হাম্বলিদের মুতামাদ/নির্ভরযোগ্য মাস’আলা যেগুলোকে কেউ কেউ বিদআত মনে করেন- ১

শাইখ ড. ফারিস বিন ফালিহ আল-খাযরাজি

হাম্বলিদের মতে, সালাতের পরে উচ্চস্বরে যিকর মুস্তাহাব। সালাতের পরে যিকর আস্তে করা হবে এবং জোরে করা হলে সেটা বিদআত হবে- এটা হাম্বলি মাযহাবের মত হিসেবে পরিচিত। তবে মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হচ্ছে, সালাতের পরে ইমাম এবং অনুসারি উভয়রের দ্বারাই জোরে যিকর করা মুস্তাহাব, যাতে মসজিদের ভেতর-বাহির উভয় স্থান থেকেই শোনা যায়।

হানবাল বলেছেন, “আমি আবু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, “আলি বিন সাবিত আমাদের বলেছেন যে ওয়াসল বলেছেন, “যখন আমি আলি বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে সালাত পড়তে দেখেছি, তিনি তিনটি তাকবীর জোরে বলতেন।”

আমি আহমদ কে জিজ্ঞেস করলাম, “সালাতের পর?” তিনি উত্তর দিলেন, “এইভাবে”। এরপর আমি তাকে ইবনে আব্বাস হতে মা’বাদ হতে আমরের হাদিস “আমরা রাসুলুল্লাহর [সা] তাকবির দ্বারা তাঁর সালাত কখন শেষ হয়েছে বুঝতে পারতাম।” বলে জিজ্ঞেস করলাম, “তাঁরা কি এখান থেকে নিয়েছে?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইবনে রজব, ফতহুল বারি, ৭/৩৯৬)

কাযি আবু ইয়ালা বলেছে, ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকে যাহির হচ্ছে সালাতের পরে জোরে যিকর এবং সালাত- যা মুক্তাদিগণ শুনতে পারে- ইমামের জন্যে মুস্তাহাব। এর বাইরে আর কিছু না। (আল-জামিউল কবির)ইমাম আহমদ থেকে অন্যান্য কওল এসেছে যেগুলো নির্দেশ করে যে তিনি কিছু যিকর জোরে পড়তেন। দুআ আস্তে পড়তেন। এটা আরও বেশি যাহির (প্রকাশ্য/স্পষ্ট)।

এটা শুধু ইমামের জন্যেই খাস নয়, কেননা ইবনে আব্বাসের হাদিসের যাহির সালাতে অনুসারিদের জন্যেও জোরে পড়াকে ইঙ্গিত করে। আল-মুওয়াফফাকও (ইবনে কুদামাহ) তাঁর আল-কাফি গ্রন্থে অনুরুপ উল্লেখ করেছেন।

ইমাম বুহুতি বর্ণনা করেছেন, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এটা জোরে বলাকে উত্তম/মুস্তাহাব বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ “সালাতের পর তাসবিহ, তাহমিদ এবং তাকবির জোরে পড়া মুস্তাহাব।” (কাশশাফ আল-কিনা, ১/৩৬৬)

অতএব, এই মাসআলায় মাযহাবের নামে প্রচলিত মত এবং মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মতের পার্থক্য প্রতীয়মান হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *