সালাফি ফিকহ

সালাফি ফিকহ বলে কিছু কি আছে?

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি অনেকদিন ধরে ফিকহ এবং উসুল পড়েছি এবং পড়ছি। কখনও আমাদের ইতিহাসে “সালাফি ফিকহ” বলে কিছু আছে দেখিনি। এটা কেবল সাম্প্রতিক কিছু আলিমের কাছে শুনেছি, বিশেষ করে শাইখ আলবানি রহিমাহুল্লাহ।

যদি কোনো ব্যাপারে সালাফদের ইজমা থাকে, তাহলে সেই ইজমা অনুসরণ করতে হবে এবং এখানে ইজতিহাদের কোনো জায়গা নেই। যদি এটা ইজতিহাদি বিষয় হয়, তাহলে তুমি সাহাবীদের [রা] সময় থেকে, তাদের ছাত্র এবং অন্যান্য ইজতিহাদের ইমামদের মধ্যে ইখতিলাফ পাবে। এভাবে আমাদের অনেকগুলো মত রয়েছে। মুজতাহিদের কাজ হচ্ছে নির্দিষ্ট উসুল অনুসারে শক্তিশালী মত বাছাই করা, এবং আধুনিক মাসআলায় মত ব্যক্ত করা।

পূর্ব থেকে আজ অবধি ফিকহ এমন হয়ে এসেছে। হ্যাঁ, আমাদের একাধিক ফিকহের মাযহাব আছে- চার মাযহাব এবং যাহিরিরা, এরপর আহ্লুল হাদিসের বিভিন্ন আলিম (আমি জানিনা তাদের আলাদা করার মত সুপ্রতিষ্ঠিত মাযহাব আছে নাকি নেই) এবং ইজতিহাদের অন্যান্য আলিমরা।

মাযহাবগুলোর বিকাশের পরে উসুলিগণ বলেছেন, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে মুজতাহিদ রয়েছে- সর্বোচ্চ হচ্ছে ইবনে তাইমিয়া বা ইবনে দাকিকের মত মুজতাহিদ মুতলাক (উনাদের উপর শুধু মুজতাহিদ মুসতাকিল) এবং এরপরে আছে আমাদের মাযহাবের ভেতরে মুজতাহিদ, আর বিভিন্ন পর্যায়ের মুকাল্লিদ।

এখন সালাফি ফিকহের মানে যদি হয় দলিল অনুসরণ করা, তাহলে সকল আলিমই তাদের মতানুসারে দলিল অনুসরণ করে।যদি এটা বলতে “মুজতাহিদ মুতলাক” হওয়া বুঝানো হয়, তাহলে এটাকে এই নামেই ডাকা উচিৎ এবং এর শর্তগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

যদি সালাফি ফিকহের মানে এই হয় যে, গাইরে-আলিমরা ইজতিহাদ করতে পারবেন এবং ইবনে তাইমিয়া বা ইবনে উসাউমিনের মত আচরণ করতে পারবেন, তাহলে এটা দ্বীনে সবচে’ ক্ষতিকর জিনিসের একটি এবং এমন চর্চারত বিভিন্ন গোষ্ঠী আমাদের ধ্বংস করছে।

যদি কেউ ইবনে তাইমিয়ার অধ্যয়নের রাস্তা অনুসরণ না করেই তাঁর ন্যায় আচরণ করতে চায়, তাহলে সে তামাশা করছে এবং ক্ষতিকর পথ অনুসরণ করছে।

আকিদাহ আর মানহাজে সালাফি হওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক, কারণ এখানে সালাফদের নির্দিষ্ট কিছু উসুল ছিল এবং এগুলো মোটামুটি ইজমার বিষয় ছিল। যারা এখানে বিরোধ করেছেন, তাঁরা দ্বীনে কোনো না কোনো দিক থেকে বিদআত এনেছেন।

তাই তুমি যদি বলো “সালাফি ফিকহ” অথবা “আহলুস সুন্নাহর ফিকহ”, তাহলে এর বিপরীতটা কি? শিয়া ফিকহ? চার মাযহাব বা অন্যদের অনুসারে ফিকহ?যদি এটার মানে হয় দলিল অনুসারে মাযহাব নির্বিশেষে শক্তিশালী মত বাছাই করা, তাহলে এটা ফিকহুল মুকারানা বা তুলনামূলক ফিকহ ডাকা উত্তম।

যদি এটা “শক্তিশালী মত” এর ফিকহ হয়, তাহলেও এটা কোন আলিম তারজিহ বা ইখতিয়ার দিচ্ছেন, তাঁর উপর নির্ভর করবে…ইবনে কুদামাহ? ইবনে তাইমিয়া? ইবনে বায? ইবনে উসাইমিন? আল-আল্বানি? সাধারণভাবে তারজিহ হচ্ছে একজন আলেমের ইখতিয়ার এবং কাকে তুমি জিজ্ঞেস করছ সেটার ভিত্তিতে পার্থক্য হবে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো গ্রহণযোগ্য ইখতিলাফ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, যিনি তারজিহ দিবেন তার নিকট এর হাতিয়ার এবং ক্ষমতা থাকতে হবে। নাহলে সে যে শাইখের অনুসরণ করছে, তার এবং তার দলিলের তাকলিদ করছে। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

– শাইখ ড. সামিহ ইবনে আব্দিল ওয়াহহাব [মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে ফিকহে পিএইচডি ডিগ্রীপ্রাপ্ত]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *