সুনান আল-ফিতরা-দলিলুত তলিব

সুন্নাহ হচ্ছে-

১। গুপ্তাংগ এবং বগলের পশম অপসারণ করা এবং নখ কাঁটা সুন্নাহ।

আবু হুরাইরা থেকে মারফু হাদিসে বর্ণিতঃ “ফিতরাহ হচ্ছে ৫টি। খাতনা করা, গুপাঙ্গের চুল অপসারণ করা, মোচ ছাঁটা এবং বগলের পশম অপসারণ করা।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

২। আয়না/প্রতিবিম্বের দিকে তাকানো, রাসুলুল্লাহ {সা} বলতেন, “হে আল্লাহ্‌, আপনি আমাকে (সর্ব)উত্তমভাবে সৃষ্টি করেছেন, আমার আখলাককেও (সর্ব)উত্তম করে দিন।” [বায়হাকি বর্ণনা করেছেন আইশা (রা) হতে]

৩। সুগন্ধি নেওয়া,ইবনে আবি আইয়ুব মারফুভাবে বর্ণনা করেছে, “রাসুলদের সুন্নাহ চারটি। হায়া, সুগন্ধি নেওয়া, মিসওয়াক এবং বিয়ে।” [ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন]

৪। প্রতি রাতে উভয় চোখে তিনবার কোহল নেওয়া।ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন, “নাবি {স) প্রত্যেক রাতে ঘুমানোর আগে ইসমিদ কোহল নিতেন”। [আহমদ] ইবনে কুদামাহ আল-মুগনিতে বলেছেন, “কোহল বেজোড়সংখ্যকবার নেওয়া মুস্তাহাব।”

৫। মোচ ছাঁটা এবং দাঁড়ি ছেড়ে দেওয়া।

দাঁড়ি মুণ্ডন/শেভ করা হারাম। এক মুষ্টির বাড়তি অংশ ছাঁটতে সমস্যা নেই। ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেছেন, “মুশরিকদের বিরোধিতা করো এবং মোচ ছোট করো এবং দাঁড়ি পূর্ণ/বড় করো। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

মোচ ছাঁটার ব্যাপারে শাইখ জন স্টারলিং বলেছেন, “মাযহাবে এই ব্যাপারে দুটো কথা এসেছে। একটি হচ্ছে, এমনভাবে ছাঁটা যাতে মোচ ঠোঁটের উপরে চলে না আসে। আরেকটি হচ্ছে খুব ছোট করে রাখা, তবে শেভ না করা। এটাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।”

দাঁড়ি মুণ্ডন পুরুষের জন্যে হারাম। ফুরুতে এসেছে, এটা শাইখ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়ার মত। শাইখ ইউসুফ বলেছেন, শাইখুল ইসলামের মত এখানে মুতামাদ।এক মুষ্টির বাড়তি অংশ ছাঁটার ব্যাপারে হজ এবং উমরাহতে ইবনে উমর (রা) এর কর্ম পাওয়া যায়। [বুখারি]

এক মুষ্টির চেয়ে বড় রাখাঃ “দাঁড়ি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া মুস্তাহাব, যদি না এর দৈর্ঘ্য অত্যধিক বড় হয়ে অপ্রীতিকর হয়ে যায়।” (কাশাফ আল-মুখাদারাত- শাইখ জন সটারলিং)

এক মুষ্টির নিচে ছাঁটার ব্যাপারে শাইখ ইউসুফ বলেছেন, মুতামাদ কিতাবে এই ব্যাপারে হুকুম কি হবে আসেনি। শারহুল ওয়াজিযে এসেছে, এটা মাকরুহ।

ওয়াজিব হলোঃ

নারী এবং পুরুষের জন্যে খাতনা করা। বালিগ হলে এটা ওয়াজিব হয়, এর আগে করা উত্তম। রওদুল মুরবিতে এসেছেঃ “যদি না সে নিজের উপর ক্ষতির আশঙ্কা করে।”

শাইখ জন স্টারলিং বলেছেন, “খাতনা হচ্ছে কোনো পুরুষের লিংগত্বক অপসারণ করা। মেয়েদের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে মোরগের লাল ঝুঁটির মত অতিরিক্ত ত্বক অপসারণ করা, পুরো অপসারণ না করা মুস্তাহাব। স্বাস্থ্যঝুঁকি খুব বেশি হলে ওয়াজিব থাকবে না। যৌনাঙ্গহানি হারাম। কারও নারী এবং পুরুষ উভয় অঙ্গ দৃশ্যমান হলে উভয়েই খাতনা ওয়াজিব হবে।” মাযহাবে আরেকটি মত রয়েছে, এটা নারীদের জন্যে ওয়াজিব না। অনেক হাম্বলি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, দেখুন আল-মুগনি (১/৬৪) এবং আল-ইনসাফ (১/১২৪)। [Footnote from the Supplement of The Seekers of Certitude, Translated by Musa Furber]

শাইখ ইউসুফ বলেছেন, দ্বিতীয় মত অনুসরণ করা যাবে কেননা কিছু হাম্বলি আলিম এটাকে মুতামাদ মনে করেছেন। [মূল মুতামাদ ওয়াজিব]

শাইখ মুযাম্মিল আহমদ বলেছেন, “…তবে কিছু আধুনিক হাম্বলি আলিম বলেছেন এটা এমন সমাজে করা উচিৎ নয় যেখানে ব্যাপারটা কমন নয়, অথবা ঠিকভাবে চর্চা করা হয় না। কারণ মানুষ চরম পর্যায়ে চলে যাবে এবং তাদের মেয়েদের যৌনাঙ্গহানি করে বসবে, যেটা পুরোপুরি হারাম।”

[মূল টেক্সটঃ দলিলুত তলিব, আয়াত/হাদিসঃ মানার আস-সাবিল]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *