হারাম বা বিদআত : হাম্বালী অবস্থান – মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট ইয়া-সিন তেলাওয়াত

মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট ইয়া-সিন তেলাওয়াত করা বিদআত — এই মতটা ঢালাওভাবে হাম্বালীদের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। যদিও ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং মাযহাবের আলিমদের মত হলো, এটা মুস্তাহাব।

আল-মুয়াফফাক আল-মুগনিতে, জানাযা অধ্যায়ে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে তেলাওয়াত করবে, তেলাওয়াতের দ্বারা তাঁর থেকে (রুহ বের হওয়া) সহজ হওয়ার জন্য। ইয়া-সিন তেলাওয়াত করবে এবং ফাতিহা তেলাওয়াতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন ফারজ বিন ফাদালা, তিনি আসাদ বিন ওয়াদাআ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন গুদাইফ বিন হারিস মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলেন, তাঁর ভাইয়েরা উপস্থিত হলেন। একজন বলেন, “তোমাদের মধ্যে কি কেউ সুরা ইসা-সিন তেলাওয়াত করতে পারে?” তাদের মধ্যকার একজন বলেন, “হ্যাঁ।” সে বলে, “পড়ো-তেলাওয়াত করো, বাকীরা শোন।” তাই সে পড়ল-তেলাওয়াত করল এবং বাকীরা শোনল। যখন সে এই আয়াতে পৌঁছাল, “অতএব পবিত্র ও মহান তিনি, যাঁর হাতেই প্রত্যেক বিষয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব; আর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবৃত্ত হবে”, তাঁর নাফস দেহ ত্যাগ করে।

আসাদ বিন ওয়াদা‘আহ বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে মুমূর্ষু ব্যক্তিকে দেখতে যাবে এবং যখন মৃত্যু সন্নিকটে হবে, তাঁরা তাদের নিকট ইয়া সিন তেলাওয়াত করবে, নিশ্চয় এটা তাকে মৃত্যু থেকে হালকা করবে। [নাফস বের হওয়া সহজ হবে]। ”.

আত-তাকি ইবন তাইমিয়্যা, আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন, এটা মুস্তাহাব হওয়ার মত পোষণ করতেন। তিনি বলেন,

মৃতের নিকট মৃত্যুর পর তেলাওয়াত করা বিদআত, যা মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট তেলাওয়াত করার বিপরীত। এতে ইয়া-সিন তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব।

— আল-ইখতিয়ারাত, পৃ. ৯১

ইমাম আল-মারদাওয়ী বলেন,

তাঁর কথা,“তাঁর নিকট ইয়া-সিন তেলাওয়াত করবে” এটা আসহাব বলেছেন। একইভাবে, তাঁর নিকটে ফাতিহা তেলাওয়াত করবে। এগুলোর ক্ষেত্রে নস আছে। অধিকাংশ আলিমই এই মতের উপর। বলা হয়েছে, তাঁর নিকট তাবারাকও তিলাওয়াত করবে— এটা আল-মুস্তাাওয়ীবে সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

— আল-ইনসাফ, ভ. ০২, পৃ. ৪৬৫

ইমাম আল-বুহুতি বলেছেন,

“তাঁর অর্থাৎ মুমূর্ষুের নিকট ফাতিহা এবং ইয়া-সিন তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব। এই হাদিসের উপর নির্ভর করে, “মুমূর্ষুর নিকট ইয়া-সিন তেলাওয়াত করো”, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইবন হিব্বান সহীহ বলেছেন। কারণ এটা তাঁর রুহ বের হওয়াকে সহজ করবে।”

— দাক্বাইকু উলিউন নুহা, ভ. ০২ পৃ. ৭৩

মূলঃ শাইখ ড. ফারিস ফালিহ আল-খাযরাজি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *