হালাল-হারাম খাবার ও পানীয়

খাদ্যে আসল (ডিফল্ট) হচ্ছে হালাল। তাই হারাম হবার পক্ষে দলিল না থাকলে সেটা হালাল হিসেবে বিবেচ্য হবে।

সাধারণ খাদ্যে দুটো বিষয় না থাকলে জায়েজঃ

  • নাজিস বা অপবিত্র হলে। [যেমনঃ রক্ত বা শরিয়া অনুসারে জবাই করা হয়নাই এমন মৃত পশু]
  • ক্ষতি থাকলে। [যেমনঃ বিষ]

যেসকল প্রাণী খাওয়া হারামঃ

  • গৃহপালিত গাধা
  • হায়েনা ব্যতীত শিকারি দাঁতযুক্ত, যেমনঃ সিংহ, বিড়াল, শিয়াল, হাতি, শুকর, ভাল্লুক ইত্যাদি।
  • শিকারি নখবিশিষ্ট পাখি, যেমন ঈগল, বাজপাখি ইত্যাদি।
  • মৃতদেহ খায় এমন পাখি, যেমনঃ শকুন
  • <আরবরা> যেগুলোকে নোংরা মনে করে, যেমনঃ ইঁদুর, সাপ, সকল ধরণের পোকা ইত্যাদি (ফড়িং বাদে)।
  • হালাল এবং হারাম প্রাণীর বাচ্চা, যেমনঃ খচ্চর।

আরবরা যেগুলোর ব্যাপারে জানে না এবং শরিয়তে নির্দিষ্টভাবে বলা নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাদৃশ্যমূলক কিছুর সাথে তুলনা করা হবে। যদি নতুন প্রাণীটি দুটো জিনিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, যার একটি হালাল এবং একটি হারাম, তাহলে হারামকে প্রাধান্য দিয়ে সেটা হারাম বিবেচ্য হবে।

পনির, ভিনেগার ইত্যাদিতে পোকা সেগুলোর সাথে খাওয়া যাবে, তবে আলাদাভাবে পোকা খাওয়া যাবে না।

হালাল প্রাণীঃ

হারাম বাদে বাকি সব প্রাণী জায়েজ। যেমনঃ গৃহপালিত প্রাণী যেমন, ছাগল, ভেড়া গরু এবং ঘোড়া, উটপাখি, খরগোশ, বন্য গাধা, বন্য গরু এবং অন্যান্য বন্য পশু (যেমনঃ জেব্রা, তোতাপাখি, ময়ুর ইত্যাদি)।

সামুদ্রিক প্রাণীর বিধানঃ

সকল সামুদ্রিক প্রাণী হালাল, ব্যাঙ, কুমির এবং সাপ বাদে।

  • কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ “তোমাদের জন্যে সমুদ্র থেকে শিকার হালাল।” (৫ঃ৯৬) ব্যাঙ এবং সাপ নোংরা (مستخبثة), আর কুমিরের বড় দাঁত আছে যার মাধ্যমে শিকার করে, তাই এগুলো হারাম। (রওদুল মুরবি)
    • শাইখ ইবনে আকিল বলেছেনঃ “এটাই মাযহাব। ইমাম আহমদ থেকে আরেকটি মত বর্ণিত হয়েছে যে সকল সামুদ্রিক প্রাণীই হালাল কোনোটি বাদ ছাড়া। আমাদের শাইখ ইবনে সাদি এটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।” (তাহকিকুল মুরাদ ফি শারহি মতন আল-যাদ)

যে প্রাণীর মূল খাবার নাজিস বস্তু, তাকে (এর ডিম এবং দুধও) খাওয়া হালাল নয়, যদিনা একে তিনদিন আলাদা করে হালাল খাবার খাইয়ে নেওয়া হয়।

যরুরতঃ

মৃত্যুর ভয় করলে অ-বিষাক্ত হারাম খাবার খাওয়া জায়েজ, যদিনা ব্যক্তি হারাম সফরে থাকে।

যে ব্যক্তি কোনো বাগানের পাশ দিয়ে যায় যে বাগানে বেড়া বা দারোয়ান নেই, সে সেখান থেকে খেতে পারবে, তবে কিছু নিয়ে যেতে পারবে না। তবে সে প্রয়োজন ছাড়া গাছ বেয়ে উঠতে পারবে না, বা ঢিল মারতে পারবে না, বা তুলে রাখা ফল থেকে খেতে পারবে না।

পানিয়ের হুকুমঃ

সকল পানীয় জায়েজ, যদি নাঃ

  • নেশা সৃষ্টি করে
    • যে উৎস থেকেই আসুক। কম পরিমাণে হোক বা বেশি। এগুলো নাজিসও।
    • খামর (মদ) যদি নিজে নিজে প্রাকৃতিকভাবে ভিনেগার হয়, তাহলে পবিত্র এবং খাওয়া জায়েজ। তবে মানুষ যদি কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে ভিনেগারে রুপান্তরিত করে, তাহলে নাজিস এবং খাওয়া জায়েজ না।
      • সব অ্যালকোহল নাজিস না। বৈজ্ঞানিক ভাষায়, Organic Compound-এ (OH-) আয়ন থাকলেই সেটাকে অ্যালকোহল বলা হয়। শুধু যে অ্যালকোহল নেশার উদ্রেক ঘটায়, সেগুলো হারাম এবং নাজিস।
  • নেশা সৃষ্টি করে না কিন্তু নাজিস [১]
  • ক্ষতি করে

[১] ফিকহিভাবে সকল পবিত্র বা তাহির বস্তুই কি খাওয়া জায়েজ?

নাহ। শাইখ কুআইমি (হা) বলেছেন,

“হাম্বলিদের মত হচ্ছে, যেসকল পশু আমাদের জন্যে খাওয়া জায়েজ, সেগুলোর মল এবং মুত্র পবিত্র। তবে, তাদের হতে পরিস্কার নসের মাধ্যমে [স্বয়ং ইমাম আহমদ হতেই] প্রতিষ্ঠিত যে, যরুরত ছাড়া এসকল পশুর মল কিংবা মুত্র খাওয়া হারাম, কেননা এগুলো নোংরা। অতএব, যরুরত ছাড়া উটের মুত্র খাওয়া হারাম।”


সুত্রঃ

যাদুল মুস্তাকনি, ইমাম আল-হাজ্জাউই

শারহুল উমদাহ, শাইখ হাতেম আল হাজ

তাহকিকুল মুরাদ ফি শারহি মতন আল-যাদ, শাইখ ইবনে আকিল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *