হাম্বলি মাযহাবে ছবি আঁকার হুকুম

প্রশ্নঃ হাম্বলি মাযহাবে ছবি আঁকার বিধান কি?

উত্তরঃ ভাস্কর্য এবং হাতে আঁকা প্রাণীর ছবি- উভয়েই যদি প্রাণীর আসল রূপের অনুকরণ হয়, তাহলে তা হারাম। তবে কিছু এক্সেপশন আছে, যেমনঃ

তবে এই ছবি যদি আংশিক হয়, তাহলে মাযহাবে তা জায়েজ। যেমন, শুধু মাথার ছবি, অথবা শুধু মাথা ব্যতীত শরীরের বাকি অংশের ছবি ইত্যাদি। অর্থাৎ ছবিটি এমনভাবে “আংশিক” হতে হবে যে, যদি এটিকে বাস্তব রুপ প্রদান করা হয়- সে অবস্থায় তার মধ্যে আর প্রাণ থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ, প্রাণীর শুধু মাথা বাস্তবে প্রাণযুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু একটা হাত কেটে ফেললেও সে বেঁচে থাকা সম্ভব। তাই প্রথমটি জায়েজ, দ্বিতীয়টি হারাম।

ইবনে কুদামাহ [র] বলেছেন-

ان قُطِع منہ مالا یبقی الحیوان بعد ذھابہ کصدرہ او بطنہ او جعل لہ رأس منفصل عن بدنہ لم یدخل تحت النھی لان الصورۃ لا تبقی بعد ذھابہ فھو کقطع الرأس و ان کان الذاھب یبقی الحیوان بعدہ کالعین والید والرِجل فھو صورۃ داخلۃ تحت النھی۔
المغنی و یلیہ الشرح الکبیر، ج ۸، ص ۱۱۲

“যদি ছবি থেকে কিছু অপসারণ করা হয় এবং সেই অংশ অপসারণের পর প্রাণী আর বাঁচতে পারে না, যেমন বুক অথবা পেট- তাহলে এই ধরণের ছবি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না কেননা এগুলো অপসারণের পর ছবি আর অস্তিত্বশীল থাকে না এবং এটি মাথা কেটে ফেলার মত। যদি কোন অংশ অপসারণের পরও সেই প্রাণী অস্তিত্বশীল থাকে, যেমন- চোখ, হাত বা পা, তাহলে এই ছবি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।”

[আল-মুগনি]

শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-আযহারি বলেছেন-

“অধিকাংশ আলিমগণ এগুলোকে জায়েজ-ও বলেন যদি তা হতে এমন কিছু অপসারণ করা হয় যা ছাড়া জীবন থাকে না [সম্ভব হয় না], যেমন- শরীর ছাড়া একটি মাথা অথবা শুধু মাথা ও গলা ইত্যাদি ইত্যাদি।”

উস্তাদ মাজেদ যাররার বলেছেন-

“যদি এটি পূর্ণ শরীর না হয়, তাহলে এটি জায়েজ হবার ব্যাপারে [মাযহাবে] বিতর্ক নেই। নিষেধাজ্ঞার শর্ত হচ্ছে এই ছবিকে বাস্তব রুপ প্রদান করা হলে সেটা জীবিত হবে বা থাকবে। [তাই, মাযহাবে শরীরের উপরের অংশ অথবা মাথার পোট্রেট হারাম নয়]।” এই ব্যাপারে ইমাম বুহুতির বক্তব্য আছে।”

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আলুশ শাইখের বলেছেনঃ

“إذا كانت الصورة غير كاملة من أصلها كتصوير الوجه والرأس والصدر ونحو ذلك وأزيل من الصورة ما لا تبقى معه الحياة فمقتضى كلام كثير من الفقهاء إجازته ، لا سيما إذا دعت الحاجة إلى هذا النوع وهو التصوير البعضي ، وعلى كل فإن على العبد تقوى الله ما استطاع ، واجتناب ما نهى الله ورسوله عنه ، (ومن يتق الله يجعل له مخرجاً ويرزقه من حيث لا يحتسب) الطلاق/2-3” انتهى من “فتاوى الشيخ محمد بن إبراهيم” (1/167) “

এছাড়া শাইখ ইউসুফ বিন সাদিকের মতে যেসকল ছবি কোন বাস্তব প্রাণীর সত্যিকারের অনুকরণ করা হয় না, যেমন বলা যায়- টেডি বিয়ার বা খেলনা ভাল্লুক- এটি বাস্তব ভাল্লুক থেকে অনেক আলাদা- এগুলোও নিষিদ্ধ ছবির মধ্যে পড়বে না।

[একাধিক উত্তরের সমন্বয়ে তৈরি]

উত্তরদাতাঃ শাইখ ইউসুফ বিন সাদিক আল-হাম্বলি, শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-আযহারি, উস্তাদ মাজেদ জাররার, শাইখ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আলুশ শাইখ [সংকলন]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *