হাম্বলি উসুলের কিতাব- শাইখ ফারিস ফালিহ

“উসুলুল ফিকহের উপর প্রত্যেক মাযহাবেরই কিতাবাদি বিদ্যমান, যেগুলো সংশ্লিষ্ট মাযহাবগুলোর ফকিহগণ রচনা করেছেন। বিষয়টি সুবিদিত। যেহেতু হাম্বলি মাযহাবও [সর্বজনস্বীকৃত] চার মাযহাবের একটি, এই মাযহাবেরও নিজস্ব উসুল রয়েছে এবং নিজস্ব কিতাবাদিও আছে। যদিও সামগ্রিক বিচারে হাম্বলি মাযহাবের উসুল মুতাকাল্লিমিনদের ধারা অনুসরণ করে। আর যারা বলে, [উসুলুল ফিকহে] হাম্বলিদের নিজস্ব যথেষ্ট কিতাবাদি নেই, তারা ভুল বলে। বরং এই বিষয়ে ত্রিশটির কাছাকাছি লেখনী পাওয়া যাবে, এবং আরো কিছু এখনও অপ্রকাশিত।

হাম্বলি আলিমগণ উসুলের ক্ষেত্রে মূল উৎস হিসেবে নিচের বইগুলোকে বিবেচনা করেন:

১। তাহযিবুল আজওয়িবাহ: আল-হাসান বিন হামিদ আল-বাগদাদি আল-হানবালি (৪০৩হি)

২। রিসালাহ ফি উসুলিল ফিকহ: আবু আলি আল-হাসান বিন শিহাব আল-আবকারি (৪২৮হি)

৩। আল-উদ্দাহ ফি উসুলিল ফিকহ: আল-কাদি আবু ইয়ালা (৪৫৮হি)

৪। আত-তামহিদ ফি উসুলিল ফিকহ: আবুল খাত্তাব আল-কালওয়াযানি (৫১০হি)

৫। আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ: আবুল ওয়াফা ইবনু আকিল (৫১৩হি)

৬। রাওদাতুন নাযির: আল-মুওয়াফফাক ইবনু কুদামা (৬২০হি)

তাদের পরবর্তী হাম্বলিগণ সংক্ষিপ্ত বা বিস্তৃত আকারে যা কিছুই রচনা করেছেন, তার সবই এই উৎসগুলোর দিকে ফেরত আসে।

এভাবেই চলতে থাকে আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন মুফলিহর (রাহিমাহুল্লাহ) সময়কাল পর্যন্ত। তিনি তার “উসুলুল ফিকহ” বইটি লেখার পর থেকে অধিকাংশ ফকিহগণ এটিকেই তাদের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। যেমন:

১। আত-তাযকিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ: আবদুল গনি আল-মাকদিসি (৭৭২হি)

২। আত-তাহরির আল-মানকুল ওয়া তাহযিব ইলমিল উসুল; এবং এর ব্যাখ্যা আত-তাহবির: আলাউদ্দিন আল-মারদাওয়ি (৮৮৫হি)

৩। মুখতাসার আত-তাহরির ফি উসুলিল ফিকহ এবং এর ব্যাখ্যা শারহুল কাওকাব আল-মুনির: ইবনুন নাজ্জার আল-ফুতুহি (৯৭২হি)।”

– – – শাইখ ড. ফারিস বিন ফালিহ আল-খাযরাজি আল-হানবালি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *