সালাম সংক্রান্ত বিবিধ মাসায়েল

সালামের ব্যাপারে সাধারণ মাস’আলা হচ্ছে- আগে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব। দাঁড়িয়ে থাকা কারও জন্যে বসে থাকা কাউকে আগে সালাম দেওয়া উত্তম, একইভাবে কোন বাহনে থাকা কেউ দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে আগে সালাম দেওয়া উত্তম, কেননা এটা বিনয়ের জন্যে উপকারি। তেমনি কোন ছোট গ্রুপের বড় কোন গ্রুপের কাউকে সালাম দেওয়া এবং একইভাবে ইনফেরিওর অবস্থায় থাকা কারও সুপেরিওর থাকা কাউকে প্রথমে সালাম দেওয়া উত্তম।

  সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আর এটা অনেক ফযিলতপূর্ণ কাজ, ইবনে উমর [রা] কেনাকাটার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বাজারে যেতেন এবং মানুষকে সালাম দিতেন এবং গ্রহণ করতেন। আর আস-সালাম আল্লাহ্‌র নামের অন্তর্ভুক্ত, তাই যে সালাম বৃদ্ধি করে, সে মূলত আল্লাহ্‌র স্মরণ বৃদ্ধি করছে।

  যদি দাঁড়ানো অবস্থায় অথবা যানবাহনে একত্রে থাকা একদল মানুষের পক্ষ থেকে একজন সালাম দেয়, তাহলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। অনুরুপভাবে কোন দলের একজন [মুকাল্লাফ] যদি সালামের জবাব দেয়, সেটা তার দলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হচ্ছে উভয় পক্ষের সকলের সালাম দেওয়া এবং জবাব দেওয়া।

  ফুসুলুল আদাবের লেখক বলেছেন সাধারণ অবস্থায় মানুষকে প্রথমে সালাম দিতে গেলে সেটা হবে “সালামুন আলাইকুম” আর মৃত মানুষকে সালামের ক্ষেত্রে হবে “আস-সালামু আলাইকুম”। তবে মাযহাব অনুসারে, সাধারণ অবস্থায়ও “আস-সালামু আলাইকুম” বলা গ্রহণযোগ্য বলে অনুমিত।

উস্তাদ বলেন, সালাম দেবার সময় কেবল বাহ্যিকভাবে “কিছু শব্দ” উচ্চারণ না করে আমাদের মন/হৃদয়ও উপস্থিত থাকা উচিত, কেননা আমরা আল্লাহ্‌র নিকট উক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা, রাহমার জন্যে প্রার্থনা করছি।

  সালামের উত্তর এভাবে দেওয়া উচিত—“ওয়া আলাইকুমুস সালাম”। তবে “ওয়া” বাদ দিয়ে শুধু “আলাইকুমুস সালাম” বললেও সেটা গ্রহণযোগ্য।

  সালামে “আসসালামু আলাইকুম” এর সাথে “ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” যোগ করা উত্তম। এর চেয়ে বেশি যোগ করার ব্যাপারে কিছু বর্ণনা আছে, কিন্তু সেগুলো দুর্বল এবং তাই সেগুলো যোগ করা উত্তম নয়। ইমাম আহমদ কে পরিপূর্ণ সালাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এবং উনি বলেছিলেন এটা “বারাকাতুহু পর্যন্ত”।

  লেখক ইবনে মুফলিহসহ ইবনে হামদা, (ইবনে বালবান) এবং কিছু আলিমদের মতে প্রথমে সালাম দেবার ক্ষেত্রে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” পর্যন্ত বলা উচিত, যাতে জবাবকারী এর থেকে উত্তম কিছুর দ্বারা জবাব দিতে পারে, সম্ভবত তাদের এই মতের ভিত্তি হচ্ছে কুর’আনের আয়াতটি- যেখানে বলা হয়েছে সালামের উত্তর অনুরপ কিছু অথবা উত্তম কিছুর দ্বারা দেবার মাধ্যমে। তবে আল-ইকনা, কাশশাফে আছে যে সালামের দেওয়া এবং জবাব দেওয়া- উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ণ ফর্ম, অর্থাৎ “বারাকাতুহু” পর্যন্ত বলা উত্তম।

  যদি সালাম দেবার পর কোন দেওয়াল বা গাছ মাঝে এসে পড়ে এবং আবার দেখা হয়, তাহলে আবারও সালাম দেওয়া উত্তম। সাহাবিগণ [রা] এমনটি করতেন । এরুপ ব্যাপারে আনাস ইবনে মালিক [রা] হতে এবং রাসুলুল্লাহ [সা] হতে বর্ণনা আছে। তেমনি কেউ যদি কোন ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে কোন কারণে বা কাজে বাইরে গিয়ে আবার ঐ ঘরে ফিরে আসে, তার জন্যে আবারও সালাম দেওয়া উত্তম।

  লেখক বলেন, [পুরুষদের] তরুণী/অল্পবয়স্কা নারীকে প্রথমে সালাম দেওয়া মাকরুহ, কেননা এতে নারীর কণ্ঠ শোনা অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং তা ফিতনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটা জুমহুরেরও মত। কুর’আনে নারীদেরকে কোমলভাবে কথা বলতে না করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা কথা বলতে পারে পুরুষদের সাথে, তবে সেটা আবেদনময়ী ভাবে না।

  বৃদ্ধা নারী এবং যেসকল নারী পাবলিকলি পুরুষদের সাথে বেচাকেনা/লেনদেন করে, তাদেরকে সালাম প্রথমে দেওয়া জায়েজ, কারণ এখানে কণ্ঠ শোনার ফিতনার ব্যাপারটি নেই। যেমনটি এক নারী সবজি উৎপাদন করতেন, সাহাবীরা [রা] শুক্রবারে তার নিকট আসতেন, সালাম দিতেন এবং সবজি নিয়ে যেতেন।

  নারীদের চেহারা বিচারকার্যে দেখা জায়েজ। ইমাম আহমদ বলেছেন, কারও জন্যে উচিত হবে না কোণ নারীর বিপক্ষে সাক্ষি দেওয়া যদি না সে জানে ঐ নারী কে। তেমনি, স্বর্ণকার, যে সুতো কাটে এবং অন্যরা যারা নারীদের সাথে বাবসা করেন, তাদের জন্যে নারীদের চেহারা দেখা জায়েজ।

  এছাড়া বিয়ের জন্যে নারীদের চেহারা দেখা মাযহাব অনুসারে জায়েজ, আর জুমহুরের মত হচ্ছে এটি মুস্তাহাব। এই ব্যাপারে হাদিস আছে।

  তবে এসকল দেখা প্রবৃত্তি-র তাড়নায় হওয়া যাবে না।

  বাচ্চাদের প্রথমে সালাম দেওয়া উত্তম, কেননা এটি তাদেরকে শিখতে সাহায্য করে এবং বড়দের দম্ভ দূর করতে সহায়ক। আনাস ইবনে মালিক [রা] বাচ্চাদের সালাম দিতেন এবং বলতেন রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এমন করতেন।

  কোন ব্যক্তি বা জমায়েতে প্রবেশ করা এবং বের হবার সময়ে সালাম দেওয়া উত্তম বা মুস্তাহাব। এই ব্যাপারে হাদিস আছে। তবে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া অধিক জোরালোভাবে মুস্তাহাব।

(thehanbalimadhhab.com এর উস্তাদ আবুল কাসিম আল-মাদানির “ফুসুলুল আদাব” এর উপর দরস অবলম্বনে)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *