শাবানের মধ্যরাতে নফল ইবাদাত

ইমাম আহমদ এবং হাম্বলি মাযহাবের মতে, ১৫ শাবানের রাত একটি বরকতময় রাত, যে রাতে ইবাদাত বৃদ্ধি করা উত্তম। এই বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে, অনেকগুলো দুর্বল, বাকিগুলো সহিহ অথবা আমল করার ন্যায়। ইমাম আহমদ, ইমাম আওযাই, মাক-হুল, ইসহাক, ইবনে আল সালাহ, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে রজব এবং অন্যান্য আলিমগণ এই রাতে অতিরিক্ত ইবাদাতের পক্ষে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন-
“শাবানের মধ্যরাতের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনায় এর মর্যাদার কথা এসেছে এবং একদল সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা এই রাতে একাকী সালাত আদায় করতেন। তাই এই ধরণের কাজের ব্যাপারে বিতর্কের অবকাশ নেই।”

ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ

“আল্লাহ্‌, সুমহান এবং মহিমান্বিত, শাবানের মধ্যরাতে সৃষ্টির দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং এবং সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করেন, মুহহানিন [যারা অন্যদের প্রতি আক্রোশ এবং শত্রুতা বজায় রাখে] এবং শিরককারী বাদে।” ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন।

হাম্বলি ফকিহ ইমাম বুহুতি রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ “পুরোরাত-ব্যাপী ইবাদাত করা মুস্তাহাব নয়, ঈদের রাত বাদে এবং একটি শক্তিশালী মত অনুযায়ী মধ্য শাবানের রাত ব্যতীত।” [আল রাওদ]

আর এই রাতে ইবাদাতের জন্যে মসজিদে একত্র হবার ক্ষেত্রে- বেশিরভাগ আলিম এটির ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেন না এবং এই ব্যাপারে হাম্বলি অবস্থান হচ্ছে- এটি করা মাকরুহ। একইভাবে মহান শাফিই ফকিহ এবং মুহাদ্দিস ইমা ইবনে আস সালাহ বলেছেনঃ

“শাবানের মধ্যরাতের মর্যাদা/বরকত রয়েছে। এই রাতে অতিরিক্ত [নফল] ইবাদাতে মশগুল হওয়া মুস্তাহাব; তবে [অনেকজন মিলে] একসাথে নয়, বরং একাকী।”
এবং আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

সুত্রঃ The Hanbali Madhab এবং অন্যান্য সোর্স।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *