের পর আমি মুসলিম হই। আমি জীবনের উদ্দেশ্য ও পন্থার তালাশ করছিলাম ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে আমার জীবন ছিলো একেবারে স্বাভাবিক। হাইস্কুলে আমি “ভালো ছেলে” ছিলাম। কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে (কিছুর) অনুসন্ধানে ছিলাম। সবসময়ই কিছু একটার প্রয়োজন ছিল। সবসময়ই আমি এমন কিছুর খোঁজ করছিলাম যা আমার জীবনে দিকনির্দেশনার উৎস হতে পারে।

ইসলাম গ্রহণ করার পর আমার বাবা-মা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হয়ে পড়েন, যেভাবে যে কোনো বাবা-মা-ই এই জায়গায় থাকলে হতো। আমি কিসের সাথে যুক্ত ছিলাম, কি করছিলাম- এসব ব্যাপারে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। নর্থ ক্যারোলিনাতে ইসলাম আমাদের কাছে অনেকটাই “অপরিচিত” ছিল। তাই আমি খেয়াল করতে লাগলাম যে অনেক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং পালন করতে হবে। মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করা…এবং সালাত, সাওম এবং দ্বীন শেখার ক্ষেত্রে অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

খেয়াল করলাম, ধর্মের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হবার পর থেকে আমার জীবনের অন্যান্য কাজগুলোও সহজ হয়ে যায়। আমার গ্রেড বেড়ে যায়, সামাজিক জীবনে অনেক উন্নতি হয়…উদাহরণস্বরূপ, বেড়ে ওঠার সাথে সাথে আরও দায়িত্ববান হতে শেখা…একটা দিকের সন্ধান পাওয়া। জীবনের সবকিছুতে দিশেহারাভাবে এদিক-সেদিক না গিয়ে, কি করা উচিৎ এবং কোথায় যেতে হবে- এইসব ব্যাপারে অনিশ্চয়তার পরিবর্তে সেগুলো একটা লাইনে, একটা জায়গায় আসতে শুরু করে। আমার মতে, ইসলাম গ্রহণের পর এটা ছিল আমার খেয়াল করা সবচেয়ে বড় কিছুর একটি।”- শাইখ জন স্টারলিং

আবু ইব্রাহিম জন স্টারলিংউস্তাদের সংক্ষিপ্ত শিক্ষাজীবন:

শাইখ আবু ইব্রাহিম ১৯৯৭ সালে নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে অনার্স শুরু করেন এবং ২০০১-এ শেষ করেন। ২০০২ সালে উনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ মদিনায় যান এবং আরবি শিক্ষার কলেজে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে সেখানেই উসুলুদ দ্বীন এবং দাওয়াহর উপর ব্যাচেলর শুরু করেন, ২০০৯ সালে শেষ করেন। এরপর দেশে ফিরে আসেন। একসময়ে উনি টের পান, ফিকহুল ‘আম দিয়ে উনি অনেক প্রশ্নেই আটকায়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি ট্র্যাডিশনাল মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

এরপর ড. মুতলাক আল-জাসিরের একাডেমীতে পড়া শুরু করেন এবং হাম্বলি ফিকহে বিদায়াতুল আবিদ, উমদাত-আত-তালিব, উসুলুল ফিকহে আল-ওয়ারাকাত এবং শাইখ সাদির কাওয়াইদুল ফিকহের উপর ইজাজাহ লাভ করেন। এরপর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটায় ইসলামিক স্টাডিজে উনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও উনি ড. সালিহ আল-উবাইদ হতে হাদিসশাস্ত্রের মতন বায়কুনিয়া এবং নুখবাতুল ফিকরে ইজাজাহ লাভ করেছেন। কিছুদিন আগে তিনি শাইখ ড. মুতলাক আল-জাসির আল-হাম্বলি থেকে আম ইজাযাহ লাভ করেছেন।

বর্তমানে বে পাথ ইউনিভার্সিটিতে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করছেন। উনি বর্তমানে hanbalidisciples.com নামক একটি সাইট খুলেছেন হাম্বলীদের জন্যে, এখানে বিভিন্ন কিতাবের অনুবাদ এবং প্রশ্ন-উত্তর ভিডিও ম্যাটারিয়ালস রয়েছে। বিদায়াতুল আবিদ, মানহাজ আল-হক, উমদাত আত-তলিব, কলাইদ ইকইয়ান প্রভৃতি বই অনুবাদ করেছেন, কিছু পাবলিশ হয়েছে এবং বাকিগুলো হবার পথে। নিউজার্সিতে GCLEA থেকে উনি বর্তমানে হাম্বলি ফিকহ, আকিদাহ, তাযকিয়ার উপর অনলাইন এবং অফলাইন কোর্স করিয়ে থাকেন

পাশাপাশি তিনি মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন জায়গায় চ্যাপলেইন, আরবির শিক্ষক, কারিকুলাম ডেভেলপর, শরিয়া অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করেছেন এবং করছেন। উনি বিবাহিত এবং উনার চারজন ছেলেমেয়ে আছেন। আরেকটা কথা, উনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তখন প্রথমে এক বাঙালি পরিবারের কাছে ইসলামের বেসিক অনেককিছু শিখেন, এবং কিভাবে লুঙ্গি পরতে হয়, সেটাও শিখেন! এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, তুমি বলতে পারো, আমি একজন অ্যাডপ্ট (দত্তক) করা বাঙালি”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *