হাম্বলি মাযহাবে ফটোগ্রাফির বিধান

শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-আযহারি বলেন-

“যখন “ফটোগ্রাফি” জিনিসটা প্রথম প্রথম আসলো, তখনকার সাম্প্রতিক আলিমরা এর জায়েজ হবার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। মাযহাবগুলোর আলিমগণের বড় একটি দল এটিকে জায়েজ বলেন, যেমন, ইবনে বাদরান আল-হাম্বলি [র], বাখিত আল-মুতি আল হানাফি [র] এবং অন্যান্য আলিমগণ। এই মতটি ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে, অন্যান্য আলিমগণ এটিকে হারাম বলেন এবং এই মতটি সালাফিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তাদের আলিমগণের মধ্যেও এই মতটিই অধিক প্রচলিত ছিল। তবুও, এমনকি সালাফিদের মধ্যেও কিছু বড় আলিমগণ একে জায়েজ বলেন, যেমন- ইবনে উসাইমিন [র]।

এখনকার দিনে এই ব্যাপারের দ্বিমতের অস্তিত্ব অনেকটাই চলে গিয়েছে, এবং বর্তমানের বেশিরভাগ আলিম একে হয় জায়েজ বলেন অথবা তা ছাড়া আর তাদের উপায় থাকে না- সামান্য কিছু আলিম বাদে।

আমরা এই ব্যাপারটির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে এগোতে পারি- যা একেবারেই ভ্রান্তি এবং ফলাফল যাই-ই হোক এটি হারামই হবে- তা হচ্ছে ফটোগ্রাফিকেকে এই কারণে হারাম বলা কারণ এটিকে “সুরাহ” বলা হয়, এবং তাই [কুর’আন সুন্নাহর] নসে যে শাস্তি এবং অভিশাপের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ফটোগ্রাফির উপরও প্রযোজ্যও হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্কার নসের ভিত্তিতে এটাও হারাম হয়ে যাবে। কোন আলিমই এরুপ বলবেন না, যিনি জানেন যে কিভাবে তার রবের পক্ষ থেকে বলতে হয় [অর্থাৎ যিনি জানেন কিভাবে শারই আহকাম উদ্ভুত করতে হয়]। এই ব্যাপারটি হচ্ছে একবারে وجاءت سيارة فأرسلوا واردهم আয়াতটির سيارة শব্দটিকে “গাড়ি” বলে ব্যাখ্যা করার মত! অথবা আর্টিফিশিয়াল সিল্ককে হারাম বলা কারণ এটিকে “সিল্ক” নামে ডাকা হয়! এটা হচ্ছে অশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণহীন মানুষদের দৃষ্টিকোণ।

আবার আমরা এই ব্যাপারটির সাথে সম্মানজনক এবং বিচক্ষণতার সাথেও এগোতে পারি-তাতে ফলাফল যা-ই আসুক, সেটা হচ্ছে- ফটোগ্রাফিক ছবির সাথে হয় নসে বর্ণিত তাসউইরের মধ্যে সামঞ্জস্য বের করা, অথবা আয়না অথবা পানির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা- যে দুটোই [আয়না ও পানির প্রতিবিম্ব] ইজমা অনুসারে জায়েজ।

তাই, যারা মুল ব্যাপার, অর্থাৎ [হাদিসের] তাসউইর-এর সাথে নতুন ব্যাপার, অর্থাৎ ফটোগ্রাফিক ছবির মধ্যে পার্থক্য দেখেননি এবং এই ছবির সাথে পানি এবং আয়নার কিয়াসকে সঠিক মনে করেননি- তাঁরা একে হারাম বলেছেন।

আর যারা ফটোগ্রাফিক ছবি এবং [হাদিসের] তাসউইরের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য দেখেছেন এবং এই ছবিগুলোকে আয়না এবং পানির [প্রতিবিম্বের] অধিক কাছাকাছি মনে করেছেন- তাঁরা এই ধরণের ছবিকে জায়েজ বলেন, এবং আমিও এই মতই সমর্থন করি।”

শাইখ ইউসুফ বিন সাদিকও একইভাবে বলেছেন ফটোগ্রাফিক ছবি জায়েজ কেননা এগুলো সৃষ্টির রিফ্লেকশন বা প্রতিবিম্ব।

দি হাম্বলি মাযহাব [ইংলিশ] পেইজ থেকে বলেছে-

“আমাদের হাম্বলি মাশায়েখরা বলেছেন- মডার্ন ফটোগ্রাফি হারাম নয় কেননা আপনি নতুন ছবি তৈরি করছেন না, বরং আল্লাহ্‌ যা সৃষ্টি করেছেন সেটার প্রতিবিম্ব নিচ্ছেন। এটা ছিল শাইখ ইবনে বাদরান আল-হাম্বলির অবস্থান। তা সত্ত্বেও, ফটোগ্রাফের ব্যবহার হ্রাস করা উত্তম যদি না সেটার উত্তম কোন কারণ থাকে, কারণ কিছু সাম্প্রতিক আলিমগণ ফটোগ্রাফি হারাম হবার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমন- শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে আকিল [র]। তবে, আমাদের মাশায়েখরা বলেন প্রথম মতটিই মাযহাবের নিকটবর্তী মত।”

পরিশিষ্টঃ ফটোগ্রাফিসহ ছবি আঁকার কিছু মাস’আলায় অন্য মাযহাবের বা আলিমের সাথে কিছু ইখতিলাফ বিদ্যমান। তাই উত্তম কারণ না সেই ক্ষেত্রগুলোতে থাকলে এভয়েড করা বা হ্রাস করাই উত্তম ইনশা আল্লাহ্‌।

আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

উত্তরদাতাঃ শাইখ আব্দুল ওয়াহিদ আল-আযহারি, শাইখ ইউসুফ বিন সাদিক আল-হাম্বলি [সংকলন]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *